ঢাকা ০৫:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জঙ্গল সলিমপুর ঘিরে দেড় হাজার পুলিশের অভিযান

সাজ্জাদ-ইয়াসিনের নেটওয়ার্কে মরণকামড়

চট্টগ্রাম ব্যুরো
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফজরের নামাজের আগেই কঠোর গোপনীয়তায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ ও বিশেষ বাহিনীর অন্তত দেড় হাজার সদস্য একযোগে অভিযানে নেমেছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি নির্দিষ্ট এলাকাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এত বড় আকারের সমন্বিত অভিযান আর দেখা যায়নি।

ফজরের আগেই জঙ্গল সলিমপুর ঘিরে দেড় হাজার পুলিশের অভিযান শুরু, সঙ্গে সেনা-র‍্যাবও 1

সোমবার (৯ মার্চ) দিবাগত রাতে চারদিকের সবগুলো প্রবেশমুখ ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাহিনীর সদস্যরা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে জঙ্গল সলিমপুরের ভেতরে ঢুকতে শুরু করেছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে শুরু হওয়া এই কঠোর অভিযান সোমবার ভোর থেকে শুরু হয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত চলবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এই অভিযানে অংশ নিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ৮০০ সদস্য এবং রেঞ্জ পুলিশের ৭০০ সদস্যসহ মোট দেড় হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য রওনা হন। পুলিশের পাশাপাশি যৌথ এই বাহিনীতে র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন।

রাত চারটার দিকে নগরীর আগ্রাবাদ ছোটপুল পুলিশ লাইন্স থেকে পুলিশ সদস্যরা জঙ্গল সলিমপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। একই সময়ে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যৌথবাহিনীর অন্য সদস্যরাও এলাকাটির দিকে অগ্রসর হন।

লক্ষ্য সাজ্জাদ-ইয়াসিন বাহিনীর নেটওয়ার্ক

এই অভিযানের মূল লক্ষ্য চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান, ওরফে বড় সাজ্জাদের বাহিনীর নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকাভুক্ত অনেক সন্ত্রাসীর বসবাস রয়েছে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায়। কয়েকটি গ্রুপ এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে রয়েছে ইয়াসিন গ্রুপ, রোকন গ্রুপ ও রিদোয়ান গ্রুপ। এদের মধ্যে ইয়াসিন গ্রুপকে সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এলাকার বেশিরভাগ অংশ তাদের দখলে রয়েছে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরকে অনেকেই ‘দেশের ভেতর আরেক দেশ’ এবং ‘সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে বর্ণনা করেন। চট্টগ্রাম শহর থেকে সেখানে যেতে সময় লাগে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট। বায়েজিদ লিংক রোডের উত্তর পাশে প্রায় তিন হাজার ১০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই এলাকা। বর্তমানে সেখানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বাড়ি রয়েছে, যেখানে অন্তত এক থেকে দেড় লাখ মানুষের বসবাস। বাসিন্দাদের বড় অংশই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে বসতি গড়েছেন।

এলাকাটি পাহাড়ি ও দুর্গম হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রবেশ দীর্ঘদিন ধরেই কঠিন ছিল। সেই সুযোগে এটি অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে অবস্থান নিয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

র‍্যাবের ওপর হামলার পর নতুন অভিযান

গত ১৯ জানুয়ারি কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে সেখানে অভিযান চালাতে গেলে সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়ে র‍্যাব। সে সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে র‍্যাবের দুটি মাইক্রোবাস ধাওয়া করা হয় এবং গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। র‍্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে গুলিও চালানো হয়।

এক পর্যায়ে হামলাকারীরা র‍্যাবের কয়েকজন সদস্যকে মারধর করে এবং তাদের অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব–৭-এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। এ ঘটনায় আরও তিনজন র‍্যাব সদস্য আহত হন।

র‍্যাব জানায়, ওই হামলায় অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ জন অংশ নিয়েছিল। ঘটনার পর র‍্যাব ও পুলিশের পক্ষ থেকে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য জোরালো অভিযানের প্রস্তুতির কথা বলা হলেও তখন বড় ধরনের অভিযান দেখা যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জঙ্গল সলিমপুর ঘিরে দেড় হাজার পুলিশের অভিযান

সাজ্জাদ-ইয়াসিনের নেটওয়ার্কে মরণকামড়

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

ফজরের নামাজের আগেই কঠোর গোপনীয়তায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ ও বিশেষ বাহিনীর অন্তত দেড় হাজার সদস্য একযোগে অভিযানে নেমেছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি নির্দিষ্ট এলাকাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এত বড় আকারের সমন্বিত অভিযান আর দেখা যায়নি।

ফজরের আগেই জঙ্গল সলিমপুর ঘিরে দেড় হাজার পুলিশের অভিযান শুরু, সঙ্গে সেনা-র‍্যাবও 1

সোমবার (৯ মার্চ) দিবাগত রাতে চারদিকের সবগুলো প্রবেশমুখ ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাহিনীর সদস্যরা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে জঙ্গল সলিমপুরের ভেতরে ঢুকতে শুরু করেছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে শুরু হওয়া এই কঠোর অভিযান সোমবার ভোর থেকে শুরু হয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত চলবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এই অভিযানে অংশ নিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ৮০০ সদস্য এবং রেঞ্জ পুলিশের ৭০০ সদস্যসহ মোট দেড় হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য রওনা হন। পুলিশের পাশাপাশি যৌথ এই বাহিনীতে র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন।

রাত চারটার দিকে নগরীর আগ্রাবাদ ছোটপুল পুলিশ লাইন্স থেকে পুলিশ সদস্যরা জঙ্গল সলিমপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। একই সময়ে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যৌথবাহিনীর অন্য সদস্যরাও এলাকাটির দিকে অগ্রসর হন।

লক্ষ্য সাজ্জাদ-ইয়াসিন বাহিনীর নেটওয়ার্ক

এই অভিযানের মূল লক্ষ্য চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান, ওরফে বড় সাজ্জাদের বাহিনীর নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকাভুক্ত অনেক সন্ত্রাসীর বসবাস রয়েছে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায়। কয়েকটি গ্রুপ এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে রয়েছে ইয়াসিন গ্রুপ, রোকন গ্রুপ ও রিদোয়ান গ্রুপ। এদের মধ্যে ইয়াসিন গ্রুপকে সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এলাকার বেশিরভাগ অংশ তাদের দখলে রয়েছে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরকে অনেকেই ‘দেশের ভেতর আরেক দেশ’ এবং ‘সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে বর্ণনা করেন। চট্টগ্রাম শহর থেকে সেখানে যেতে সময় লাগে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট। বায়েজিদ লিংক রোডের উত্তর পাশে প্রায় তিন হাজার ১০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই এলাকা। বর্তমানে সেখানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বাড়ি রয়েছে, যেখানে অন্তত এক থেকে দেড় লাখ মানুষের বসবাস। বাসিন্দাদের বড় অংশই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে বসতি গড়েছেন।

এলাকাটি পাহাড়ি ও দুর্গম হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রবেশ দীর্ঘদিন ধরেই কঠিন ছিল। সেই সুযোগে এটি অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে অবস্থান নিয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

র‍্যাবের ওপর হামলার পর নতুন অভিযান

গত ১৯ জানুয়ারি কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে সেখানে অভিযান চালাতে গেলে সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়ে র‍্যাব। সে সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে র‍্যাবের দুটি মাইক্রোবাস ধাওয়া করা হয় এবং গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। র‍্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে গুলিও চালানো হয়।

এক পর্যায়ে হামলাকারীরা র‍্যাবের কয়েকজন সদস্যকে মারধর করে এবং তাদের অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব–৭-এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। এ ঘটনায় আরও তিনজন র‍্যাব সদস্য আহত হন।

র‍্যাব জানায়, ওই হামলায় অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ জন অংশ নিয়েছিল। ঘটনার পর র‍্যাব ও পুলিশের পক্ষ থেকে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য জোরালো অভিযানের প্রস্তুতির কথা বলা হলেও তখন বড় ধরনের অভিযান দেখা যায়নি।