ঈদযাত্রায় যানজটের ঝুঁকি ২০৭ স্থানে, নাজুক দেড় হাজার কিলোমিটার সড়ক
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৫৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন ঈদুল ফিতর সামনে রেখে দেশের মহাসড়কগুলোতে বড় ধরনের যানজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উন্নয়ন ও সংস্কারকাজের কারণে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে ২০৭টি সম্ভাব্য যানজটপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করেছে মহাসড়ক পুলিশ। একই সঙ্গে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার মহাসড়ক নাজুক অবস্থায় থাকায় ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত মঙ্গলবার থেকে বাস ও ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সড়ক মন্ত্রণালয়ে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সরকার গুরুত্বপূর্ণ ২২টি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমন্বয় ও ধারাবাহিক তদারকি না থাকলে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা কঠিন হবে।
জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় ১৮ মাসে সড়ক ও মহাসড়কের অনেক সংস্কারকাজ ঝুলে পড়েছিল। ফলে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থমকে যায় এবং তার প্রভাব এখনো সড়ক ব্যবস্থায় রয়ে গেছে।
সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী Sheikh Robiul Alam বলেন, ঈদের আগে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বেন, যা সামাল দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি জানান, অবৈধ পার্কিং, অস্থায়ী দোকান ও ব্যাটারিচালিত যান নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বা বিকল যানবাহন সড়কে নামতে দেওয়া হবে না।
সড়ক খাতের বিশেষজ্ঞ Shamsul Hoque মনে করেন, ঈদযাত্রার আগে সংস্কারকাজ শেষ করার নির্দেশ থাকলেও সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে ফিটনেসবিহীন ও ছোট যানবাহনের বিশৃঙ্খল চলাচল। তিনি বলেন, যান চলাচল ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সমন্বিত তদারকি জরুরি।
অন্যদিকে মহাসড়ক পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক Md Delwar Hossain Miah জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে সাড়ে তিন হাজার পুলিশ সদস্য মহাসড়কে মোতায়েন করা হয়েছে।
মহাসড়ক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য যানজটপ্রবণ ২০৭ স্থানের মধ্যে—
ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক: ১৪টি
ঢাকা–টাঙ্গাইল–রংপুর মহাসড়ক: ৫৫টি
ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক: ২১টি
ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক: ৪৩টি
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক: ৪৫টি
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক: ৯টি
ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক: ১৪টি
যশোর–খুলনা মহাসড়ক: ৬টি
কিছু মহাসড়কে পরিস্থিতি বেশি খারাপ
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে সাদ্দাম মার্কেট থেকে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত প্রায় ২৫টি স্থানে সড়ক বিভাজক ভেঙে পড়েছে বা কাত হয়ে আছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
আশুলিয়ার নবীনগর–চন্দ্রা ও বাইপাইল–আবদুল্লাহপুর মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে প্রায়ই যানবাহন আটকে যাওয়া বা দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে।
ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ ধীরগতিতে চলছে। অনেক জায়গায় ভাঙাচোরা সড়ক, অসমতল অংশ এবং চলমান কাজের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
কুষ্টিয়া–ঝিনাইদহ মহাসড়কে প্রায় ১৯ কিলোমিটার অংশ এখন প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। গর্তভরা এই পথে দিনে প্রায় ১০ হাজার যানবাহন চলাচল করে।
রংপুর অঞ্চলে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার সড়কে বড় ছোট অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে উজিরপুর থেকে গৌরনদী পর্যন্ত প্রায় ২৩ কিলোমিটার অংশে সংস্কারকাজ চলায় যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
এ ছাড়া খুলনা–সাতক্ষীরা মহাসড়কেও প্রায় আট কিলোমিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের আগে চলমান সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করা না গেলে এবং যান চলাচল ব্যবস্থাপনায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এবারের ঈদযাত্রায় মহাসড়কে ভোগান্তি বাড়তে পারে।
























