২২ দিনের নবজাতকে হত্যা: আদালতে পিতার স্বীকারোক্তি
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৪৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় ২২ দিনের নবজাতক মোস্তাসির শেখ–কে হত্যা করে পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের ভেতর মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় তার বাবা নাহিদুর রহমান শেখ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অপূর্ব বালা–এর আদালতে তিনি এ জবানবন্দি দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিঘলিয়া থানা পুলিশ–এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহআলম।
ওসি জানান, চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নাহিদুর তার অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ ঘটনায় নবজাতকের মা মুর্শিদা আক্তার মৌ বাদী হয়ে গত বুধবার দিঘলিয়া থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২ মার্চ বিকেলে নাহিদুর শ্বশুরবাড়িতে যান। পরদিন সকালে তিনি শিশুটিকে কোলে নিয়ে ঘরের বাইরে বের হন। অভিযোগ রয়েছে, পরে তিনি শিশুটিকে হত্যা করে পাশের বাড়ির পেছনে একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের ভেতর মাটিচাপা দিয়ে রাখেন।
পরে ঘরে ফিরে স্ত্রীকে জানান, শিশুকে বাড়িতে রেখে এসেছেন এবং মোটরসাইকেলে করে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে তিনি শিশুটিকে ফরিদপুরে পাওয়া যাবে বলে জানান। তবে ফরিদপুরের কাছাকাছি গেলে অসুস্থতার কথা বলে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করলে স্ত্রী চিৎকার করে জানান যে তার স্বামী সন্তানকে হত্যা করেছেন। তখন হাসপাতালের কর্মীরা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
পরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ বিষয়টি দিঘলিয়া থানাকে জানায়। পরবর্তীতে ৩ মার্চ রাত ১০টার দিকে দিঘলিয়ার লাখোহাটি গ্রামে একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার নাহিদুর দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি গ্রামের বাসিন্দা মাসুদুর রহমান শেখের ছেলে। প্রায় দেড় বছর আগে লাখোহাটি গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে মুর্শিদা আক্তার মৌয়ের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সন্তান জন্মের পর থেকে মুর্শিদা বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।























