ডিএনসিসির তহবিল ঘিরে রহস্য: কোথায় গেল ১২৬০ কোটি টাকা?
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) তহবিলের প্রকৃত অবস্থা নিয়ে প্রশাসকদের বক্তব্যে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অসঙ্গতি। সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ দাবি করছেন, দায়িত্ব ছাড়ার সময় কর্পোরেশনের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে এক হাজার কোটির বেশি অর্থ রেখে গেছেন তিনি। কিন্তু বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের বক্তব্যে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র—তার মতে, সিটি কর্পোরেশনের ফান্ডে এখন রয়েছে মাত্র ২৫ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ জানান, এক বছরের চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ শেষে গত ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। তার দাবি, সেদিন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৬টি ব্যাংক হিসাবে মোট ১,২৬০ কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৩১১ টাকা ৬০ পয়সা জমা ছিল।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, দায়িত্ব ছাড়ার সময় একটি “সমৃদ্ধ” ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন রেখে গেছেন তিনি এবং আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান প্রশাসন শহর উন্নয়নে আরও ভালো কাজ করবে।
তবে এর ঠিক আগের দিন বুধবার (৪ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের দুই দিন আগে ১০ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রশাসক শেষ অফিস করেন এবং ওই দিন তিনি ৩৪টি ফাইলে সই করে যান।
বর্তমান প্রশাসকের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তহবিলে এখন রয়েছে মাত্র ২৫ কোটি টাকা। তার দাবি, কর্পোরেশনের আর্থিক অবস্থা বর্তমানে বেশ ভঙ্গুর এবং কার্যত কোনো কার্যকর ফান্ড অবশিষ্ট নেই।
মিল্টন আরও জানান, ইতোমধ্যে প্রায় ১,৪৭০ কোটি টাকার টেন্ডার দিয়ে ওয়ার্ক অর্ডার জারি করা হয়েছে, যার অর্থ পরিশোধের দায় এখন কর্পোরেশনের ওপরই পড়বে। ফলে সামনে বড় ধরনের আর্থিক চাপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে সাবেক ও বর্তমান প্রশাসকের বক্তব্যের মধ্যে এত বড় অঙ্কের পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো—তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক মহলে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ব্যাংক হিসাব, চলমান প্রকল্পের দায় এবং অনুমোদিত ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে না দেখলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হওয়া কঠিন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে কর্পোরেশনটির প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ এজাজ।





















