ঢাকা ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আরএসপির বড় জয়, প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ!

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নেপালের সাধারণ নির্বাচনে বড় জয় পেতে চলেছে তরুণ প্রজন্মের সমর্থিত দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। দলটির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ও কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বলেন্দ্র শাহ (বলেন) ঝাপা-৫ আসনে পরাজিত করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল) প্রধান কেপি শর্মা ওলিকে।

জেন জ়ি বা তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া গণআন্দোলনের জেরে গত ৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ওলির সরকারের পতনের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলেছে।

নেপালের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস’-এর ২৭৫ সদস্য নির্বাচনের জন্য বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ হয়। এর মধ্যে ১৬৫টি আসনে সরাসরি এবং ১১০টি আসনে সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রত্যক্ষ নির্বাচনের ফলাফল ও প্রবণতা অনুযায়ী, আরএসপি ১১২টি আসন পেতে যাচ্ছে, যা নেপালের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি বড় সাফল্য। অন্যদিকে কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল) পেয়েছে ১২টি আসন, প্রাচীন রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেস ১০টি এবং সাবেক মাওবাদী গেরিলা নেতা ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহাল (প্রচণ্ড)-এর দল নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি পেয়েছে ৬টি আসন।

রাজতন্ত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করা রাজেন্দ্র লিংডেনের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি মাত্র একটি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মিলিয়ে আরও কয়েকটি আসন পেতে পারে।

এদিকে সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে বাকি ১১০টি আসনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত অনুযায়ী দলগুলোকে সংসদ সদস্য দেওয়া হবে। ফলে বলেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে আরএসপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথ প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে ৩৫ বছর বয়সী বলেন্দ্রর সামনে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। নেপাল দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। ১৯৯০ সালের পর থেকে দেশটিতে প্রায় ৩২ বার সরকার পরিবর্তন হয়েছে।

দুর্নীতিমুক্ত শাসন, কর্মসংস্থান এবং স্বচ্ছ রাজনীতির দাবিতে গত সেপ্টেম্বরে তরুণদের আন্দোলনের জেরেই ওলি সরকারের পতন ঘটে। এরপরই প্রথমবারের মতো এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

অনেক পর্যবেক্ষক ওই আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-যুব আন্দোলনের মিল খুঁজে পেয়েছেন। বাংলাদেশে ওই আন্দোলনের পর নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠিত হলেও নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জনগণের আস্থা যায় পুরনো দল বিএনপির দিকেই।

তবে নেপালের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র—পুরনো রাজনৈতিক দলগুলোর পরিবর্তে নতুন দল ও নতুন নেতৃত্বের ওপরই আস্থা রেখেছে ভোটাররা।

উল্লেখ্য, বলেন্দ্র শাহ ২০২২ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচনে জয়ী হন। পরে গত ডিসেম্বরে তিনি সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী রবি লামিছানের প্রতিষ্ঠিত আরএসপিতে যোগ দেন এবং মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সেই তুলনামূলক নতুন দলটিই এবার নির্বাচনে বড় জয় পেতে চলেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আরএসপির বড় জয়, প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ!

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

নেপালের সাধারণ নির্বাচনে বড় জয় পেতে চলেছে তরুণ প্রজন্মের সমর্থিত দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। দলটির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ও কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বলেন্দ্র শাহ (বলেন) ঝাপা-৫ আসনে পরাজিত করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল) প্রধান কেপি শর্মা ওলিকে।

জেন জ়ি বা তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া গণআন্দোলনের জেরে গত ৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ওলির সরকারের পতনের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলেছে।

নেপালের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস’-এর ২৭৫ সদস্য নির্বাচনের জন্য বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ হয়। এর মধ্যে ১৬৫টি আসনে সরাসরি এবং ১১০টি আসনে সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রত্যক্ষ নির্বাচনের ফলাফল ও প্রবণতা অনুযায়ী, আরএসপি ১১২টি আসন পেতে যাচ্ছে, যা নেপালের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি বড় সাফল্য। অন্যদিকে কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল) পেয়েছে ১২টি আসন, প্রাচীন রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেস ১০টি এবং সাবেক মাওবাদী গেরিলা নেতা ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহাল (প্রচণ্ড)-এর দল নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি পেয়েছে ৬টি আসন।

রাজতন্ত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করা রাজেন্দ্র লিংডেনের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি মাত্র একটি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মিলিয়ে আরও কয়েকটি আসন পেতে পারে।

এদিকে সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে বাকি ১১০টি আসনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত অনুযায়ী দলগুলোকে সংসদ সদস্য দেওয়া হবে। ফলে বলেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে আরএসপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথ প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে ৩৫ বছর বয়সী বলেন্দ্রর সামনে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। নেপাল দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। ১৯৯০ সালের পর থেকে দেশটিতে প্রায় ৩২ বার সরকার পরিবর্তন হয়েছে।

দুর্নীতিমুক্ত শাসন, কর্মসংস্থান এবং স্বচ্ছ রাজনীতির দাবিতে গত সেপ্টেম্বরে তরুণদের আন্দোলনের জেরেই ওলি সরকারের পতন ঘটে। এরপরই প্রথমবারের মতো এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

অনেক পর্যবেক্ষক ওই আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-যুব আন্দোলনের মিল খুঁজে পেয়েছেন। বাংলাদেশে ওই আন্দোলনের পর নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠিত হলেও নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জনগণের আস্থা যায় পুরনো দল বিএনপির দিকেই।

তবে নেপালের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র—পুরনো রাজনৈতিক দলগুলোর পরিবর্তে নতুন দল ও নতুন নেতৃত্বের ওপরই আস্থা রেখেছে ভোটাররা।

উল্লেখ্য, বলেন্দ্র শাহ ২০২২ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচনে জয়ী হন। পরে গত ডিসেম্বরে তিনি সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী রবি লামিছানের প্রতিষ্ঠিত আরএসপিতে যোগ দেন এবং মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সেই তুলনামূলক নতুন দলটিই এবার নির্বাচনে বড় জয় পেতে চলেছে।