ঢাকা ১১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মৌসুম শেষ না হতেই বাড়ছে পেঁয়াজের দাম, সবজির বাজারও চড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৩৩:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫ ১০০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পেঁয়াজের মৌসুম শেষ না হলেও দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহে সারা দেশে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১৫-২০ টাকা বেড়েছে।

পেঁয়াজের ভরা মৌসুমে দাম বাড়ায় সরকারের বাজার নজরদারিকে দায়ী করেছেন ক্রেতা ও বাজার বিশ্লেষকেরা। তারা বলছেন, এখন পেঁয়াজের সরবরাহে সংকট হওয়ার কোনো কারণই নেই। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে একশ্রেণির ব্যবসায়ী আমদানির পথ খুলতে চাইছেন। এতে বাজারে দাম বাড়ছে।

গত সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৩০-৪৫ টাকা কেজি। শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৫-৬৫ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, তিন-চার দিন যাবৎ আড়তগুলোতে সরবরাহ কমে গেছে। ফরিদপুরসহ বিভিন্ন মোকামে দাম বেড়েছে। ঢাকায় সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আসে ফরিদপুর থেকে।

কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০-৫১ টাকা কেজি। যা তিন থেকে চার দিন আগে ৪৪-৪৫ টাকা ছিল।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, দেশি পেঁয়াজ ফুরিয়ে এলে নাহয় দাম বাড়ার একটা যুক্তি থাকে। তখন আমদানি যৌক্তিক হয়। কিন্তু এখন কোনো কারণেই হঠাৎ দাম বাড়তে পারে না। পেঁয়াজের আকস্মিক এই দাম বাড়া এই খাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজির অংশ।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশে প্রতিবছর ৩৫ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। এসব পেঁয়াজের ৮০-৮৫ শতাংশই আসে মার্চ-এপ্রিল মৌসুমে। তবে ২৫ শতাংশ নানাভাবে নষ্ট হওয়ায় বছর শেষে ৬-৭ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়।

এদিকে, চলতি সপ্তাহে বেড়েছে ভোজ্যতেলের দামও। এক ধাক্কায় সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৪ টাকা বাড়িয়ে ১৭৫ থেকে ১৮৯ টাকা করেছে মিলমালিকরা। যদিও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, খুব শিগগিরই তেলের দাম কমানো হবে।

মৌসুম শেষ হওয়ায় টমেটো, বেগুন, শিম, করলাসহ কিছু কিছু সবজির দাম বাড়তে শুরু করেছে। এসব সবজির দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে চলতি সপ্তাহে।

তবে তেল ও পেঁয়াজ ছাড়া চিনি, আটা, ময়দা, ফার্মের মুরগির ডিম, ফার্মের মুরগি, গরুর মাংসসহ অন্যান্য পণ্য বিক্রি হচ্ছে গত সপ্তাহের দামেই।

দেশের চালের বড় মৌসুমের বোরো ধান উঠতে শুরু করলেও চালের দাম কমেনি। তবে বিক্রেতারা বলছেন দাম নতুন করে বাড়েনি, আগের দামেই স্থির রয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে চালের দাম কমতে শুরু করবে বলেও জানান তাঁরা।

রাজধানীর বাজারগুলোতে বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি নাজিরশাইল, মিনিকেট, জিরাশাইলসহ সরু চাল কিনতে ব্যয় হচ্ছে ৭৪-৮৬ টাকা। বিআর আঠাশ, পাইজামসহ মাঝারি মানের চাল কিনতে লাগছে ৬২-৭০ টাকা। স্বর্ণা, গুটিসহ বিভিন্ন মোটা চাল কিনতে লাগছে প্রতিতে ৫৪-৬০ টাকা।

বাংলাদেশ রাইস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ও বাবুবাজারের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী কাউসার আলম বাবু বলেন, এখনো নতুন ধানের চাল বাজারে আসেনি। তাই দাম স্থির রয়েছে। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহ থেকেই চালের দাম কমতে শুরু করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মৌসুম শেষ না হতেই বাড়ছে পেঁয়াজের দাম, সবজির বাজারও চড়া

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৩৩:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫

পেঁয়াজের মৌসুম শেষ না হলেও দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহে সারা দেশে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১৫-২০ টাকা বেড়েছে।

পেঁয়াজের ভরা মৌসুমে দাম বাড়ায় সরকারের বাজার নজরদারিকে দায়ী করেছেন ক্রেতা ও বাজার বিশ্লেষকেরা। তারা বলছেন, এখন পেঁয়াজের সরবরাহে সংকট হওয়ার কোনো কারণই নেই। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে একশ্রেণির ব্যবসায়ী আমদানির পথ খুলতে চাইছেন। এতে বাজারে দাম বাড়ছে।

গত সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৩০-৪৫ টাকা কেজি। শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৫-৬৫ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, তিন-চার দিন যাবৎ আড়তগুলোতে সরবরাহ কমে গেছে। ফরিদপুরসহ বিভিন্ন মোকামে দাম বেড়েছে। ঢাকায় সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আসে ফরিদপুর থেকে।

কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০-৫১ টাকা কেজি। যা তিন থেকে চার দিন আগে ৪৪-৪৫ টাকা ছিল।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, দেশি পেঁয়াজ ফুরিয়ে এলে নাহয় দাম বাড়ার একটা যুক্তি থাকে। তখন আমদানি যৌক্তিক হয়। কিন্তু এখন কোনো কারণেই হঠাৎ দাম বাড়তে পারে না। পেঁয়াজের আকস্মিক এই দাম বাড়া এই খাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজির অংশ।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশে প্রতিবছর ৩৫ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। এসব পেঁয়াজের ৮০-৮৫ শতাংশই আসে মার্চ-এপ্রিল মৌসুমে। তবে ২৫ শতাংশ নানাভাবে নষ্ট হওয়ায় বছর শেষে ৬-৭ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়।

এদিকে, চলতি সপ্তাহে বেড়েছে ভোজ্যতেলের দামও। এক ধাক্কায় সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৪ টাকা বাড়িয়ে ১৭৫ থেকে ১৮৯ টাকা করেছে মিলমালিকরা। যদিও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, খুব শিগগিরই তেলের দাম কমানো হবে।

মৌসুম শেষ হওয়ায় টমেটো, বেগুন, শিম, করলাসহ কিছু কিছু সবজির দাম বাড়তে শুরু করেছে। এসব সবজির দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে চলতি সপ্তাহে।

তবে তেল ও পেঁয়াজ ছাড়া চিনি, আটা, ময়দা, ফার্মের মুরগির ডিম, ফার্মের মুরগি, গরুর মাংসসহ অন্যান্য পণ্য বিক্রি হচ্ছে গত সপ্তাহের দামেই।

দেশের চালের বড় মৌসুমের বোরো ধান উঠতে শুরু করলেও চালের দাম কমেনি। তবে বিক্রেতারা বলছেন দাম নতুন করে বাড়েনি, আগের দামেই স্থির রয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে চালের দাম কমতে শুরু করবে বলেও জানান তাঁরা।

রাজধানীর বাজারগুলোতে বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি নাজিরশাইল, মিনিকেট, জিরাশাইলসহ সরু চাল কিনতে ব্যয় হচ্ছে ৭৪-৮৬ টাকা। বিআর আঠাশ, পাইজামসহ মাঝারি মানের চাল কিনতে লাগছে ৬২-৭০ টাকা। স্বর্ণা, গুটিসহ বিভিন্ন মোটা চাল কিনতে লাগছে প্রতিতে ৫৪-৬০ টাকা।

বাংলাদেশ রাইস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ও বাবুবাজারের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী কাউসার আলম বাবু বলেন, এখনো নতুন ধানের চাল বাজারে আসেনি। তাই দাম স্থির রয়েছে। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহ থেকেই চালের দাম কমতে শুরু করবে।