ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে বিদেশি পিস্তলসহ দুই সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার খুলনায় ৫টি বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ নারী আটক রাণীশংকৈলে বসতবাড়ির সিমগাছে কালিম পাখির সংসার, দেখতে ভিড় পাখিপ্রেমীদের ফ্রি চিকিৎসা, চরাঞ্চলে স্বাস্থসেবায় আশার আলো লক্ষ্মীপুর রামগতিতে ভাসমান হাসপাতালে  নোয়াখালী-৫ আসনের এমপি ফখরুল ইসলামের মায়ের ইন্তেকাল ঈদযাত্রায় যানজটের ঝুঁকি ২০৭ স্থানে, নাজুক দেড় হাজার কিলোমিটার সড়ক চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্রসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার ইরানকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া? নতুন প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর দাবি তারেক রহমানের ২০তম কারাবন্দি দিবস আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ—মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণার দিন

ইবি শিক্ষিকা সাদিয়া হত্যায় ঘটনায় যা জানা গেলো

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৩৯:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল চারটার দিকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে নিহত হন। একই সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাস্থল বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগের ২২৬ নম্বর কক্ষে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হোসেন ঈমাম জানিয়েছেন, হাসপাতালে নেওয়ার সময় আসমা সাদিয়া বেঁচে ছিলেন, কিন্তু ওয়ার্ডে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান। ফজলুর রহমানকে অবিলম্বে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সমাজকল্যাণ বিভাগের ইফতার মাহফিলের আয়োজন ছিল। বেলা তিনটার পর অফিস শেষ হলেও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকেল চারটার দিকে ক্যাম্পাসের আনসার সদস্যরা চেয়ারম্যানের কক্ষে চেঁচামেচির আওয়াজ পান। দরজা ধাক্কা দিয়ে প্রবেশ করার চেষ্টা করার সময় শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আসমা সাদিয়াকে নিথর অবস্থায় এবং ফজলুর রহমানকে আহত অবস্থায় পান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

সম্ভাব্য কারণ ও পূর্বপ্রসঙ্গ

ফজলুর রহমান ৮–৯ বছর ধরে সমাজকল্যাণ বিভাগে চুক্তিভিত্তিক কর্মী ছিলেন। জানা গেছে, তার মজুরি বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে মাসখানেক আগে আসমা সাদিয়ার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়েছিল। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। সমাজকল্যাণ বিভাগ দ্বিতীয় তলায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ তৃতীয় তলায়। অনেকের ধারণা, পূর্বের এই দ্বন্দ্বের রেশেই আজকের হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে এটি এখনও নিশ্চিত নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘আমরা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। একজনের মৃতদেহ এবং একজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক আসমা সাদিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।’

স্বজন ও ছাত্র-শিক্ষক সমাজের প্রতিক্রিয়া

হাসপাতালে নিহতের স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। দুই কন্যা তাইবা ও তাবাসসুম মায়ের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে বারবার তার খোঁজ নিচ্ছিল। স্বামী ইমতিয়াজ পারভেজ হাসপাতালে অচেতন হয়ে পড়েন এবং জরুরি চিকিৎসা দিয়ে কিছুক্ষণ পর বাড়িতে নেওয়া হয়।

সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, ইফতার মাহফিল চলাকালীন তিনি শেষবার আসমা সাদিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। বিকেল চারটার কিছু সময় পর এক ছাত্র ফোন করে জানায়, শিক্ষিকাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। পরে গিয়ে দেখা যায়, দুজনের অবস্থাই গুরুতর।

তদন্তের অগ্রগতি

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) ফয়সাল মাহমুদ জানিয়েছেন, হত্যায় ব্যবহৃত দুটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। একাধিক আলামত জব্দ করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ক্রাইম সিন ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ চালাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, এই মুহূর্তে ঘটনার মূল কারণ এবং এতে এক বা একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয়ভাবে তদন্ত চালাচ্ছে, যাতে হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট ও দায়ীদের শনাক্ত করা যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ইবি শিক্ষিকা সাদিয়া হত্যায় ঘটনায় যা জানা গেলো

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৩৯:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল চারটার দিকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে নিহত হন। একই সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাস্থল বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগের ২২৬ নম্বর কক্ষে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হোসেন ঈমাম জানিয়েছেন, হাসপাতালে নেওয়ার সময় আসমা সাদিয়া বেঁচে ছিলেন, কিন্তু ওয়ার্ডে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান। ফজলুর রহমানকে অবিলম্বে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সমাজকল্যাণ বিভাগের ইফতার মাহফিলের আয়োজন ছিল। বেলা তিনটার পর অফিস শেষ হলেও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকেল চারটার দিকে ক্যাম্পাসের আনসার সদস্যরা চেয়ারম্যানের কক্ষে চেঁচামেচির আওয়াজ পান। দরজা ধাক্কা দিয়ে প্রবেশ করার চেষ্টা করার সময় শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আসমা সাদিয়াকে নিথর অবস্থায় এবং ফজলুর রহমানকে আহত অবস্থায় পান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

সম্ভাব্য কারণ ও পূর্বপ্রসঙ্গ

ফজলুর রহমান ৮–৯ বছর ধরে সমাজকল্যাণ বিভাগে চুক্তিভিত্তিক কর্মী ছিলেন। জানা গেছে, তার মজুরি বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে মাসখানেক আগে আসমা সাদিয়ার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়েছিল। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। সমাজকল্যাণ বিভাগ দ্বিতীয় তলায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ তৃতীয় তলায়। অনেকের ধারণা, পূর্বের এই দ্বন্দ্বের রেশেই আজকের হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে এটি এখনও নিশ্চিত নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘আমরা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। একজনের মৃতদেহ এবং একজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক আসমা সাদিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।’

স্বজন ও ছাত্র-শিক্ষক সমাজের প্রতিক্রিয়া

হাসপাতালে নিহতের স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। দুই কন্যা তাইবা ও তাবাসসুম মায়ের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে বারবার তার খোঁজ নিচ্ছিল। স্বামী ইমতিয়াজ পারভেজ হাসপাতালে অচেতন হয়ে পড়েন এবং জরুরি চিকিৎসা দিয়ে কিছুক্ষণ পর বাড়িতে নেওয়া হয়।

সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, ইফতার মাহফিল চলাকালীন তিনি শেষবার আসমা সাদিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। বিকেল চারটার কিছু সময় পর এক ছাত্র ফোন করে জানায়, শিক্ষিকাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। পরে গিয়ে দেখা যায়, দুজনের অবস্থাই গুরুতর।

তদন্তের অগ্রগতি

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) ফয়সাল মাহমুদ জানিয়েছেন, হত্যায় ব্যবহৃত দুটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। একাধিক আলামত জব্দ করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ক্রাইম সিন ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ চালাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, এই মুহূর্তে ঘটনার মূল কারণ এবং এতে এক বা একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয়ভাবে তদন্ত চালাচ্ছে, যাতে হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট ও দায়ীদের শনাক্ত করা যায়।