ইরানের আচমকা সুর নরম: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মোড়
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:০৭:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার ধাক্কা সারা অঞ্চলে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে শুরু হওয়া ইরানের প্রতিহিংসামূলক হামলা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, বাহরিন, ওমান ও জর্ডনসহ বিভিন্ন দেশেই তেহরানের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল।
কিন্তু আচমকা শনিবার (৭ মার্চ) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঘোষনা দিলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর উপর আর নতুন হামলা চালানো হবে না। তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেন, “দেশের অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির উপর নতুন করে হামলা না চালানোর সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছে। যদি ইরান সরাসরি তাদের দ্বারা আক্রান্ত না হয়, তাহলে তেহরানও আর হামলা চালাবে না।” তিনি আরও জানান, “অন্য দেশগুলিকে আক্রমণ করার আমাদের কোনো ইচ্ছা নেই। সাম্প্রতিক হামলার জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।” তবে পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করেছেন, তেহরান আত্মসমর্পণ করবে না।
নেপথ্য কূটনৈতিক কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আচমকা সুর নরম করার পেছনে রয়েছে কূটনৈতিক চাল। তেহরান বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘একঘরে’ হয়ে পড়েছে। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইরানের প্রত্যাশিত সমর্থন পাচ্ছে না। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার, বাহরিনসহ অনেক আরব দেশ সরাসরি ইরানকে সমর্থন করতে নারাজ। তাদের যুক্তি—আমেরিকা ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অস্থিরতা যাতে তাদের দেশে ছড়িয়ে না পড়ে।
শিয়া-সুন্নি বিভাজনও ইরানের অবস্থানকে জটিল করেছে। ইরান প্রধানত শিয়া রাষ্ট্র, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ আরব দেশ সুন্নি প্রধান। সাম্প্রদায়িক এই বিভাজন ইরানের কূটনৈতিক প্রত্যাশাকে সীমিত করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের হঠাৎ নরম হওয়া কৌশলগতভাবে মুসলিম বিশ্বকে পাশে পেতে চাওয়া। তেহরান চাইছে, কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক উত্তেজনা তাদের একা ফেলে না দিক। তবে সাম্প্রতিক আক্রমণ ও প্রতিশোধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য এখনও উত্তপ্ত। সামরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে।
এছাড়া, ইরানের এই পদক্ষেপের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শিথিল হলেও, দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক সমঝোতার ওপর পুরো অঞ্চলই নির্ভরশীল হয়ে থাকবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন ইরানের জন্য সঠিক কৌশল হলো কূটনৈতিক পথ খুঁজে উত্তেজনা কমানো এবং অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর সমর্থন অর্জন করা।





















