ঢাকা ০১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ—মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণার দিন

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে দিনটি এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক। ১৯৭১ সালের এই দিনে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার রমনা রেসকোর্স ময়দানের—বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান—এ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় ঐতিহাসিক ভাষণ দেন এবং বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রস্তুতির আহ্বান জানান।

সেই ভাষণ পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান প্রেরণায় পরিণত হয়। ভাষণের নির্দেশনাতেই বাঙালি জাতি স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তি এবং জাতীয় চেতনার ইতিহাসে ৭ মার্চের ভাষণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর UNESCO বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয়। এর মাধ্যমে ভাষণটি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিশেষ মর্যাদা লাভ করে।

ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র ১৮ মিনিটের ওই ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পটভূমি তুলে ধরার পাশাপাশি দেশবাসীর করণীয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেন। অনেকের মতে, এই ভাষণই ছিল মুক্তিযুদ্ধের কার্যকর রণকৌশল।

সেদিন বিকেলে লাখো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন—‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীকে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করার এবং ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বঙ্গবন্ধুর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। দেশজুড়ে মুক্তিকামী মানুষ সংগঠিত হয়ে ওঠে এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত হয়।

তবে আগে প্রতি বছর যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হলেও ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঐতিহাসিক ৭ মার্চসহ আটটি জাতীয় দিবস আনুষ্ঠানিকভাবে পালন না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ—মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণার দিন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে দিনটি এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক। ১৯৭১ সালের এই দিনে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার রমনা রেসকোর্স ময়দানের—বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান—এ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় ঐতিহাসিক ভাষণ দেন এবং বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রস্তুতির আহ্বান জানান।

সেই ভাষণ পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান প্রেরণায় পরিণত হয়। ভাষণের নির্দেশনাতেই বাঙালি জাতি স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তি এবং জাতীয় চেতনার ইতিহাসে ৭ মার্চের ভাষণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর UNESCO বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয়। এর মাধ্যমে ভাষণটি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিশেষ মর্যাদা লাভ করে।

ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র ১৮ মিনিটের ওই ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পটভূমি তুলে ধরার পাশাপাশি দেশবাসীর করণীয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেন। অনেকের মতে, এই ভাষণই ছিল মুক্তিযুদ্ধের কার্যকর রণকৌশল।

সেদিন বিকেলে লাখো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন—‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীকে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করার এবং ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বঙ্গবন্ধুর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। দেশজুড়ে মুক্তিকামী মানুষ সংগঠিত হয়ে ওঠে এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত হয়।

তবে আগে প্রতি বছর যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হলেও ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঐতিহাসিক ৭ মার্চসহ আটটি জাতীয় দিবস আনুষ্ঠানিকভাবে পালন না করার সিদ্ধান্ত নেয়।