ইরানকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া? নতুন প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর দাবি
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪৬:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে রাশিয়া বা চীন সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না—এমন মন্তব্য করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তবে নতুন এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রকাশ্যে যুদ্ধে না নামলেও মস্কো নীরবে তেহরানকে সহায়তা করছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Washington Post–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে ইরানকে সহায়তা করছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই সহায়তা ছাড়া যুদ্ধে ইরানের পক্ষে এতটা কার্যকরভাবে পাল্টা আঘাত হানা কঠিন হতো।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর পর তেহরানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়লেও দেশটি পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।
রিপোর্টে বলা হয়, ইরান পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে লক্ষ্যভেদী হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় কয়েকটি ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
গত রবিবার কুয়েত–এর শুয়াবিয়া বন্দরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, ওমান, বাহরিন, ইরাক এবং জর্ডন–এও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
রাশিয়ার সামরিক বিশ্লেষক দারা ম্যাসিকট বলেন, ইরান অত্যন্ত পরিকল্পিত ও নিখুঁত হামলা চালাচ্ছে। তার মতে, ইরানের নিজস্ব সামরিক মানের স্যাটেলাইট সংখ্যা খুবই কম এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক নেই। তাই ধারণা করা হচ্ছে, উন্নত প্রযুক্তিগত সহায়তায় রাশিয়ার ভূমিকা থাকতে পারে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সংঘাতের পরও রাশিয়া ও চীন সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর কথা না বললেও ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
চীন জানিয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে—এমন কোনো প্রমাণ তাদের কাছে নেই। পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সংঘাত বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তেহরান এখনো কোনো ধরনের নতি স্বীকারের ইঙ্গিত দেয়নি। বরং পাল্টা প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়ে হামলা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।
এদিকে ক্রেমলিন জানিয়েছে, ইরানের নেতাদের সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।






















