কাঁকড়ার প্রজনন রক্ষায় সুন্দরবনে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৭:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
কাঁকড়ার প্রাকৃতিক প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে সুন্দরবনের নদী ও খালে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুই মাসের জন্য কাঁকড়া আহরণ নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ। নতুন বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।
বন বিভাগ জানায়, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে সুন্দরবনে শিলা কাঁকড়াসহ মোট ১৪ প্রজাতির কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম। এ সময় কাঁকড়ার দেহে ডিম থাকে এবং সেগুলো থেকে বাচ্চা ফোটে। ফলে এই সময় কাঁকড়া আহরণ বন্ধ রাখা হলে প্রজনন স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হয়।
যদিও দেশে কাঁকড়ার অভ্যন্তরীণ চাহিদা তুলনামূলক কম, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, চীন, হংকং ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে জীবন্ত কাঁকড়া রপ্তানি করে আসছে। বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা পূরণ এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিবছরের মতো এবারও এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কাঁকড়া ধরার অনুমতিপত্র (পাস) ইস্যু বন্ধ থাকায় গভীর বনাঞ্চলে অবস্থান করা জেলেরা লোকালয়ে ফিরে এসেছেন। তবে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, কিছু অসাধু চক্র বন বিভাগের একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গোপনে কাঁকড়া শিকার অব্যাহত রাখে।
বাগেরহাটের এক কাঁকড়া ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “নিষেধাজ্ঞা কাগজে-কলমেই বেশি থাকে। ঘাটে ঘাটে টাকা দিলে সব সামলানো যায়।”
পরিবেশবাদীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের অনিয়ম চলতে থাকলে কাঁকড়ার বংশবিস্তার ব্যাহত হবে এবং সুন্দরবনের জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের অংশে সুন্দরবনের আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে জলভাগ রয়েছে ১ হাজার ৮৭৪ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটার, যা মোট আয়তনের ৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ। এ জলভাগে রয়েছে ২১০ প্রজাতির মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি ও ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী এবং পশ্চিম সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান জানান, প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা কাঁকড়া সহজে ধরা পড়ে। এ সময় শিকার বন্ধ রাখা গেলে পরবর্তী বছর কাঁকড়ার উৎপাদন বাড়ে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তারা।
উপকূলীয় খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার বহু মানুষ সুন্দরবননির্ভর। মোংলা, দাকোপ, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলার সুন্দরবনসংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দারা মাছ ও কাঁকড়া ধরা, গোলপাতা সংগ্রহ এবং মধু আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।





















