চন্দ্রনাথের পাহাড়ে নিভে গেল ছোট্ট একটি জীবন
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক—যে পাহাড়ে মানুষ যায় সবুজ দেখতে, শান্তি খুঁজতে—সেই পাহাড়ই এবার সাক্ষী হলো এক নির্মমতার। সাত বছরের একটি শিশু, যার হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, যার মুখে থাকার কথা ছিল হাসি—সে লড়াই করছিল জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে।
১ মার্চ সকালে চন্দ্রনাথ মন্দির সড়কের পাশে কাজ করা কয়েকজন শ্রমিক দূর থেকে দেখতে পান রক্তাক্ত এক দেহ পড়ে আছে। কাছে গিয়ে বোঝা যায়, সে বেঁচে আছে—কিন্তু ক্ষীণ শ্বাসে। ছোট্ট গলায় গভীর ক্ষত, শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন। মুহূর্তেই থমকে যায় সকালের পাহাড়ি বাতাস।
উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে, পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর আইসিইউতে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসকরা প্রাণপণ চেষ্টা করেন। অস্ত্রোপচার হয়। যন্ত্রের শব্দে ভরা আইসিইউ কক্ষে মা বসে থাকেন নিঃশব্দে—একবার সন্তানের হাত ছুঁয়ে, একবার দরজার দিকে তাকিয়ে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ফিরল না সে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে নিভে গেল ছোট্ট প্রাণটি।
চিকিৎসকদের ভাষ্যে, শিশুটি নৃশংস নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। এই তথ্য শুধু একটি অপরাধের বিবরণ নয়—এটি আমাদের সামাজিক ব্যর্থতারও নির্মম স্মারক।
মা এখন মামলা করেছেন সীতাকুণ্ড মডেল থানায়। তদন্ত চলছে। কিন্তু একটি প্রশ্ন পাহাড়ের বাতাসে ভাসছে—এই ছোট্ট মেয়েটির কী দোষ ছিল?
পাহাড়, গাছ, মন্দিরপথ—সবই রয়ে গেছে আগের মতো। শুধু নেই সেই শিশু। তার নাম উচ্চারণ করলেই হয়তো কেঁপে উঠবে বাতাস। আর সমাজকে মনে করিয়ে দেবে—নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার আর মানবিকতা কেবল শব্দ নয়, দায়িত্বও।
থানার ওসি মহিনুল ইসলাম জানান, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে।





















