ঢাকা ০৭:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

আনন্দবাজার ডট কম-এ শেষ সাক্ষাৎকার

অভিনেতা রাহুলের অপ্রকাশিত কথোপকথন

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?
রাহুল: এমন কাউকে দেখতে চাই, যিনি কেবলই মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী হতে চান। এমন কেউ নন যিনি, অভিনেতা-অভিনেত্রী, শিল্পী, গায়ক-গায়িকা ইত্যাদি হতে চান। সেই ব্যক্তি কেবলই রাজ্যের কথা ভাববেন, মানুষের কথা ভাববেন।

দল দেখে ভোট দেন, না কি প্রার্থী দেখে?
রাহুল: দল দেখে ভোট দিই। কারণ, প্রার্থী অনেক সময়েই দলবদল করেন। কিন্তু দলের একটি নির্দিষ্ট মতামত ও চরিত্র থাকে।

প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?
রাহুল: ভালই হয়। ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসকের তুলনায় অনেক কম সংখ্যক মানুষ পার্লামেন্ট বা বিধানসভায় যাওয়ার জন্য মনোনীত হন। ১৪০ কোটি মানুষের দেশে কত জন আর বিধায়ক-সাংসদ হন? তাই পরীক্ষা হলে ভাল হয়। জেতার পর প্রশিক্ষণও দরকার। আমরা কেন রাজনীতিকে মানুষের সেবা বলে চালিয়ে তার পিছনে এত নোংরামি করতে থাকি? তার বদলে সম্পূর্ণ ভাবে এটিকে একটি পেশা হিসেবে নিয়ে তার জন্য পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ ইত্যাদির বন্দোবস্ত করা হোক না কেন!

নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?
রাহুল: অযোগ্যেরা যাতে বিধায়ক না হন, সেটার চেষ্টা করতাম নিজে বিধায়ক হলে। আমি বিধায়ক হলেও তো অযোগ্যই হব। আমি যদি বিধায়ক হয়ে যাই, তা হলে নিশ্চয়ই কোথাও কোনও গলদ আছে। তাই এই পরিস্থিতিকেই বদলাতে চাই।

আপনার পেশার জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?
রাহুল: ইন্ডাস্ট্রিতে অভাব-অভিযোগের তালিকা অন্তহীন। কিন্তু তার বাইরে আমাদের অভাব-অভিযোগ আরও বৃহৎ। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, চাকরির মতো বিষয়কে পার করে ছবির দুনিয়াকে অতটা গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন দেখি না। এই নিয়ে ভাবাটা তৃতীয় বিশ্বে বসে খানিক বাতুলতা হয়ে যাবে।

নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?
রাহুল: অত ‘টেকনিক্যাল’ বিষয় নিয়ে সে ভাবে ভাবিনি কখনও। অভিনয় করি, মাঝেমাঝে লিখি। এই দিকগুলি নিয়ে বলার জন্য প্রস্তুতি দরকার। তবে হ্যাঁ, স্থানীয়দের সচেতনতা সবার আগে জরুরি। তা ছাড়া, বেশি দফায় করলে হয়তো ভাল হত। তাতে পুলিশি পাহারার সংখ্যা বাড়ত। এর বাইরে বিশেষ কিছু জানি না। যে কারণে বললাম, আমি অযোগ্য বিধায়ক।

ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?
রাহুল: কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। তবে এটার উত্তর আমাদের ব্যালট বাক্সে দেওয়া উচিত। যিনি আমাদের আবেগ নিয়ে খেলছেন, তাঁর বিরুদ্ধে উত্তর ও ভাবেই দেওয়া যায় একমাত্র।

রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?
রাহুল: এই দেশের মানুষের আবেগ প্রচণ্ড বেশি। তাঁরা মাইকে বলা কথাকে খুব গুরুত্ব দেন। ফলে ঘৃণা ছড়ায় অনেক সহজে। সে কারণে এই বিষয়ে দায়িত্ববান হওয়া উচিত।

দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন না কি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
রাহুল: দেশজ সংস্কৃতির উন্নয়নের মাধ্যমেই তো সমান অধিকার বা সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠা হবে। দেশজ সংস্কৃতির মধ্যে কাপড় তৈরিও পড়ে, চাষপ্রক্রিয়াও পড়ে। তাই দেশজ সংস্কৃতির উন্নয়ন হলে সমান অধিকার মিলবে। ভোটের প্রচারে তিনটিই খুব জরুরি।

ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?
রাহুল: ধোঁয়াশায় রয়েছি। এই মুহূর্তে সেটার প্রয়োজন আছে বটে। খুব তাড়াতাড়ি এই বিশাল জনসংখ্যাকে ওয়েলফেয়ারের দিকে নিয়ে যেতে পারব না আমরা। কর্মসংস্থানও করা যাবে না এত দ্রুত। তাই ভাতা প্রয়োজন এই মুহূর্তে।

প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?
রাহুল: কখনওই নয়। কেবল রাজনীতির ক্ষেত্রে না, কোনও ক্ষেত্রেই এমন পরিস্থিতি স্বাস্থ্যকর নয়। যদি এক জনই রাজা হন, তখন তাঁর অনুপস্থিতিতে গোটা ইন্ডাস্ট্রি ছারখার হয়ে যায়। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতেও এটা একসময়ে দেখা গিয়েছে। কোনও প্রকারের একচেটিয়া উপস্থিতি কাম্য নয় কোথাও।

তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?
রাহুল: নিশ্চয়ই! কিছু ক্ষেত্রে তো অবশ্যই তারকাদের দিয়ে ভোট টানা হয়। তবে কোনও কোনও ক্ষেত্রে হিতে বিপরীতও হতে পারে। তারকাদের দাঁড় করানোর পর ভোট কমে গিয়েছে, এমনও দেখা গিয়েছে।

পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?
রাহুল: বিমান বসু।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আনন্দবাজার ডট কম-এ শেষ সাক্ষাৎকার

অভিনেতা রাহুলের অপ্রকাশিত কথোপকথন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?
রাহুল: এমন কাউকে দেখতে চাই, যিনি কেবলই মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী হতে চান। এমন কেউ নন যিনি, অভিনেতা-অভিনেত্রী, শিল্পী, গায়ক-গায়িকা ইত্যাদি হতে চান। সেই ব্যক্তি কেবলই রাজ্যের কথা ভাববেন, মানুষের কথা ভাববেন।

দল দেখে ভোট দেন, না কি প্রার্থী দেখে?
রাহুল: দল দেখে ভোট দিই। কারণ, প্রার্থী অনেক সময়েই দলবদল করেন। কিন্তু দলের একটি নির্দিষ্ট মতামত ও চরিত্র থাকে।

প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?
রাহুল: ভালই হয়। ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসকের তুলনায় অনেক কম সংখ্যক মানুষ পার্লামেন্ট বা বিধানসভায় যাওয়ার জন্য মনোনীত হন। ১৪০ কোটি মানুষের দেশে কত জন আর বিধায়ক-সাংসদ হন? তাই পরীক্ষা হলে ভাল হয়। জেতার পর প্রশিক্ষণও দরকার। আমরা কেন রাজনীতিকে মানুষের সেবা বলে চালিয়ে তার পিছনে এত নোংরামি করতে থাকি? তার বদলে সম্পূর্ণ ভাবে এটিকে একটি পেশা হিসেবে নিয়ে তার জন্য পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ ইত্যাদির বন্দোবস্ত করা হোক না কেন!

নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?
রাহুল: অযোগ্যেরা যাতে বিধায়ক না হন, সেটার চেষ্টা করতাম নিজে বিধায়ক হলে। আমি বিধায়ক হলেও তো অযোগ্যই হব। আমি যদি বিধায়ক হয়ে যাই, তা হলে নিশ্চয়ই কোথাও কোনও গলদ আছে। তাই এই পরিস্থিতিকেই বদলাতে চাই।

আপনার পেশার জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?
রাহুল: ইন্ডাস্ট্রিতে অভাব-অভিযোগের তালিকা অন্তহীন। কিন্তু তার বাইরে আমাদের অভাব-অভিযোগ আরও বৃহৎ। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, চাকরির মতো বিষয়কে পার করে ছবির দুনিয়াকে অতটা গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন দেখি না। এই নিয়ে ভাবাটা তৃতীয় বিশ্বে বসে খানিক বাতুলতা হয়ে যাবে।

নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?
রাহুল: অত ‘টেকনিক্যাল’ বিষয় নিয়ে সে ভাবে ভাবিনি কখনও। অভিনয় করি, মাঝেমাঝে লিখি। এই দিকগুলি নিয়ে বলার জন্য প্রস্তুতি দরকার। তবে হ্যাঁ, স্থানীয়দের সচেতনতা সবার আগে জরুরি। তা ছাড়া, বেশি দফায় করলে হয়তো ভাল হত। তাতে পুলিশি পাহারার সংখ্যা বাড়ত। এর বাইরে বিশেষ কিছু জানি না। যে কারণে বললাম, আমি অযোগ্য বিধায়ক।

ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?
রাহুল: কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। তবে এটার উত্তর আমাদের ব্যালট বাক্সে দেওয়া উচিত। যিনি আমাদের আবেগ নিয়ে খেলছেন, তাঁর বিরুদ্ধে উত্তর ও ভাবেই দেওয়া যায় একমাত্র।

রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?
রাহুল: এই দেশের মানুষের আবেগ প্রচণ্ড বেশি। তাঁরা মাইকে বলা কথাকে খুব গুরুত্ব দেন। ফলে ঘৃণা ছড়ায় অনেক সহজে। সে কারণে এই বিষয়ে দায়িত্ববান হওয়া উচিত।

দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন না কি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
রাহুল: দেশজ সংস্কৃতির উন্নয়নের মাধ্যমেই তো সমান অধিকার বা সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠা হবে। দেশজ সংস্কৃতির মধ্যে কাপড় তৈরিও পড়ে, চাষপ্রক্রিয়াও পড়ে। তাই দেশজ সংস্কৃতির উন্নয়ন হলে সমান অধিকার মিলবে। ভোটের প্রচারে তিনটিই খুব জরুরি।

ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?
রাহুল: ধোঁয়াশায় রয়েছি। এই মুহূর্তে সেটার প্রয়োজন আছে বটে। খুব তাড়াতাড়ি এই বিশাল জনসংখ্যাকে ওয়েলফেয়ারের দিকে নিয়ে যেতে পারব না আমরা। কর্মসংস্থানও করা যাবে না এত দ্রুত। তাই ভাতা প্রয়োজন এই মুহূর্তে।

প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?
রাহুল: কখনওই নয়। কেবল রাজনীতির ক্ষেত্রে না, কোনও ক্ষেত্রেই এমন পরিস্থিতি স্বাস্থ্যকর নয়। যদি এক জনই রাজা হন, তখন তাঁর অনুপস্থিতিতে গোটা ইন্ডাস্ট্রি ছারখার হয়ে যায়। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতেও এটা একসময়ে দেখা গিয়েছে। কোনও প্রকারের একচেটিয়া উপস্থিতি কাম্য নয় কোথাও।

তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?
রাহুল: নিশ্চয়ই! কিছু ক্ষেত্রে তো অবশ্যই তারকাদের দিয়ে ভোট টানা হয়। তবে কোনও কোনও ক্ষেত্রে হিতে বিপরীতও হতে পারে। তারকাদের দাঁড় করানোর পর ভোট কমে গিয়েছে, এমনও দেখা গিয়েছে।

পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?
রাহুল: বিমান বসু।