ঢাকা ০৬:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধন

রাজনীতিতে নতুন মোড়: আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিধান আইনের পথে

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:২৯:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান বহাল রাখার সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা শেষে কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

এর ফলে অধ্যাদেশটি সংশোধনসহ আইনে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আইনটি পাস হলে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

🔍 প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক অবস্থান

সরকার গঠনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জানিয়েছিল, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে তারা নয়। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সংশোধিত অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে নির্বাহী আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর কার্যক্রমে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

🏛️ অধ্যাদেশ পর্যালোচনা ও সংসদীয় প্রক্রিয়া

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে গত ১৩ মার্চ উত্থাপন করা হয়। এগুলো যাচাইয়ের জন্য ১৪ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে পাস না হলে অধ্যাদেশ ৩০ দিনের মধ্যে কার্যকারিতা হারায়।

বিশেষ কমিটি ইতোমধ্যে— ৯৮টি অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত রেখে আইনে রূপ দেওয়ার সুপারিশ করেছে, ১৫টি সংশোধন করে বিল আকারে উত্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ২০২৫ সালের ১১ মে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ।

⚖️ আইনি পরিবর্তন ও নিষেধাজ্ঞার বিস্তার

সংশোধিত অধ্যাদেশের মাধ্যমে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের কয়েকটি ধারা পরিবর্তন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। একই আইনের আওতায় আগে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-কেও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে সংশোধিত বিধানে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে নির্বাহী আদেশে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা যাবে।

একই সঙ্গে জারি করা প্রজ্ঞাপনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

🚫 নিষিদ্ধ সংগঠনের ওপর বিধিনিষেধ

বর্তমান অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠন—সভা-সমাবেশ, মিছিল, প্রচার-প্রচারণা, সংবাদ সম্মেলন, আর্থিক লেনদেন —এর কোনোটিই পরিচালনা করতে পারবে না। তবে এতদিন এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান ছিল না।

⚠️ শাস্তির বিধান যুক্তের প্রস্তাব

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন করে শাস্তির বিধান যুক্ত করার সুপারিশ করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নিষিদ্ধ সংগঠন কার্যক্রম চালালে সংশ্লিষ্ট আইনে ৪ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধন

রাজনীতিতে নতুন মোড়: আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিধান আইনের পথে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:২৯:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান বহাল রাখার সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা শেষে কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

এর ফলে অধ্যাদেশটি সংশোধনসহ আইনে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আইনটি পাস হলে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

🔍 প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক অবস্থান

সরকার গঠনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জানিয়েছিল, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে তারা নয়। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সংশোধিত অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে নির্বাহী আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর কার্যক্রমে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

🏛️ অধ্যাদেশ পর্যালোচনা ও সংসদীয় প্রক্রিয়া

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে গত ১৩ মার্চ উত্থাপন করা হয়। এগুলো যাচাইয়ের জন্য ১৪ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে পাস না হলে অধ্যাদেশ ৩০ দিনের মধ্যে কার্যকারিতা হারায়।

বিশেষ কমিটি ইতোমধ্যে— ৯৮টি অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত রেখে আইনে রূপ দেওয়ার সুপারিশ করেছে, ১৫টি সংশোধন করে বিল আকারে উত্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ২০২৫ সালের ১১ মে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ।

⚖️ আইনি পরিবর্তন ও নিষেধাজ্ঞার বিস্তার

সংশোধিত অধ্যাদেশের মাধ্যমে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের কয়েকটি ধারা পরিবর্তন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। একই আইনের আওতায় আগে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-কেও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে সংশোধিত বিধানে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে নির্বাহী আদেশে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা যাবে।

একই সঙ্গে জারি করা প্রজ্ঞাপনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

🚫 নিষিদ্ধ সংগঠনের ওপর বিধিনিষেধ

বর্তমান অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠন—সভা-সমাবেশ, মিছিল, প্রচার-প্রচারণা, সংবাদ সম্মেলন, আর্থিক লেনদেন —এর কোনোটিই পরিচালনা করতে পারবে না। তবে এতদিন এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান ছিল না।

⚠️ শাস্তির বিধান যুক্তের প্রস্তাব

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন করে শাস্তির বিধান যুক্ত করার সুপারিশ করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নিষিদ্ধ সংগঠন কার্যক্রম চালালে সংশ্লিষ্ট আইনে ৪ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হতে পারে।