ভবন নির্মাণে নতুন বিধিমালা: অকুপেন্সি সনদ ছাড়া মিলবে না বিদ্যুৎ-পানি
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে নতুন বিধিমালা কার্যকর করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভবন নির্মাণ শেষে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট (ব্যবহারযোগ্যতার সনদ) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই সনদ ছাড়া ভবনে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ পাওয়া যাবে না, এমনকি ভবন বা ফ্ল্যাট কেনাবেচাও করা যাবে না।
নকশা অনুমোদনে যুক্ত হলো নতুন শর্ত
আগে রাজধানীতে ভবন নির্মাণের জন্য মূলত স্থাপত্য নকশার অনুমোদন নিলেই কাজ শুরু করা যেত। কিন্তু নতুন বিধিমালায় শুধু স্থাপত্য নকশা নয়, স্ট্রাকচারাল, ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল নকশাসহ মোট পাঁচ ধরনের নকশা জমা দিয়ে অনুমোদন নিতে হবে।
রিয়াজুল ইসলাম জানান, এই নতুন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবনের কাঠামোগত স্থায়িত্ব, ভূমিকম্প সহনশীলতা এবং অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বাধ্যতামূলক অকুপেন্সি সার্টিফিকেট
ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার পর সেটি ব্যবহারের জন্য এখন অকুপেন্সি সার্টিফিকেট নিতে হবে। যদিও আগে এই নিয়ম ছিল, বাস্তবে তা কার্যকর করা যায়নি। নতুন বিধিমালায় এটিকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এই সনদে উল্লেখ থাকবে—
ভবনের কোন তলা কী কাজে ব্যবহার হবে
ভবনের নিরাপত্তা ও কাঠামোগত মান ঠিক আছে কি না
অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণ হয়েছে কি না
রাজউক চেয়ারম্যান জানান, “ভবন বা ফ্ল্যাট বেচাকেনা করতে এবং বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ নিতে এই সনদ অবশ্যই লাগবে।”
কেন এ পরিবর্তন
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকা শহরে বর্তমানে ২২ লাখের বেশি ভবন রয়েছে। অভিযোগ আছে, এর মধ্যে অধিকাংশ ভবন নির্মাণে পুরোপুরি বিধিমালা মানা হয়নি এবং প্রায় তিন লাখ ভবন অবৈধভাবে নির্মিত।
সম্প্রতি কয়েকটি দুর্ঘটনা ও ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার পরই নির্মাণ বিধিমালার দুর্বলতা সামনে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মত
নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান মনে করেন, নতুন বিধিমালা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে রাজধানীর ভবন নিরাপত্তা অনেকটাই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে তিনি বলেন, “শুধু আইন করলেই হবে না, বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।”
বাড়ছে অনুমোদন ফি
নতুন বিধিমালার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভবন নির্মাণের অনুমোদন ফি কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। এতে নির্মাণ ব্যয় কিছুটা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত নগরায়নের চাপে রাজধানীতে অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ দীর্ঘদিন ধরেই বড় সমস্যা। নতুন বিধিমালার মাধ্যমে নিরাপত্তা, পরিকল্পনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে আইন বাস্তবায়ন ও নিয়মিত তদারকির ওপর।





















