ঢাকা ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধের দাম চড়া: প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই খরচ ৩১ হাজার কোটি

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিংহ গর্জন’ শুরু হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। হামলার ঘটনায় ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনির মৃত্যুর খবর সামনে এলেও, যুদ্ধের আরেকটি বড় দিক এখন আলোচনায়—এর বিপুল আর্থিক ব্যয়।

বিভিন্ন রিপোর্ট বলছে, ইরানে হামলার প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকার সমান। অর্থাৎ যুদ্ধ শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হয়েছে ওয়াশিংটনকে।

মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)’–এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৯০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়েই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়, কারণ এই সময় ব্যবহার করা হয় উচ্চমূল্যের ক্ষেপণাস্ত্র, অত্যাধুনিক বোমা এবং উন্নত সামরিক প্রযুক্তি।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, প্যাট্রিয়টের মতো বিমান প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর সিস্টেম ব্যবহারে একাই ব্যয় হয়েছে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি যুদ্ধবিমান পরিচালনা ও আকাশপথে হামলা চালাতে আরও প্রায় ১২৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।

CSIS–এর হিসাব অনুযায়ী, মোট ব্যয়ের একটি অংশ মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটের মধ্যেই ধরা থাকলেও প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচ হয়েছে, যার জন্য আলাদা অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন হতে পারে। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে অতিরিক্ত বাজেটের দাবি জানাতে হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় দুই হাজারেরও বেশি ধরনের অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র পুনরায় মজুত করতেও যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হতে পারে প্রায় ৩.১ বিলিয়ন ডলার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তাহলে ব্যয়ের অঙ্ক আরও দ্রুত বাড়বে। সেই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে মার্কিন কংগ্রেসের কাছ থেকে অতিরিক্ত বাজেট অনুমোদন নিতে হতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি—উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানির দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে—সে অনুমোদন পাওয়া ট্রাম্প সরকারের জন্য সহজ হবে না বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ইরান যুদ্ধের দাম চড়া: প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই খরচ ৩১ হাজার কোটি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিংহ গর্জন’ শুরু হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। হামলার ঘটনায় ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনির মৃত্যুর খবর সামনে এলেও, যুদ্ধের আরেকটি বড় দিক এখন আলোচনায়—এর বিপুল আর্থিক ব্যয়।

বিভিন্ন রিপোর্ট বলছে, ইরানে হামলার প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকার সমান। অর্থাৎ যুদ্ধ শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হয়েছে ওয়াশিংটনকে।

মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)’–এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৯০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়েই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়, কারণ এই সময় ব্যবহার করা হয় উচ্চমূল্যের ক্ষেপণাস্ত্র, অত্যাধুনিক বোমা এবং উন্নত সামরিক প্রযুক্তি।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, প্যাট্রিয়টের মতো বিমান প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর সিস্টেম ব্যবহারে একাই ব্যয় হয়েছে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি যুদ্ধবিমান পরিচালনা ও আকাশপথে হামলা চালাতে আরও প্রায় ১২৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।

CSIS–এর হিসাব অনুযায়ী, মোট ব্যয়ের একটি অংশ মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটের মধ্যেই ধরা থাকলেও প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচ হয়েছে, যার জন্য আলাদা অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন হতে পারে। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে অতিরিক্ত বাজেটের দাবি জানাতে হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় দুই হাজারেরও বেশি ধরনের অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র পুনরায় মজুত করতেও যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হতে পারে প্রায় ৩.১ বিলিয়ন ডলার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তাহলে ব্যয়ের অঙ্ক আরও দ্রুত বাড়বে। সেই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে মার্কিন কংগ্রেসের কাছ থেকে অতিরিক্ত বাজেট অনুমোদন নিতে হতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি—উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানির দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে—সে অনুমোদন পাওয়া ট্রাম্প সরকারের জন্য সহজ হবে না বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।