ঢাকা ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাজারো প্রাণের বিনিময়ে গণতন্ত্রের ধারায় ফিরেছে বাংলাদেশ: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৫১:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ আবার গণতন্ত্রের ধারায় ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হলে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আরও সমৃদ্ধ হতে হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর দেশ গড়ে তুলতে হবে।

রাষ্ট্রপতি কৃষকদের উদ্দেশে বলেন, পাট চাষে আধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চ ফলনশীল পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। এতে উৎপাদন বাড়বে এবং পাট খাত আরও শক্তিশালী হবে।

উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাজারের চাহিদা বিবেচনায় আধুনিক, মানসম্মত ও ব্যবহারযোগ্য পাটজাত পণ্য উদ্ভাবনে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে সাশ্রয়ী মূল্যের পাটের ব্যাগ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে গুরুত্ব দিতে হবে। তরুণ প্রজন্মের প্রতি তার আহ্বান, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে শক্তিশালী করে বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে হবে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর জাতীয় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পাট দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

২০১৭ সাল থেকে প্রতি বছর ৬ মার্চ জাতীয়ভাবে পাট দিবস পালন করা হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “পাটশিল্প গড়ে তুলুন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন।”

দিবসটি উপলক্ষে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সারাদেশে নানা আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে ১৪ মার্চ পর্যন্ত ৯ দিনব্যাপী পাট ও বহুমুখী পাটপণ্যের মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ব্যানার ও ফেস্টুন টানানো হয়েছে।

এদিকে পাট দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, পাট বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। সোনালি আঁশের হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানিতে সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, অতীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন মিলগুলো দীর্ঘমেয়াদি ইজারায় বেসরকারি খাতে চালু রাখা হয়েছে। বর্তমানে ইজারাকৃত ৯টি মিলে প্রায় ৭ হাজার ২০০ শ্রমিক কাজ করছেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, কাঁচা পাট রপ্তানি তুলনামূলকভাবে কম লাভজনক। দীর্ঘদিন ধরে কাঁচাপাট রপ্তানির কারণে দেশীয় শিল্প অনেক সময় কাঁচামালের সংকটে পড়ে। অন্যদিকে ভারতসহ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের কাঁচা পাট ব্যবহার করে উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরি করে রপ্তানি করছে। এ কারণে প্রক্রিয়াজাত ও সমাপ্ত পাটপণ্য রপ্তানিতে প্রণোদনা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে উদ্যোক্তারা উচ্চমূল্য সংযোজনমুখী বিনিয়োগে আগ্রহী হন।

পাট খাতের উন্নয়নে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে পাট অধিদপ্তরের ১৫ ধরনের লাইসেন্স অনলাইনে প্রদান, পাট আইন সংশোধন, বিশেষ প্রণোদনা চালু, ‘জুট পোর্টাল’ চালু, শিল্প ও একাডেমিয়ার সমন্বয়, পৃথক টাস্কফোর্স গঠন এবং পাটশিল্পভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা। পাশাপাশি ‘গোল্ডেন ফাইবার অব বাংলাদেশ’ নামে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ের কাজও চলমান রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

হাজারো প্রাণের বিনিময়ে গণতন্ত্রের ধারায় ফিরেছে বাংলাদেশ: রাষ্ট্রপতি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৫১:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ আবার গণতন্ত্রের ধারায় ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হলে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আরও সমৃদ্ধ হতে হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর দেশ গড়ে তুলতে হবে।

রাষ্ট্রপতি কৃষকদের উদ্দেশে বলেন, পাট চাষে আধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চ ফলনশীল পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। এতে উৎপাদন বাড়বে এবং পাট খাত আরও শক্তিশালী হবে।

উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাজারের চাহিদা বিবেচনায় আধুনিক, মানসম্মত ও ব্যবহারযোগ্য পাটজাত পণ্য উদ্ভাবনে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে সাশ্রয়ী মূল্যের পাটের ব্যাগ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে গুরুত্ব দিতে হবে। তরুণ প্রজন্মের প্রতি তার আহ্বান, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে শক্তিশালী করে বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে হবে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর জাতীয় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পাট দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

২০১৭ সাল থেকে প্রতি বছর ৬ মার্চ জাতীয়ভাবে পাট দিবস পালন করা হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “পাটশিল্প গড়ে তুলুন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন।”

দিবসটি উপলক্ষে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সারাদেশে নানা আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে ১৪ মার্চ পর্যন্ত ৯ দিনব্যাপী পাট ও বহুমুখী পাটপণ্যের মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ব্যানার ও ফেস্টুন টানানো হয়েছে।

এদিকে পাট দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, পাট বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। সোনালি আঁশের হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানিতে সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, অতীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন মিলগুলো দীর্ঘমেয়াদি ইজারায় বেসরকারি খাতে চালু রাখা হয়েছে। বর্তমানে ইজারাকৃত ৯টি মিলে প্রায় ৭ হাজার ২০০ শ্রমিক কাজ করছেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, কাঁচা পাট রপ্তানি তুলনামূলকভাবে কম লাভজনক। দীর্ঘদিন ধরে কাঁচাপাট রপ্তানির কারণে দেশীয় শিল্প অনেক সময় কাঁচামালের সংকটে পড়ে। অন্যদিকে ভারতসহ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের কাঁচা পাট ব্যবহার করে উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরি করে রপ্তানি করছে। এ কারণে প্রক্রিয়াজাত ও সমাপ্ত পাটপণ্য রপ্তানিতে প্রণোদনা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে উদ্যোক্তারা উচ্চমূল্য সংযোজনমুখী বিনিয়োগে আগ্রহী হন।

পাট খাতের উন্নয়নে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে পাট অধিদপ্তরের ১৫ ধরনের লাইসেন্স অনলাইনে প্রদান, পাট আইন সংশোধন, বিশেষ প্রণোদনা চালু, ‘জুট পোর্টাল’ চালু, শিল্প ও একাডেমিয়ার সমন্বয়, পৃথক টাস্কফোর্স গঠন এবং পাটশিল্পভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা। পাশাপাশি ‘গোল্ডেন ফাইবার অব বাংলাদেশ’ নামে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ের কাজও চলমান রয়েছে।