রকিবুল ইসলাম বকুল
মুখ বা দলীয় পরিচয় দেখে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়নি
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৫৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে
অতীতের মতো মুখ বা দলীয় পরিচয় দেখে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি।
তিনি বলেন, একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উপকারভোগীদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে কোনো ধরনের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) খুলনা মহানগরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী শরীয়তুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, অতি দরিদ্র, হতদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ—এই তিনটি শ্রেণিকে অগ্রাধিকার দিয়ে উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে পাইলট প্রকল্প হিসেবে সীমিতসংখ্যক মানুষকে এ কার্ড দেওয়া হচ্ছে। আগামী জুনে নতুন বাজেট ঘোষণার পর পূর্ণাঙ্গভাবে যোগ্য পরিবারগুলোকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা বাস্তবায়ন করে। সরকার গঠনের মাত্র ২৩ দিনের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হওয়া তার প্রমাণ। অনেকদিন ধরেই তারেক রহমান এই কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছিলেন এবং সুযোগ পেয়ে তা বাস্তবায়ন করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বকুল আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় কোনো বিষয় নয়। বিএনপি, জামায়াত, আওয়ামী লীগ বা কোনো দল না করা—সব ধরনের যোগ্য পরিবারই এ সুবিধা পাচ্ছে। তিনি দেশের উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে থেকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী খুলনার বন্ধ মিল-কলকারখানা চালু করে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি মাদক, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। প্রয়োজনে নিজ দলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোক্তার আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল হক, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ এবং খুলনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক অনিন্দিতা রায় জানান, খুলনা মহানগরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ৮ হাজার ৭টি পরিবারে জরিপ চালিয়ে ৪৯ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ৫ হাজার ২৭৫টি পরিবারের তথ্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ১৫৮ জন নারী ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছেন। উদ্বোধনী দিনে এক হাজার নারীর হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে এবং বাকিদের পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এটি শুধু একটি কার্ড নয়, বরং নারীদের পরিচয় ও ক্ষমতায়নের একটি উদ্যোগ। ভবিষ্যতে দেশের সব নারীর হাতেই এ কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে সাতজন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়। তারা হলেন ইসমত আরা, আসিয়া আক্তার, জাঁকিয়া সুলতানা, ফারজানা বৃষ্টি, মরিয়ম বেগম, তানজিলা খাতুন ও সানজিদা খাতুন।
























