জ্বালানি সংকট রোধে নতুন নিয়ম, বরাদ্দের বেশি তেল বিক্রি নিষিদ্ধ
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েলের পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক যানবাহনে ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সংগ্রহের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) শুক্রবার (৬ মার্চ) এক জরুরি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষণা করে, এখন থেকে একটি মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ ২ লিটার, প্রাইভেটকার সর্বোচ্চ ১০ লিটার পেট্রোল বা অকটেন নিতে পারবে। এছাড়া জিপ বা মাইক্রোবাসের জন্য ২০–২৫ লিটার, ডিজেলচালিত পিকআপ বা লোকাল বাসের জন্য ৭০–৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার ট্রাক বা বাসের জন্য সর্বোচ্চ ২০০–২২০ লিটার ডিজেল সংগ্রহের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তেলের মজুদ নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ডিলার ও ভোক্তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে মজুদ করছেন। এই কৃত্রিম সংকট ও আস্থার সংকট রোধ করতে বিক্রয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিপিসি জানিয়েছে, দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে কখনো আমদানি বিলম্বিত হলেও বর্তমানে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। সারাদেশে রেল ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে নিয়মিত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। দ্রুতই দেশে পর্যাপ্ত বাফার স্টক গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সংগ্রহের সময় কিছু শর্ত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভোক্তাকে ক্রয় রশিদ নিতে হবে, যেখানে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ থাকবে। পরবর্তী সংগ্রহে আগের ক্রয়ের রশিদ জমা দিতে হবে। প্রতিদিনের মজুদ ও বিক্রির তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোতে পাঠাতে হবে এবং কোনোভাবেই বরাদ্দের বেশি তেল বিক্রি করা যাবে না।
সরকার জানিয়েছে, সংকটের অজুহাতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া আইনত অপরাধ। বর্তমানে তেলের দাম বৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। দেশীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সকল ভোক্তা ও ডিলারের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।






















