ঘোড়ার গাড়িতে রাজকীয় বিদায়, ভালোবাসায় ভাসলেন অধ্যক্ষ
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:২৫:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ৩২৬ বার পড়া হয়েছে
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ-এ ব্যতিক্রমী ও আবেগঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে অবসরজনিত বিদায় জানানো হয়েছে অধ্যক্ষ খন্দকার মো. হুমায়ুন রেজা কবীর-কে। সোমবার (৬ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবর্ধনা মুহূর্তেই পরিণত হয় ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক অনন্য মিলনমেলায়।
শিক্ষক পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আহসান হাবীব এবং সঞ্চালনা করেন মো. সাইফুদ্দীন এমরান। শতাধিক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীর উপস্থিতিতে প্রিয় অধ্যক্ষকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠান শেষে দেখা যায় এক ভিন্নধর্মী দৃশ্য—কলেজের উদ্যোগে ঘোড়ার গাড়িতে করে প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তাকে নিজ বাড়ি বিরামপুর উপজেলার পূর্ব জগন্নাথপুর গ্রামে পৌঁছে দেওয়া হয়। ফুলবাড়ীতে এ ধরনের আয়োজন এই প্রথম, যা উপস্থিত সবার মাঝে গভীর আবেগের সৃষ্টি করে।
প্রায় ২৯ বছরের কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘ ১৮ বছর এই কলেজে শিক্ষকতা করেন এবং শেষ এক বছর অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ন্যায়নিষ্ঠা, সততা ও মানবিকতার জন্য তিনি ছিলেন সবার কাছে প্রিয়। বিশেষ করে অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি আলাদা করে প্রশংসিত ছিলেন।
বিদায়ী বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, “এই কলেজ আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়। এখানে আমি শিখেছি, বেড়ে উঠেছি এবং সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। তোমাদের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মতে, তিনি শুধু একজন প্রশাসক নন—একজন অভিভাবকও ছিলেন। তার বিদায়ে কলেজ পরিবারে সৃষ্টি হয়েছে এক অপূরণীয় শূন্যতা।
অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন,“স্যার সবসময় ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতেন। গরিব শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি ছিলেন এক ভরসার জায়গা। তাঁর মতো মানুষ আমাদের জীবনে খুব কমই আসে। আমরা তাঁকে খুব মিস করবো।”
কর্মচারীরাও জানান, তিনি সবসময় তাঁদের সম্মান দিয়েছেন, কথা শুনেছেন এবং প্রয়োজনে সহায়তা করেছেন। অনেক অসহায় মানুষ তাঁর কাছ থেকে সহায়তা পেয়ে উপকৃত হয়েছেন। এমন মানবিক মানুষ সত্যিই বিরল।























