ঢাকা ১০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

তেল নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই, ৯ মার্চ আসছে দুই জাহাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৫৮:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে জ্বালানি তেলের ঘাটতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত তেলের মজুত রয়েছে এবং শিগগিরই তেলবাহী দুটি জাহাজ দেশে পৌঁছাবে।

শনিবার (৭ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, বাজারে কেউ অসাধু উপায়ে তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আগামীকাল থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, ৯ মার্চ দুটি তেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছাবে, যা সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হবে।

এদিকে রাজধানীর অনেক ফিলিং স্টেশনে অকটেন, পেট্রল ও ডিজেলের সংকট দেখা গেছে। শনিবার সকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন পাম্পে ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। যে কয়েকটি পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে এবং গ্রাহকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

পাম্প–সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অনেক গ্রাহক অতিরিক্ত তেল কিনে ট্যাংক পূর্ণ করে নেওয়ায় সরবরাহে সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ফিলিং স্টেশন থেকে যানবাহনে তেল সরবরাহে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার পর্যন্ত পেট্রল বা অকটেন নেওয়া যাবে।

এ ছাড়া এসইউভি ও মাইক্রোবাসে দিনে ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ বা লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যানে দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বিপিসি জানিয়েছে, দেশের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় মাঝে মাঝে বিঘ্ন ঘটছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেলের সংকট নিয়ে নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত তেল মজুত বা ‘প্যানিক বায়িং’ ঠেকাতে তেল বিক্রির সময় রসিদ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ডিলারদেরও ডিপো থেকে তেল নেওয়ার সময় আগের দিনের বিক্রি ও মজুতের তথ্য জমা দিতে হবে বলে জানিয়েছে বিপিসি।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমানে রেল ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে নিয়মিত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে এবং শিগগিরই পর্যাপ্ত ‘বাফার স্টক’ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এজন্য সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

তেল নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই, ৯ মার্চ আসছে দুই জাহাজ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৫৮:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

দেশে জ্বালানি তেলের ঘাটতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত তেলের মজুত রয়েছে এবং শিগগিরই তেলবাহী দুটি জাহাজ দেশে পৌঁছাবে।

শনিবার (৭ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, বাজারে কেউ অসাধু উপায়ে তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আগামীকাল থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, ৯ মার্চ দুটি তেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছাবে, যা সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হবে।

এদিকে রাজধানীর অনেক ফিলিং স্টেশনে অকটেন, পেট্রল ও ডিজেলের সংকট দেখা গেছে। শনিবার সকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন পাম্পে ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। যে কয়েকটি পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে এবং গ্রাহকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

পাম্প–সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অনেক গ্রাহক অতিরিক্ত তেল কিনে ট্যাংক পূর্ণ করে নেওয়ায় সরবরাহে সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ফিলিং স্টেশন থেকে যানবাহনে তেল সরবরাহে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার পর্যন্ত পেট্রল বা অকটেন নেওয়া যাবে।

এ ছাড়া এসইউভি ও মাইক্রোবাসে দিনে ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ বা লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যানে দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বিপিসি জানিয়েছে, দেশের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় মাঝে মাঝে বিঘ্ন ঘটছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেলের সংকট নিয়ে নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত তেল মজুত বা ‘প্যানিক বায়িং’ ঠেকাতে তেল বিক্রির সময় রসিদ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ডিলারদেরও ডিপো থেকে তেল নেওয়ার সময় আগের দিনের বিক্রি ও মজুতের তথ্য জমা দিতে হবে বলে জানিয়েছে বিপিসি।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমানে রেল ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে নিয়মিত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে এবং শিগগিরই পর্যাপ্ত ‘বাফার স্টক’ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এজন্য সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।