অনলাইনে মানব কঙ্কাল বিক্রি করতেন ডেন্টালের দুই শিক্ষার্থী
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:১২:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
কয়েক বছর ধরে কলেজ শিক্ষার্থীদের কাছে এবং অনলাইনে নিজেদের গ্রুপের মাধ্যমে কঙ্কাল বিক্রি করছিলেন মো. ফয়সাল আহম্মেদ (২৬) ও কাজী জহুরুল ইসলাম ওরফে সৌমিক (২৫)। এ কাজে জড়িত ছিলেন প্রায় সাতজনের একটি সক্রিয় চক্র। তারা কবর থেকে চুরি করে এসব কঙ্কাল সংগ্রহ করতেন এবং বিক্রি করতেন।

সোমবার (৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের মণিপুরীপাড়া, তেজগাঁও কলেজ ও উত্তরা এলাকা থেকে ফয়সাল, সৌমিকসহ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪৭টি মাথার খুলি ও বিপুল পরিমাণ মানবদেহের হাড় উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তেজগাঁও বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইবনে মিজান এসব তথ্য জানান।
ডিসি ইবনে মিজান বলেন, রমজানের শুরু থেকে বিশেষ অভিযান চলছিল। গতকাল রাতে তেজগাঁও থানার পুলিশ জানতে পারে মণিপুরীপাড়ার একটি স্থানে মানব কঙ্কাল বিক্রির চেষ্টা হচ্ছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করলে তার হেফাজত থেকে একটি কঙ্কাল জব্দ হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া যায় এবং পরে তেজগাঁও কলেজের সামনের অবস্থান থেকে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে সৌমিক সাপুরা ডেন্টাল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। অপরদিকে মো. আবুল কালামের (৩৯) বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে কঙ্কাল উত্তোলনের অভিযোগসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। আসাদুল মুন্সী (৩২)-এর বিরুদ্ধে দু’টি মামলা রয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে কাজ করে আসছে। উত্তরা পশ্চিম থানার সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ হোস্টেলের একটি কক্ষে আরও ৪৪টি মাথার খুলি ও মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ উদ্ধার করা হয়। এ সময় চক্রের মূল হোতা ফয়সাল আহম্মেদকেও আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সাল জানায়, ‘বোন্স সেলিং’ নামে একটি অনলাইন গ্রুপ রয়েছে, যেখানে ৭০০ জন কাজ করে এবং ২০ হাজার সদস্য রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে তারা কঙ্কাল বিক্রির সঙ্গে জড়িত। গ্রুপের মাধ্যমে তারা কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও জামালপুর অঞ্চলের কঙ্কাল সংগ্রহ করত এবং শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করত।
ডিসি ইবনে মিজান বলেন, মাঠপর্যায় তারা ৬–৮ হাজার টাকায় কঙ্কাল সংগ্রহ করে ১৫–২০ হাজার টাকায় বিক্রি করত। অরক্ষিত কবর থেকে কঙ্কাল উত্তোলন করত এবং পরে কেমিক্যালের মাধ্যমে প্রক্রিয়া করে শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করত।
গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়া হবে। জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের বাকি সদস্যদের নাম বের করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া কোনো পরিবার বা স্বজন অভিযোগ করলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে লাশ শনাক্তকরণের ব্যবস্থা করা হবে।


























