ইমাম, পুরোহিত, যাজকেরা ভাতা পাবেন
ভোটের প্রতিশ্রুতি পূরণে এগোচ্ছে বিএনপি
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৯:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার ও গির্জার ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক ভাতা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকার প্রধান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন জানিয়েছে, পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচি চালু করা হবে এবং পবিত্র ঈদ উল ফিতর-এর আগেই প্রথম পর্যায়ে ভাতা প্রদান শুরু হবে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, মসজিদের ইমামরা মাসে ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনরা ৩ হাজার টাকা এবং খাদেমরা ২ হাজার টাকা করে সাম্মানিক ভাতা পাবেন। একইভাবে অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্যও সমমানের ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্দিরের পুরোহিতদের জন্য ৫ হাজার টাকা এবং সেবায়েতদের জন্য ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষরা পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং উপাধ্যক্ষরা ৩ হাজার টাকা। গির্জার যাজকেরা পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী যাজকেরা ৩ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা পাবেন।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহার এবং ৩৯৬টি গির্জা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তদের ধাপে ধাপে এই ভাতা কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
উৎসব ভাতার ব্যবস্থাও থাকছে
মাসিক ভাতার পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বিশেষ ভাতাও দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পবিত্র ঈদ উল ফিতর এবং ঈদ উল আজহা উপলক্ষে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য অতিরিক্ত এক হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। অন্যদিকে দুর্গাপূজা, বুদ্ধ পূর্ণিমা এবং বড়দিন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তদের দুই হাজার টাকা করে বিশেষ ভাতা দেওয়া হবে।
ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচি চালু করা হলেও আগামী চার অর্থবছরের মধ্যে সারা দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এই সাম্মানিক প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মহম্মদ ইসমাইল জবিউল্লাহ জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। আগামী ১৪ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে এবং ১৫ মার্চ থেকে ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা প্রথম ভাতা পাবেন।
সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য ভাতা চালু হলে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের একই কাঠামোর আওতায় আনার মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতির বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই কর্মসূচি কার্যকর রাখতে প্রয়োজন হবে স্বচ্ছ তালিকা, নির্ভুল তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা এবং বাজেটের টেকসই পরিকল্পনা।





















