হামের দাপট বাড়ছেই: একদিনে আরও ১২ জনের মৃত্যু
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৩১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের সংক্রমণ অব্যাহতভাবে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, তাই সতর্কতা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হতে পারে।
প্রাথমিকভাবে আক্রান্তদের মধ্যে শিশু, বয়স্ক এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা মানুষরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চাপ বেড়ে গেছে, কিছু এলাকায় চিকিৎসা সুবিধার অভাব পরিস্থিতি আরও জটিল করছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সতর্ক করেছে, সংক্রমণ রোধে নিয়মিত হাত ধোয়া, ভিড় এড়িয়ে চলা, মাস্ক ব্যবহার, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। পরিবার ও সম্প্রদায়ের সচেতনতা ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না।
এদিকে, হামে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে গত ২৪ ঘন্টায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
রোববার (৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্যবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা যায়। শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টার সারা দেশের হাম সংক্রমণ পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয় এই বিজ্ঞপ্তিতে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘন্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে একজন রোগী ঢাকা বিভাগে এবং অপর একজন ময়মনসিংহ বিভাগে মারা গেছেন। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে খুলনা বিভাগে ৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বলছে, গত ২৪ ঘন্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৫৪ জন এবং সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৭৪ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে আজ ৫ এপ্রিল (সকাল ৮টা) পর্যন্ত সারা দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২৯ জন এবং সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৭০ জন। এছাড়া গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৮০ জন রোগী।
উল্লেখ্য, রোববার থেকে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় শুরু হয়েছে হামের টিকাদান কর্মসূচি।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, হামের প্রকোপ যে কোনো সময় অপ্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই সঠিক তথ্য জানা, সচেতন থাকা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা একমাত্র পথ, যাতে দেশজুড়ে এই রোগের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের জন্য পরিবারের সদস্যদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিটি অসুস্থতা যেন ছোট থেকেই সঠিকভাবে দেখা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
এই মুহূর্তে দেশের মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে, কিন্তু সচেতনতা ও দ্রুত ব্যবস্থা নিলে হামের ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।




















