ঢাকা ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বার্ধক্য আপনাকে ছুঁতে পারবে না! অভ্যাসে আনুন এই সহজ পরিবর্তন

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৯:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনেকেই ৬০–৭০ বছর বয়সেও থাকেন দারুণ চনমনে ও প্রাণবন্ত। তাদের দেখে মনে হয়, বয়স যেন তাদের স্পর্শই করতে পারেনি। তারা নিয়মিত জিমে যান না বা ম্যারাথনও দৌড়ান না, তবু তাদের এনার্জি নজর কাড়ে। অনেকের ধারণা, এর পেছনে জিনগত কারণই মূল ভূমিকা রাখে।

তবে মনোবিজ্ঞান ও সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, আসল রহস্য লুকিয়ে আছে দৈনন্দিন অভ্যাসে। নিয়মিত কঠোর ব্যায়ামের বদলে তারা সারাদিনের ছোট ছোট শারীরিক নড়াচড়াকেই জীবনের অংশ করে নিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল পার্থক্য তৈরি হয় মানসিকতায়। যখন হাঁটা-চলা বা ওঠাবসা আলাদা করে “ব্যায়াম” মনে না হয়ে স্বাভাবিক জীবনের অংশ হয়ে যায়, তখন তা মস্তিষ্কে চাপ তৈরি করে না। ফলে এই অভ্যাস দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা সহজ হয়।

উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, লিফটবিহীন বাড়িতে থাকা প্রবীণরা তুলনামূলক বেশি সক্রিয় থাকেন। তাদের কাছে সিঁড়ি ভাঙা ব্যায়াম নয়, বরং দৈনন্দিন প্রয়োজন। মনোবিজ্ঞান বলছে, যখন কোনো কাজ প্রয়োজনের অংশ হয়ে ওঠে, তখন তা এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাও কমে যায়।

ছোট ছোট কাজেও সক্রিয় থাকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেকেই হেঁটে বা সাইকেলে বাজার করেন, নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, হাঁটা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী—তবে যারা এটিকে অভ্যাসে পরিণত করেন, তারাই সবচেয়ে বেশি সুফল পান।

বাগান করাও হতে পারে চমৎকার শারীরিক অনুশীলন। গাছের যত্ন নিতে গিয়ে ঝুঁকে কাজ করা, মাটি খোঁড়া বা টব সরানো—সবই শরীরকে সক্রিয় রাখে। কিন্তু এগুলো তাদের কাছে কষ্ট নয়, বরং আনন্দের কাজ।

এছাড়া টেনিস, ব্যাডমিন্টন, সাইক্লিং বা ফুটবলের মতো খেলাধুলা দীর্ঘায়ুর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। অনেক প্রবীণ জিমের পরিবর্তে এসব আনন্দদায়ক কর্মকাণ্ড বেছে নেন, যা নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া সহজ হয়।

বিজ্ঞানীরা এই স্বাভাবিক নড়াচড়াকে বলেন “নন-এক্সারসাইজ অ্যাক্টিভিটি থার্মোজেনেসিস”—অর্থাৎ আনুষ্ঠানিক ব্যায়াম ছাড়াই সারাদিনের ছোট ছোট শারীরিক কার্যকলাপ। যেমন হাঁটতে হাঁটতে কথা বলা, টিভি দেখার সময় দাঁড়িয়ে থাকা বা ফোনে কথা বলার সময় চলাফেরা করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘায়ু ও প্রাণশক্তির মূল চাবিকাঠি কঠিন ব্যায়াম নয়; বরং সারাদিন ধরে হালকা কিন্তু নিয়মিত সক্রিয় থাকা। যখন চলাফেরা জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ হয়ে ওঠে, তখন আলাদা করে ফিটনেস অর্জনের প্রয়োজনই পড়ে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বার্ধক্য আপনাকে ছুঁতে পারবে না! অভ্যাসে আনুন এই সহজ পরিবর্তন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৯:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

অনেকেই ৬০–৭০ বছর বয়সেও থাকেন দারুণ চনমনে ও প্রাণবন্ত। তাদের দেখে মনে হয়, বয়স যেন তাদের স্পর্শই করতে পারেনি। তারা নিয়মিত জিমে যান না বা ম্যারাথনও দৌড়ান না, তবু তাদের এনার্জি নজর কাড়ে। অনেকের ধারণা, এর পেছনে জিনগত কারণই মূল ভূমিকা রাখে।

তবে মনোবিজ্ঞান ও সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, আসল রহস্য লুকিয়ে আছে দৈনন্দিন অভ্যাসে। নিয়মিত কঠোর ব্যায়ামের বদলে তারা সারাদিনের ছোট ছোট শারীরিক নড়াচড়াকেই জীবনের অংশ করে নিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল পার্থক্য তৈরি হয় মানসিকতায়। যখন হাঁটা-চলা বা ওঠাবসা আলাদা করে “ব্যায়াম” মনে না হয়ে স্বাভাবিক জীবনের অংশ হয়ে যায়, তখন তা মস্তিষ্কে চাপ তৈরি করে না। ফলে এই অভ্যাস দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা সহজ হয়।

উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, লিফটবিহীন বাড়িতে থাকা প্রবীণরা তুলনামূলক বেশি সক্রিয় থাকেন। তাদের কাছে সিঁড়ি ভাঙা ব্যায়াম নয়, বরং দৈনন্দিন প্রয়োজন। মনোবিজ্ঞান বলছে, যখন কোনো কাজ প্রয়োজনের অংশ হয়ে ওঠে, তখন তা এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাও কমে যায়।

ছোট ছোট কাজেও সক্রিয় থাকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেকেই হেঁটে বা সাইকেলে বাজার করেন, নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, হাঁটা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী—তবে যারা এটিকে অভ্যাসে পরিণত করেন, তারাই সবচেয়ে বেশি সুফল পান।

বাগান করাও হতে পারে চমৎকার শারীরিক অনুশীলন। গাছের যত্ন নিতে গিয়ে ঝুঁকে কাজ করা, মাটি খোঁড়া বা টব সরানো—সবই শরীরকে সক্রিয় রাখে। কিন্তু এগুলো তাদের কাছে কষ্ট নয়, বরং আনন্দের কাজ।

এছাড়া টেনিস, ব্যাডমিন্টন, সাইক্লিং বা ফুটবলের মতো খেলাধুলা দীর্ঘায়ুর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। অনেক প্রবীণ জিমের পরিবর্তে এসব আনন্দদায়ক কর্মকাণ্ড বেছে নেন, যা নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া সহজ হয়।

বিজ্ঞানীরা এই স্বাভাবিক নড়াচড়াকে বলেন “নন-এক্সারসাইজ অ্যাক্টিভিটি থার্মোজেনেসিস”—অর্থাৎ আনুষ্ঠানিক ব্যায়াম ছাড়াই সারাদিনের ছোট ছোট শারীরিক কার্যকলাপ। যেমন হাঁটতে হাঁটতে কথা বলা, টিভি দেখার সময় দাঁড়িয়ে থাকা বা ফোনে কথা বলার সময় চলাফেরা করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘায়ু ও প্রাণশক্তির মূল চাবিকাঠি কঠিন ব্যায়াম নয়; বরং সারাদিন ধরে হালকা কিন্তু নিয়মিত সক্রিয় থাকা। যখন চলাফেরা জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ হয়ে ওঠে, তখন আলাদা করে ফিটনেস অর্জনের প্রয়োজনই পড়ে না।