ঢাকা ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত, পাম্প মালিককে ৯০ জরিমানা

মাসুদ রানা, পাবনা
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাবনায় জাহাঙ্গীর আলম ওরফে আলম হাজীর ‘অবৈধ’ পেট্রোল পাম্পে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুতের দায়ে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।।

তবে এই পাম্পটির বৈধ কাগজপত্র নেই এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হয়েছে উল্লেখ করে স্থানীয়রা বলেন, প্রভাবশালী ও বিত্তবান হওয়ায় অভিযুক্তকে লঘু দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে অবৈধ তেল মজুত করে হাতে নাতে ধরা পড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আলীম এ শাস্তি দেন। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম ওরফে আলম হাজী পাবনা জেলা জামায়াতের রোকন ও হেমায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ইসলামপুর গ্রামের জামে মসজিদ সংলগ্ন একটি বড় ট্যাংকিতে গোপনে বিপুল পরিমাণ তেল মজুত করে রাখা হয়েছিল। সরকারের নজর এড়িয়ে এসব তেল সংরক্ষণ ও বাণিজ্যের মাধ্যমে বাজারে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ পাওয়া যায়।

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বিকেল তিনটার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আলীমের নেতৃত্বে ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম হাজীর তেল পাম্পে অভিযান শুরু করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

দীর্ঘ দুই ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে পাম্পটিতে ব্যাপক অনিয়ম ও অবৈধভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে প্লাস্টিকের ট্যাংকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুতকৃত অবস্থায় পান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় পাম্প কর্তৃপক্ষ পেট্রোল মজুত ও বিক্রির স্বপক্ষে আইনগত অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত এ সময় পাম্প পরিচালক আলম হাজীর ভাই আব্দুল হান্নানকে কয়েকটি ধারায় ৯০ হাজার টাকা জরিমানার দণ্ড প্রদান করেন।

এদিকে, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও তেল বিপণনে অনুমোদন ছাড়াই অবৈধ মজুমদারের গুরুতর অপরাধ করা সত্ত্বেও কারাদণ্ড বা ফৌজদারি মামলা না দিয়ে মাত্র ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

তাদের অভিযোগ, সঠিক কাগজপত্র ছাড়া তেল পাম্প পরিচালনা এবং অপরাধের পুনরাবৃত্তি করা সত্ত্বেও প্রভাবশালী ও বিত্তবান হওয়ায় অভিযুক্তকে লঘু দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গোয়েন্দা তথ্যের হাতে নাতে প্রমাণ পাওয়ার পরেও প্রশাসনের এমন নমনীয়তা সন্দেহজনক। লাইসেন্স ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাম্পে অবৈধ কারবার করেন আলম হাজী।

২০২১ সালে নভেম্বর মাসে পাম্পটিতে বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক দগ্ধ হয়ে মারা যান। সে সময় ঝুঁকিপূর্ণ ও নিয়ম না মেনে অবৈধ পাম্প পরিচালনার বিষয়টি সামনে এলে চাপে পড়েন জাহাঙ্গীর আলম। কিন্তু পরবর্তীতে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আবারও অবৈধ ব্যাবসা পরিচালনা করছিলেন তিনি।

বারবার অপরাধ করে ধরা পড়ার পরও অজ্ঞাত কারণে অল্প কিছু টাকা জরিমানা ও নামকাওয়াস্তে সতর্ক করে চলে যায় প্রশাসনের লোকজন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আলীম বলেন, ‘অবৈধ কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের আইন অনুযায়ী সতর্ক ও জরিমানা করে, কাগজপত্র শুধরে নিতে সময় দেওয়া হয়েছে।

আমরা এই পাম্পটি নজরদারিতে রেখেছি। অপরাধের পুনরাবৃত্তির বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। সংশোধন না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে জামায়াত সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ওরফে আলম হাজী সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা তার ছোট ভাই আব্দুল হান্নান দেখাশুনা করেন। তবে তার সকল কাগজপত্র আছে বলে তিনি দাবি করেন। এর বেশি কথা বলতে রাজি হননি তিনি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত, পাম্প মালিককে ৯০ জরিমানা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

পাবনায় জাহাঙ্গীর আলম ওরফে আলম হাজীর ‘অবৈধ’ পেট্রোল পাম্পে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুতের দায়ে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।।

তবে এই পাম্পটির বৈধ কাগজপত্র নেই এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হয়েছে উল্লেখ করে স্থানীয়রা বলেন, প্রভাবশালী ও বিত্তবান হওয়ায় অভিযুক্তকে লঘু দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে অবৈধ তেল মজুত করে হাতে নাতে ধরা পড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আলীম এ শাস্তি দেন। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম ওরফে আলম হাজী পাবনা জেলা জামায়াতের রোকন ও হেমায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ইসলামপুর গ্রামের জামে মসজিদ সংলগ্ন একটি বড় ট্যাংকিতে গোপনে বিপুল পরিমাণ তেল মজুত করে রাখা হয়েছিল। সরকারের নজর এড়িয়ে এসব তেল সংরক্ষণ ও বাণিজ্যের মাধ্যমে বাজারে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ পাওয়া যায়।

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বিকেল তিনটার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আলীমের নেতৃত্বে ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম হাজীর তেল পাম্পে অভিযান শুরু করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

দীর্ঘ দুই ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে পাম্পটিতে ব্যাপক অনিয়ম ও অবৈধভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে প্লাস্টিকের ট্যাংকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুতকৃত অবস্থায় পান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় পাম্প কর্তৃপক্ষ পেট্রোল মজুত ও বিক্রির স্বপক্ষে আইনগত অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত এ সময় পাম্প পরিচালক আলম হাজীর ভাই আব্দুল হান্নানকে কয়েকটি ধারায় ৯০ হাজার টাকা জরিমানার দণ্ড প্রদান করেন।

এদিকে, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও তেল বিপণনে অনুমোদন ছাড়াই অবৈধ মজুমদারের গুরুতর অপরাধ করা সত্ত্বেও কারাদণ্ড বা ফৌজদারি মামলা না দিয়ে মাত্র ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

তাদের অভিযোগ, সঠিক কাগজপত্র ছাড়া তেল পাম্প পরিচালনা এবং অপরাধের পুনরাবৃত্তি করা সত্ত্বেও প্রভাবশালী ও বিত্তবান হওয়ায় অভিযুক্তকে লঘু দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গোয়েন্দা তথ্যের হাতে নাতে প্রমাণ পাওয়ার পরেও প্রশাসনের এমন নমনীয়তা সন্দেহজনক। লাইসেন্স ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাম্পে অবৈধ কারবার করেন আলম হাজী।

২০২১ সালে নভেম্বর মাসে পাম্পটিতে বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক দগ্ধ হয়ে মারা যান। সে সময় ঝুঁকিপূর্ণ ও নিয়ম না মেনে অবৈধ পাম্প পরিচালনার বিষয়টি সামনে এলে চাপে পড়েন জাহাঙ্গীর আলম। কিন্তু পরবর্তীতে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আবারও অবৈধ ব্যাবসা পরিচালনা করছিলেন তিনি।

বারবার অপরাধ করে ধরা পড়ার পরও অজ্ঞাত কারণে অল্প কিছু টাকা জরিমানা ও নামকাওয়াস্তে সতর্ক করে চলে যায় প্রশাসনের লোকজন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আলীম বলেন, ‘অবৈধ কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের আইন অনুযায়ী সতর্ক ও জরিমানা করে, কাগজপত্র শুধরে নিতে সময় দেওয়া হয়েছে।

আমরা এই পাম্পটি নজরদারিতে রেখেছি। অপরাধের পুনরাবৃত্তির বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। সংশোধন না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে জামায়াত সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ওরফে আলম হাজী সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা তার ছোট ভাই আব্দুল হান্নান দেখাশুনা করেন। তবে তার সকল কাগজপত্র আছে বলে তিনি দাবি করেন। এর বেশি কথা বলতে রাজি হননি তিনি।’