ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

সম্মতি ছাড়া চিঠি , পদ হারালেন জামায়াত আমিরের উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সম্মতি ছাড়াই তার দপ্তর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর ঘটনায় তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দলের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে এ পদে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকে নতুন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে আসার পর বিভ্রান্তি দূর করতে দলের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। ঘটনাটি প্রায় দুই সপ্তাহ আগের, যখন অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি চিঠি পাঠানোর বিষয়টি জামায়াত আমিরকে অবহিত করলেও সেটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। পরে যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, চিঠির প্রকৃত বিষয়বস্তুর সঙ্গে তাকে যেভাবে ব্রিফ করা হয়েছিল তার মিল নেই। বিশেষ করে চিঠিতে উল্লেখিত ‘মন্ত্রীর পদমর্যাদা’ চাওয়ার বিষয়ে জামায়াত আমিরের কোনো সম্মতি ছিল না।

বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পরপরই ডা. শফিকুর রহমান মাহমুদুল হাসানকে ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন এবং তার স্থলে ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকে নতুন উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ভুল-বোঝাবুঝি দূর করতে দলের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হয় এবং তাকে জানানো হয় যে, চিঠির বিষয়ে জামায়াত আমির অবগত ছিলেন না। পাশাপাশি আগের উপদেষ্টাকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন উপদেষ্টা নিয়োগের বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়, দলটি দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক আচরণে বিশ্বাসী। কোনো বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলে তা দ্রুত সংশোধনের নীতিতে তারা অটল।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক সদস্য জানান, চাকরির সুপারিশের কথা বলে মাহমুদুল হাসান ওই চিঠিতে জামায়াত আমিরের স্বাক্ষর নেন। বিষয়টি পরে ধরা পড়লে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ‘মন্ত্রীর পদমর্যাদা’ চাওয়ার বিষয়ে জামায়াত আমিরের কোনো সম্মতি ছিল না বলেও তিনি দাবি করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সম্মতি ছাড়া চিঠি , পদ হারালেন জামায়াত আমিরের উপদেষ্টা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সম্মতি ছাড়াই তার দপ্তর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর ঘটনায় তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দলের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে এ পদে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকে নতুন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে আসার পর বিভ্রান্তি দূর করতে দলের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। ঘটনাটি প্রায় দুই সপ্তাহ আগের, যখন অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি চিঠি পাঠানোর বিষয়টি জামায়াত আমিরকে অবহিত করলেও সেটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। পরে যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, চিঠির প্রকৃত বিষয়বস্তুর সঙ্গে তাকে যেভাবে ব্রিফ করা হয়েছিল তার মিল নেই। বিশেষ করে চিঠিতে উল্লেখিত ‘মন্ত্রীর পদমর্যাদা’ চাওয়ার বিষয়ে জামায়াত আমিরের কোনো সম্মতি ছিল না।

বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পরপরই ডা. শফিকুর রহমান মাহমুদুল হাসানকে ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন এবং তার স্থলে ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকে নতুন উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ভুল-বোঝাবুঝি দূর করতে দলের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হয় এবং তাকে জানানো হয় যে, চিঠির বিষয়ে জামায়াত আমির অবগত ছিলেন না। পাশাপাশি আগের উপদেষ্টাকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন উপদেষ্টা নিয়োগের বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়, দলটি দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক আচরণে বিশ্বাসী। কোনো বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলে তা দ্রুত সংশোধনের নীতিতে তারা অটল।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক সদস্য জানান, চাকরির সুপারিশের কথা বলে মাহমুদুল হাসান ওই চিঠিতে জামায়াত আমিরের স্বাক্ষর নেন। বিষয়টি পরে ধরা পড়লে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ‘মন্ত্রীর পদমর্যাদা’ চাওয়ার বিষয়ে জামায়াত আমিরের কোনো সম্মতি ছিল না বলেও তিনি দাবি করেন।