কুপিয়ে শরীরে আগুন দেয়া ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্রের মৃত্যু
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৫৬:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় কুপিয়ে শরীরে আগুন দেয়ার ঘটনায় দগ্ধ ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস (৪০) মারা গেছেন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটায় ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
হামলার ঘটনা ঘটে বুধবার (১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডামুড্যার তিলই এলাকায়। দুর্বৃত্তরা খোকন চন্দ্রকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে এবং শরীরে পেট্রোলজাতীয় দ্রব্য ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।
খোকন চন্দ্র দাস কেউরভাঙা বাজারে ওষুধ ব্যবসা করতেন এবং এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।
নিহতের ভাগ্নিজামাই প্রান্ত দাস জানান, শনিবার ভোরে তাঁর শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হলে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজই গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক বিধান সরকার জানান, খোকন চন্দ্র দাসের শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
আহত অবস্থায় খোকন তিনজনের নাম উল্লেখ করেছেন—কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭), সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২১) এবং শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদার (২৫)। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর কেউরভাঙা বাজারের ব্যবসায়ী ও তিলই গ্রামের বাসিন্দারা বিক্ষোভ জানিয়ে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
নিহতের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ডামুড্যা থানায় মামলা করেছেন। ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল হক জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।





















