ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা খুন

ময়নাতদন্তে মিলল নৃশংসতার চিহ্ন, শরীরে ২০টির বেশি আঘাত

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৪১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এর সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ময়নাতদন্তে উঠে এসেছে নৃশংসতার ভয়াবহ চিত্র। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের অন্তত ২০টির বেশি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ময়নাতদন্তকারীদের ধারণা, উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতের ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে গলার নিচে একটি গভীর ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে, যা প্রাণঘাতী আঘাত হতে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।

ধস্তাধস্তির ইঙ্গিত

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে চিকিৎসকেরা জানান, নিহত শিক্ষিকার বুক, পেট, হাত-পা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ময়নাতদন্তে নেতৃত্ব দেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চিকিৎসক ডা. রুমন রহমান ও ডা. সুমাইয়া।

আরএমও হোসেন ইমাম জানান, নিহতের হাতেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, হামলার সময় তিনি নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। শরীরের আঘাতের ধরন দেখে চিকিৎসকদের মনে হয়েছে, ঘটনাস্থলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছিল এবং হামলায় প্রবল ক্ষোভ বা আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ ছিল।

মামলায় চারজনের নাম

ঘটনার পর বুধবার রাতে নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা-তে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে—

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমান, সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যামসুন্দর সরকার, সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান।

নিহতের স্বামীর ভাই শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, বিভাগের বিভিন্ন আর্থিক বিষয় নিয়ে ফজলুর রহমানের সঙ্গে আসমা সাদিয়া রুনার দ্বন্দ্ব ছিল। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কেউ কেউ জানতেন এবং এ নিয়ে বৈঠকও হয়েছিল বলে তাদের ধারণা।

তিনি আরও বলেন, এত বড় ঘটনা একা কারও পক্ষে ঘটানো সম্ভব নয়। এর পেছনে পরিকল্পনা বা কারও ইন্ধন থাকতে পারে বলে তাদের সন্দেহ।

তদন্তে একাধিক সংস্থা

ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ রানা জানান, নিহত শিক্ষিকার স্বামীর করা অভিযোগটি মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ প্রশাসনের একাধিক শাখা কাজ করছে।

পরিবারের অসহায়তা

মর্গের সামনে স্বজনেরা জানান, আসমা সাদিয়া রুনার তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন এখনো পুরোপুরি বুঝতে পারেনি যে তাদের মা আর বেঁচে নেই। সবচেয়ে ছোট সন্তানের বয়স মাত্র দেড় বছর।

উল্লেখ্য, বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল চারটার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নিজ বিভাগের কক্ষে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে নিহত হন আসমা সাদিয়া রুনা। একই ঘটনায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, কর্মস্থলের বিরোধ নাকি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, হামলাটি ছিল অত্যন্ত সহিংস এবং লক্ষ্যভিত্তিক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা খুন

ময়নাতদন্তে মিলল নৃশংসতার চিহ্ন, শরীরে ২০টির বেশি আঘাত

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৪১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এর সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ময়নাতদন্তে উঠে এসেছে নৃশংসতার ভয়াবহ চিত্র। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের অন্তত ২০টির বেশি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ময়নাতদন্তকারীদের ধারণা, উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতের ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে গলার নিচে একটি গভীর ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে, যা প্রাণঘাতী আঘাত হতে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।

ধস্তাধস্তির ইঙ্গিত

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে চিকিৎসকেরা জানান, নিহত শিক্ষিকার বুক, পেট, হাত-পা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ময়নাতদন্তে নেতৃত্ব দেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চিকিৎসক ডা. রুমন রহমান ও ডা. সুমাইয়া।

আরএমও হোসেন ইমাম জানান, নিহতের হাতেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, হামলার সময় তিনি নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। শরীরের আঘাতের ধরন দেখে চিকিৎসকদের মনে হয়েছে, ঘটনাস্থলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছিল এবং হামলায় প্রবল ক্ষোভ বা আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ ছিল।

মামলায় চারজনের নাম

ঘটনার পর বুধবার রাতে নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা-তে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে—

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমান, সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যামসুন্দর সরকার, সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান।

নিহতের স্বামীর ভাই শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, বিভাগের বিভিন্ন আর্থিক বিষয় নিয়ে ফজলুর রহমানের সঙ্গে আসমা সাদিয়া রুনার দ্বন্দ্ব ছিল। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কেউ কেউ জানতেন এবং এ নিয়ে বৈঠকও হয়েছিল বলে তাদের ধারণা।

তিনি আরও বলেন, এত বড় ঘটনা একা কারও পক্ষে ঘটানো সম্ভব নয়। এর পেছনে পরিকল্পনা বা কারও ইন্ধন থাকতে পারে বলে তাদের সন্দেহ।

তদন্তে একাধিক সংস্থা

ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ রানা জানান, নিহত শিক্ষিকার স্বামীর করা অভিযোগটি মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ প্রশাসনের একাধিক শাখা কাজ করছে।

পরিবারের অসহায়তা

মর্গের সামনে স্বজনেরা জানান, আসমা সাদিয়া রুনার তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন এখনো পুরোপুরি বুঝতে পারেনি যে তাদের মা আর বেঁচে নেই। সবচেয়ে ছোট সন্তানের বয়স মাত্র দেড় বছর।

উল্লেখ্য, বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল চারটার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নিজ বিভাগের কক্ষে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে নিহত হন আসমা সাদিয়া রুনা। একই ঘটনায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, কর্মস্থলের বিরোধ নাকি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, হামলাটি ছিল অত্যন্ত সহিংস এবং লক্ষ্যভিত্তিক।