ঢাকা ০১:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল, আগের হার বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:১৮:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকার সম্প্রতি সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে এবং আগের মুনাফার হার বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে। অর্থাৎ, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেভাবে বিনিয়োগকারীরা সঞ্চয়পত্র থেকে মুনাফা পাচ্ছিলেন, আগামী ছয় মাসও সেই একই হারে মুনাফা পাবেন। এটি নিশ্চিত করতে অর্থ বিভাগ রোববার (৪ জানুয়ারি) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে (আইআরডি) নির্দেশ দিয়েছে, যা এখন প্রজ্ঞাপণ জারি করবে।

গত ২৮ ডিসেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানো হয়েছিল। তখন সাধারণ মধ্যবিত্ত এবং সীমিত আয়ের বিনিয়োগকারীরা অর্থনৈতিকভাবে চাপে পড়েছিলেন। এই পরিস্থিতিতে সরকার আগের হারই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিল।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা মূলত বিনিয়োগের পরিমাণের ওপর নির্ভরশীল। কম বিনিয়োগে মুনাফার হার তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে, আর বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার কমে যায়। এখানে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্থাৎ, এই পরিমাণ বা এর কম বিনিয়োগে মুনাফা বেশি হবে, আর এর বেশি হলে মুনাফা কম হবে। এটি সরকারের আয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে নির্ধারণ করা হয়।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে থাকা বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো পরিবার সঞ্চয়পত্র। এ সঞ্চয়পত্রে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফা ছিল ১১.৯৩%; এবং বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১১.৮০%, যা বহাল রাখা হয়েছে।

পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে পঞ্চম বছর শেষে মুনাফা ছিল ১১.৯৮% এবং বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফা ১১.৮০% বহাল রয়েছে।

বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র (৫ বছর মেয়াদি)–এ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফা ১১.৮৩% এবং বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০% বহাল রাখা হয়েছে।

তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফা ১১.৮২% এবং বেশি বিনিয়োগে ১১.৭৭% বহাল রয়েছে।

সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকরা মূলত দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার। বিপদের সময় তারা সঞ্চয়পত্র ভেঙে অর্থ প্রয়োজন মেটান। এছাড়া, মাসিক সংসার খরচের একটি অংশও সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে আসে।

দেশে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দুই বছরের বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি (৮–৯%) বিরাজমান। যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এটি কিছুটা কমেছে, তবুও মুনাফার হার পূর্বের মতো বহাল রাখা হয়েছে।

ছয় মাস পর আবার মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় এক বছর ধরে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অপরিবর্তিত থাকবে, যা বিনিয়োগকারীদের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

এভাবে সরকার সাধারণ মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার স্থিতিশীল রাখছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল, আগের হার বহাল

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:১৮:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

সরকার সম্প্রতি সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে এবং আগের মুনাফার হার বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে। অর্থাৎ, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেভাবে বিনিয়োগকারীরা সঞ্চয়পত্র থেকে মুনাফা পাচ্ছিলেন, আগামী ছয় মাসও সেই একই হারে মুনাফা পাবেন। এটি নিশ্চিত করতে অর্থ বিভাগ রোববার (৪ জানুয়ারি) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে (আইআরডি) নির্দেশ দিয়েছে, যা এখন প্রজ্ঞাপণ জারি করবে।

গত ২৮ ডিসেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানো হয়েছিল। তখন সাধারণ মধ্যবিত্ত এবং সীমিত আয়ের বিনিয়োগকারীরা অর্থনৈতিকভাবে চাপে পড়েছিলেন। এই পরিস্থিতিতে সরকার আগের হারই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিল।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা মূলত বিনিয়োগের পরিমাণের ওপর নির্ভরশীল। কম বিনিয়োগে মুনাফার হার তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে, আর বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার কমে যায়। এখানে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্থাৎ, এই পরিমাণ বা এর কম বিনিয়োগে মুনাফা বেশি হবে, আর এর বেশি হলে মুনাফা কম হবে। এটি সরকারের আয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে নির্ধারণ করা হয়।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে থাকা বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো পরিবার সঞ্চয়পত্র। এ সঞ্চয়পত্রে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফা ছিল ১১.৯৩%; এবং বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১১.৮০%, যা বহাল রাখা হয়েছে।

পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে পঞ্চম বছর শেষে মুনাফা ছিল ১১.৯৮% এবং বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফা ১১.৮০% বহাল রয়েছে।

বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র (৫ বছর মেয়াদি)–এ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফা ১১.৮৩% এবং বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০% বহাল রাখা হয়েছে।

তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফা ১১.৮২% এবং বেশি বিনিয়োগে ১১.৭৭% বহাল রয়েছে।

সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকরা মূলত দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার। বিপদের সময় তারা সঞ্চয়পত্র ভেঙে অর্থ প্রয়োজন মেটান। এছাড়া, মাসিক সংসার খরচের একটি অংশও সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে আসে।

দেশে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দুই বছরের বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি (৮–৯%) বিরাজমান। যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এটি কিছুটা কমেছে, তবুও মুনাফার হার পূর্বের মতো বহাল রাখা হয়েছে।

ছয় মাস পর আবার মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় এক বছর ধরে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অপরিবর্তিত থাকবে, যা বিনিয়োগকারীদের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

এভাবে সরকার সাধারণ মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার স্থিতিশীল রাখছে।