ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পরিকল্পিত জাকাত ব্যবস্থাপনায় দারিদ্র্য কমানো সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী মীনা আইভিএফ ও প্রাইম ব্যাংকের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর ঘোষণা ছাড়াই জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ, ব্যবসায়ীরা উধাও নোয়াখালীতে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরী, দুই ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা নোয়াখালীতে বিদেশি পিস্তলসহ দুই সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার খুলনায় ৫টি বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ নারী আটক সিমগাছে কালিম পাখির সংসার, দেখতে ভিড় পাখিপ্রেমীদের চরাঞ্চলে স্বাস্থসেবায় আশার আলো ভাসমান হাসপাতালে  নোয়াখালী-৫ আসনের এমপি ফখরুল ইসলামের মায়ের ইন্তেকাল ঈদযাত্রায় যানজটের ঝুঁকি ২০৭ স্থানে, নাজুক দেড় হাজার কিলোমিটার সড়ক

জয়পুরহাটে স্ট্রবেরি চাষে লাভবান কৃষক

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:০১:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জয়পুরহাটে বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরি চাষ করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। অন্য ফসলের চেয়ে লাভ বেশি হওয়ায় স্ট্রবেরি চাষ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় দেশজুড়ে এর রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। এখানকার উৎপাদিত স্ট্রবেরি জেলার চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। তবে কৃষকদের অভিযোগ তারা কৃষি বিভাগের কোনো সহযোগিতা পান না। এদিকে কৃষি বিভাগ বলছে তারা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

জানা গেছে, জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালপুর, খেজুরতলী, চান্দা, কালীবাড়িসহ কয়েকটি গ্রামে নিজ মেধা ও উদ্যোগে স্ট্রবেরি চাষ করেছেন কৃষকরা। এই গ্রামগুলো রীতিমতো পরিচিতি পেয়েছে ‘স্ট্রবেরি ভিলেজ’ হিসেবে। অন্যান্য ফসলের চেয়ে কম সময়ে উৎপাদন ও লাভ বেশি হওয়ায় গত বছরের চেয়ে এবার বেড়েছে এর চাষ। ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে স্ট্রবেরি তোলা। এতে ব্যাপক সফলতা পাচ্ছেন কৃষকরা। প্রতি কেজি স্ট্রবেরি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। কৃষকরা জানান, এক বিঘাতে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। আর স্ট্রবেরি বিক্রি হচ্ছে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। এতে এক বিঘাতেই ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হচ্ছে। চাহিদা থাকায় জেলার চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ট্রাকে সরবরাহ হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা চান কৃষকরা।

চান্দা গ্রামের কৃষক এনামুল হক বলেন, ‘এবার স্ট্রবেরির ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি, এক বিঘা জমিতে খরচ বাদ দিয়ে আড়াই লাখ টাকা লাভ হবে। এই ফসলটা এতই লাভজনক কিন্তু সরকার আমাদের কোনো গুরুত্ব দেয় না। কোনো কৃষি অফিসার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে না। কী ওষুধ দেব, সেটাই বুঝি না। দোকানদার যা দেন, তা-ই নিয়ে এসে জমিতে দিই।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘এবার জেলায় ১৩ হেক্টর জমিতে স্ট্রবেরি চাষ হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় এ বছর জেলায় স্ট্রবেরি চাষ অনেকটা বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন আমরা আশা করছি। বাজারে চাহিদা থাকায় কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। এই চাষে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে। তবে কৃষকদের জন্য আমরা কোনো প্রণোদনা পাইনি।’ 

জামালপুর গ্রামের লিও হোসেন বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর ভালো ফলন হলে স্ট্রবেরি বিক্রি হয় ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। আমি এবার দুই বিঘা জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করেছি, আশা করছি ৫ লাখ টাকা লাভ হবে। পাশাপাশি চারা বিক্রি করে আমাদের অতিরিক্ত আয় হয়।’

শাহাপুর গ্রামের কৃষক লিটন হোসেন বলেন, ‘অন্য ফসলের চেয়ে স্ট্রবেরিতে লাভ বেশি। ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। এক বিঘা জমিতে ৫ হাজার গাছ থাকে। ফলনের মৌসুমে প্রতিদিন দেড় মণ করে স্ট্রবেরি তোলা হয় এক বিঘা জমি থেকে। এতে আমাদের লাভ ভালো হচ্ছে। কিন্তু সরকার আমাদের প্রতি কোনো নজর দেয় না। কোনো সহযোগিতা পাই না। বছর গেলেই কীটনাশকের দাম বাড়ে, এতে আমাদের খরচ বেশি হয়ে যাচ্ছে।’ 

ব্যবসায়ী স্বপন হোসেন বলেন, ‘পাবনা থেকে এখানে স্ট্রবেরি কিনতে এসেছি। স্ট্রবেরির জন্য এই এলাকা বিখ্যাত শুনে কিনতে এসেছি। এখান থেকে ট্রাকে নিয়ে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ স্ট্রবেরি বিক্রি করব।’ 

চুয়াডাঙ্গার ব্যবসায়ী শিমুল হোসেন বলেন, ‘এখানে ভালো স্ট্রবেরি পাওয়া যায়, এ জন্য পাইকারিভাবে কিনতে এসেছি। এখানে প্রচুর স্ট্রবেরি চাষ হলেও দাম একটু বেশি। পাইকারি কিনছি ৪০০ টাকা। এরপর আমরা ৫৫০ টাকায় বিক্রি করব। আমি যশোরে এই স্ট্রবেরি নিয়ে যাব।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জয়পুরহাটে স্ট্রবেরি চাষে লাভবান কৃষক

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:০১:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

জয়পুরহাটে বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরি চাষ করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। অন্য ফসলের চেয়ে লাভ বেশি হওয়ায় স্ট্রবেরি চাষ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় দেশজুড়ে এর রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। এখানকার উৎপাদিত স্ট্রবেরি জেলার চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। তবে কৃষকদের অভিযোগ তারা কৃষি বিভাগের কোনো সহযোগিতা পান না। এদিকে কৃষি বিভাগ বলছে তারা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

জানা গেছে, জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালপুর, খেজুরতলী, চান্দা, কালীবাড়িসহ কয়েকটি গ্রামে নিজ মেধা ও উদ্যোগে স্ট্রবেরি চাষ করেছেন কৃষকরা। এই গ্রামগুলো রীতিমতো পরিচিতি পেয়েছে ‘স্ট্রবেরি ভিলেজ’ হিসেবে। অন্যান্য ফসলের চেয়ে কম সময়ে উৎপাদন ও লাভ বেশি হওয়ায় গত বছরের চেয়ে এবার বেড়েছে এর চাষ। ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে স্ট্রবেরি তোলা। এতে ব্যাপক সফলতা পাচ্ছেন কৃষকরা। প্রতি কেজি স্ট্রবেরি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। কৃষকরা জানান, এক বিঘাতে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। আর স্ট্রবেরি বিক্রি হচ্ছে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। এতে এক বিঘাতেই ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হচ্ছে। চাহিদা থাকায় জেলার চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ট্রাকে সরবরাহ হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা চান কৃষকরা।

চান্দা গ্রামের কৃষক এনামুল হক বলেন, ‘এবার স্ট্রবেরির ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি, এক বিঘা জমিতে খরচ বাদ দিয়ে আড়াই লাখ টাকা লাভ হবে। এই ফসলটা এতই লাভজনক কিন্তু সরকার আমাদের কোনো গুরুত্ব দেয় না। কোনো কৃষি অফিসার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে না। কী ওষুধ দেব, সেটাই বুঝি না। দোকানদার যা দেন, তা-ই নিয়ে এসে জমিতে দিই।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘এবার জেলায় ১৩ হেক্টর জমিতে স্ট্রবেরি চাষ হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় এ বছর জেলায় স্ট্রবেরি চাষ অনেকটা বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন আমরা আশা করছি। বাজারে চাহিদা থাকায় কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। এই চাষে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে। তবে কৃষকদের জন্য আমরা কোনো প্রণোদনা পাইনি।’ 

জামালপুর গ্রামের লিও হোসেন বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর ভালো ফলন হলে স্ট্রবেরি বিক্রি হয় ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। আমি এবার দুই বিঘা জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করেছি, আশা করছি ৫ লাখ টাকা লাভ হবে। পাশাপাশি চারা বিক্রি করে আমাদের অতিরিক্ত আয় হয়।’

শাহাপুর গ্রামের কৃষক লিটন হোসেন বলেন, ‘অন্য ফসলের চেয়ে স্ট্রবেরিতে লাভ বেশি। ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। এক বিঘা জমিতে ৫ হাজার গাছ থাকে। ফলনের মৌসুমে প্রতিদিন দেড় মণ করে স্ট্রবেরি তোলা হয় এক বিঘা জমি থেকে। এতে আমাদের লাভ ভালো হচ্ছে। কিন্তু সরকার আমাদের প্রতি কোনো নজর দেয় না। কোনো সহযোগিতা পাই না। বছর গেলেই কীটনাশকের দাম বাড়ে, এতে আমাদের খরচ বেশি হয়ে যাচ্ছে।’ 

ব্যবসায়ী স্বপন হোসেন বলেন, ‘পাবনা থেকে এখানে স্ট্রবেরি কিনতে এসেছি। স্ট্রবেরির জন্য এই এলাকা বিখ্যাত শুনে কিনতে এসেছি। এখান থেকে ট্রাকে নিয়ে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ স্ট্রবেরি বিক্রি করব।’ 

চুয়াডাঙ্গার ব্যবসায়ী শিমুল হোসেন বলেন, ‘এখানে ভালো স্ট্রবেরি পাওয়া যায়, এ জন্য পাইকারিভাবে কিনতে এসেছি। এখানে প্রচুর স্ট্রবেরি চাষ হলেও দাম একটু বেশি। পাইকারি কিনছি ৪০০ টাকা। এরপর আমরা ৫৫০ টাকায় বিক্রি করব। আমি যশোরে এই স্ট্রবেরি নিয়ে যাব।’