গভীর সংকটে এনসিপি, আস্থাহীনতায় ছোট হচ্ছে দল
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২৭:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
‘তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল’ হিসেবে পরিচিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর দলটির ভেতরেই আস্থার সংকটে পড়েছে। একের পর এক পদত্যাগের পাশাপাশি নতুন করে তরুণদের সম্পৃক্ততা ও আগ্রহ কমে যাওয়ার বিষয়টি দলটির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে এসেছে।
দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জামায়াতের সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্তের পর এনসিপি শুধু শীর্ষ পর্যায়ের নেতাই হারাচ্ছে না, হারাচ্ছে তরুণ সমর্থক ও সংগঠকদের আস্থাও। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে তরুণদের যুক্ত হওয়া কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বিপরীতে, গত এক সপ্তাহে ধারাবাহিক পদত্যাগে সংকুচিত হচ্ছে দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে এনসিপির অন্তত ১১ নেতা পদত্যাগ করেছেন। আরও অনেকে পদত্যাগের কথা ভাবছেন বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তরুণ ভোটার ও সংগঠকদের মধ্যে তৈরি হওয়া এই আস্থাহীনতা এনসিপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সজীব আহমেদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে নতুন রাজনৈতিক ধারার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দলটি সেই পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যেই আটকে পড়েছে।’
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট চূড়ান্ত হওয়ার পর শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতাকে হারিয়ে এনসিপি এখন নেতৃত্ব ও সংগঠন—দুই দিকেই চাপে রয়েছে। পদত্যাগীদের ফেরাতে এবং নতুন করে পদত্যাগ ঠেকাতে দলের আহ্বায়ক পর্যায় থেকে একান্ত আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে দলীয় একটি সূত্র। নতুন মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার নেতৃত্বে পদত্যাগীদের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সেলের কো-লিড ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, ‘অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পদত্যাগ কার্যকর করতে হলে লিখিত আবেদন ও অনুমোদন প্রয়োজন। অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং তাঁদের কাছে দলের নথিপত্র রয়েছে, যা এখনো হস্তান্তর করা হয়নি। আমরা কারও সঙ্গেই সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাই না।’
জামায়াতের সঙ্গে জোটের পর এনসিপিতে ভাঙাগড়ার এই প্রক্রিয়া চললেও আসন ভাগাভাগির বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এনসিপি চাচ্ছে ৩৫টি আসন, আর জামায়াত দিতে প্রস্তুত ৩০টি আসন। এ নিয়ে শেষ মুহূর্তের দর-কষাকষি চলছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। রোববারের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে।
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মেহেরাব হোসেন সিফাত বলেন, ‘নতুন দল গড়ে তুলে অল্প সময়ে মানুষের আগ্রহ ও সমর্থন তৈরি করা সহজ নয়। এনসিপি সেটি করতে পেরেছে। সাময়িক কিছু সিদ্ধান্তে কেউ কেউ দল ছাড়ছেন, তবে সাংগঠনিকভাবে আমরা সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।’

























