ঢাকা ০৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধে টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি, বিনিয়োগ পুনর্বিবেচনায় উপসাগরীয় দেশগুলো

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৪০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব এখন বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Financial Times–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের বিদেশি বিনিয়োগ, বাণিজ্যিক প্রতিশ্রুতি এবং চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা করছে।

বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন

মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে থাকা Saudi Arabia, United Arab Emirates, Kuwait এবং Qatar–এর নীতিনির্ধারকরা চলমান বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি ও বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোর ঝুঁকি নতুন করে যাচাই করছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে চুক্তির দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিধান—“ফোর্স মাজ্যুর ” ধারা প্রয়োগ করা যাবে কি না তা নিয়েও এসব দেশের অভ্যন্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এর ফলে বিদেশি সরকার ও কোম্পানিগুলোর সঙ্গে করা বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক চুক্তি এবং বড় স্পোর্টস স্পনসরশিপ চুক্তিগুলোর ওপরও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ছে, কমছে জ্বালানি রপ্তানি

বর্তমান সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতে কয়েকটি বড় চাপ তৈরি হয়েছে—

প্রতিরক্ষা ব্যয় দ্রুত বাড়ছে, জ্বালানি রপ্তানি কমে যাচ্ছে, সরকারি বাজেটে আর্থিক চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের নজরও রয়েছে বলে জানিয়েছে White House।

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ধীরগতি

সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ Strait of Hormuz–এ। এখানে কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জাহাজ চলাচল ধীর হয়ে গেছে।

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে এ পথে অস্থিরতা বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও চাপ সৃষ্টি করছে।

পর্যটন ও বিমান চলাচলেও ধাক্কা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল জোটের সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে—

পর্যটন খাতে

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায়, আঞ্চলিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও চাপ বাড়তে পারে।

গত বছর মধ্যপ্রাচ্য সফরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রম্প –এর কাছে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকশো বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই বিনিয়োগের গতি কমে গেলে ওয়াশিংটনের ওপরও সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোনোর চাপ বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মহলও এই সামরিক সংঘাতের সমালোচনা শুরু করেছে। দুবাইয়ের বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী Khalaf Ahmad Al Habtoor সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন—ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক ক্ষতির হিসাব করা হয়েছিল কি না।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু আঞ্চলিক অর্থনীতিতেই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, বিনিয়োগ প্রবাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও বড় ধাক্কা দিতে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলো তাই নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বিনিয়োগ ও চুক্তিগুলো নতুন করে মূল্যায়ন করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

যুদ্ধে টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি, বিনিয়োগ পুনর্বিবেচনায় উপসাগরীয় দেশগুলো

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৪০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব এখন বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Financial Times–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের বিদেশি বিনিয়োগ, বাণিজ্যিক প্রতিশ্রুতি এবং চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা করছে।

বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন

মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে থাকা Saudi Arabia, United Arab Emirates, Kuwait এবং Qatar–এর নীতিনির্ধারকরা চলমান বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি ও বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোর ঝুঁকি নতুন করে যাচাই করছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে চুক্তির দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিধান—“ফোর্স মাজ্যুর ” ধারা প্রয়োগ করা যাবে কি না তা নিয়েও এসব দেশের অভ্যন্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এর ফলে বিদেশি সরকার ও কোম্পানিগুলোর সঙ্গে করা বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক চুক্তি এবং বড় স্পোর্টস স্পনসরশিপ চুক্তিগুলোর ওপরও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ছে, কমছে জ্বালানি রপ্তানি

বর্তমান সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতে কয়েকটি বড় চাপ তৈরি হয়েছে—

প্রতিরক্ষা ব্যয় দ্রুত বাড়ছে, জ্বালানি রপ্তানি কমে যাচ্ছে, সরকারি বাজেটে আর্থিক চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের নজরও রয়েছে বলে জানিয়েছে White House।

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ধীরগতি

সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ Strait of Hormuz–এ। এখানে কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জাহাজ চলাচল ধীর হয়ে গেছে।

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে এ পথে অস্থিরতা বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও চাপ সৃষ্টি করছে।

পর্যটন ও বিমান চলাচলেও ধাক্কা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল জোটের সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে—

পর্যটন খাতে

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায়, আঞ্চলিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও চাপ বাড়তে পারে।

গত বছর মধ্যপ্রাচ্য সফরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রম্প –এর কাছে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকশো বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই বিনিয়োগের গতি কমে গেলে ওয়াশিংটনের ওপরও সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোনোর চাপ বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মহলও এই সামরিক সংঘাতের সমালোচনা শুরু করেছে। দুবাইয়ের বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী Khalaf Ahmad Al Habtoor সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন—ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক ক্ষতির হিসাব করা হয়েছিল কি না।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু আঞ্চলিক অর্থনীতিতেই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, বিনিয়োগ প্রবাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও বড় ধাক্কা দিতে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলো তাই নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বিনিয়োগ ও চুক্তিগুলো নতুন করে মূল্যায়ন করছে।