ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তেল নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই, ৯ মার্চ আসছে দুই জাহাজ ধানমন্ডি ৩২-এ ফুল দিতে যাওয়ার পথে চারজন গ্রেপ্তার মাটির নিচে ট্যাংকিতে ১০ হাজার লিটার ডিজেল মজুত, ব্যবসায়ীকে জরিমানা পরিকল্পিত জাকাত ব্যবস্থাপনায় দারিদ্র্য কমানো সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী মীনা আইভিএফ ও প্রাইম ব্যাংকের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর ঘোষণা ছাড়াই জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ, ব্যবসায়ীরা উধাও নোয়াখালীতে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরী, দুই ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা নোয়াখালীতে বিদেশি পিস্তলসহ দুই সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার খুলনায় ৫টি বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ নারী আটক সিমগাছে কালিম পাখির সংসার, দেখতে ভিড় পাখিপ্রেমীদের

দাদি-নাতনি হত্যার কারণ জানা যায়নি, জিজ্ঞাসাবাদের ২ জন আটক

মাসুদ রানা, পাবনা
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২৮:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদি-নাতনির হত্যার ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো রহস্য বা কারণ জানা যায়নি। এলাকার লোকজন এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছে।

আটকরা হলেন-একই এলাকার নুরুল মন্ডলের ছেলে রাব্বি মন্ডল এবং মফেজ্জল হোসেনের ছেলে শরিফুল ইসলাম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান।

রাজশাহী বিভাগীয় এডিশনাল ডিআইপি (ক্রাইম) শামীম আহমেদ, পাবনা পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদসহ পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাস্থলে র্যাব, পিবিআই, সিআইডিসহ গোয়েন্দা শাখার পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম তদন্তের কাজ শুরু করেছে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় পুলিশ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া জয়নাল খাঁর মা সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও মেয়ে জামিলা আক্তারের (১৫) মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, মধ্যরাতে হঠাৎ কান্নাকাটির আওয়াজ শুনে রাস্তায় বের হন স্থানীয়রা৷ পরে কান্নার আওয়াজ থেমে গেলে সবাই বাড়িতে চলে যান। শনিবার সকাল ৮টার দিকে একজন প্রতিবেশী তার বাড়িতে গেলে উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়।

তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে জামিলাকে খোঁজাখুঁজির পর বিবস্ত্র অবস্থায় সরিষার ক্ষেতে মরদেহ পাওয়া যায়। ওই বাড়িতে শুধুমাত্র দাদি আর নাতনি ছিল রাতে। বাড়ির একমাত্র পুরুষ জামিলার বাবা জয়নাল খাঁ এক সপ্তাহ ধরে বাড়িতে নেই। জামিলার মা অন্যত্র বিয়ে হয়ে গেছে। কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তা বোঝা যাচ্ছে না।

ফাতেমা খাতুন নামে স্থানীয় এক গৃহবধূ বলেন, বাড়ির উঠানে দাদি সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে ছিল। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। জামিলার শরীরের কপাল, মাথা, গলাসহ বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তাকে বিবস্ত্র করে রেললাইনের পাশে সরিষা ক্ষেতে ফেলে রাখা হয়।

জামিলা পাশের দিকশাইল কারিমিয়া কওমিয়া মহিলা মাদরাসায় হাফেজিয়া পড়তো। সেখান থেকে পরে কালিকাপুর দাখিল মাদরাসায় ভর্তি হয়। সেখানে দশম শ্রেণিতে অধ্যায়রত ছিল। রোজা শুরুর পর থেকে আশেপাশের নারীদের জামিলা খাতুন তাদের বাড়িতে তারাবি নামাজ পড়াতেন। শুক্রবার রাতেও এলাকার মহিলাদের নামাজ পড়ান জামিলা।

নিহত বৃদ্ধা সুফিয়া খাতুনের বোন আসমা খাতুন বলেন, খবর পেয়ে বোনের বাড়িতে এসে দেখলাম বোনের মরদেহ উঠানে আর নাতনির মরদেহ সরিষা ক্ষেতে পড়ে আছে। এত বড় ক্ষতি আমাদের কে করলো বুঝতে পারছি না। আমার বোন-নাতনির সঙ্গে কারোতো কোনো শত্রুতা ছিল না। তাহলে কারা এ ঘটনা ঘটালো।

নিহত জামিলার মা শিরিনা বেগম বলেন, আমার মেয়ে নামাজি ও পরহেজগার ছিল। সে হাফেজিয়া পড়তো তারপর তাকে দাখিল মাদরাসায় ভর্তি করা হয়। কে আমার এতো বড় সর্বনাশ করলো? আমি আমার মেয়ে ও শাশুড়ি হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবণ কুমার জানান, দাদি-নাতনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

পাবনা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ বলেন, এটি নিঃসন্দেহে জঘন্য অপরাধ। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। ঘটনা তদন্তে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আমরা আসামিদের গ্রেফতার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আসামি গ্রেফতার বা হত্যাকাণ্ডের রহস্য জানা গেলে জানানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দাদি-নাতনি হত্যার কারণ জানা যায়নি, জিজ্ঞাসাবাদের ২ জন আটক

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২৮:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদি-নাতনির হত্যার ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো রহস্য বা কারণ জানা যায়নি। এলাকার লোকজন এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছে।

আটকরা হলেন-একই এলাকার নুরুল মন্ডলের ছেলে রাব্বি মন্ডল এবং মফেজ্জল হোসেনের ছেলে শরিফুল ইসলাম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান।

রাজশাহী বিভাগীয় এডিশনাল ডিআইপি (ক্রাইম) শামীম আহমেদ, পাবনা পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদসহ পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাস্থলে র্যাব, পিবিআই, সিআইডিসহ গোয়েন্দা শাখার পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম তদন্তের কাজ শুরু করেছে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় পুলিশ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া জয়নাল খাঁর মা সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও মেয়ে জামিলা আক্তারের (১৫) মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, মধ্যরাতে হঠাৎ কান্নাকাটির আওয়াজ শুনে রাস্তায় বের হন স্থানীয়রা৷ পরে কান্নার আওয়াজ থেমে গেলে সবাই বাড়িতে চলে যান। শনিবার সকাল ৮টার দিকে একজন প্রতিবেশী তার বাড়িতে গেলে উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়।

তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে জামিলাকে খোঁজাখুঁজির পর বিবস্ত্র অবস্থায় সরিষার ক্ষেতে মরদেহ পাওয়া যায়। ওই বাড়িতে শুধুমাত্র দাদি আর নাতনি ছিল রাতে। বাড়ির একমাত্র পুরুষ জামিলার বাবা জয়নাল খাঁ এক সপ্তাহ ধরে বাড়িতে নেই। জামিলার মা অন্যত্র বিয়ে হয়ে গেছে। কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তা বোঝা যাচ্ছে না।

ফাতেমা খাতুন নামে স্থানীয় এক গৃহবধূ বলেন, বাড়ির উঠানে দাদি সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে ছিল। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। জামিলার শরীরের কপাল, মাথা, গলাসহ বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তাকে বিবস্ত্র করে রেললাইনের পাশে সরিষা ক্ষেতে ফেলে রাখা হয়।

জামিলা পাশের দিকশাইল কারিমিয়া কওমিয়া মহিলা মাদরাসায় হাফেজিয়া পড়তো। সেখান থেকে পরে কালিকাপুর দাখিল মাদরাসায় ভর্তি হয়। সেখানে দশম শ্রেণিতে অধ্যায়রত ছিল। রোজা শুরুর পর থেকে আশেপাশের নারীদের জামিলা খাতুন তাদের বাড়িতে তারাবি নামাজ পড়াতেন। শুক্রবার রাতেও এলাকার মহিলাদের নামাজ পড়ান জামিলা।

নিহত বৃদ্ধা সুফিয়া খাতুনের বোন আসমা খাতুন বলেন, খবর পেয়ে বোনের বাড়িতে এসে দেখলাম বোনের মরদেহ উঠানে আর নাতনির মরদেহ সরিষা ক্ষেতে পড়ে আছে। এত বড় ক্ষতি আমাদের কে করলো বুঝতে পারছি না। আমার বোন-নাতনির সঙ্গে কারোতো কোনো শত্রুতা ছিল না। তাহলে কারা এ ঘটনা ঘটালো।

নিহত জামিলার মা শিরিনা বেগম বলেন, আমার মেয়ে নামাজি ও পরহেজগার ছিল। সে হাফেজিয়া পড়তো তারপর তাকে দাখিল মাদরাসায় ভর্তি করা হয়। কে আমার এতো বড় সর্বনাশ করলো? আমি আমার মেয়ে ও শাশুড়ি হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবণ কুমার জানান, দাদি-নাতনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

পাবনা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ বলেন, এটি নিঃসন্দেহে জঘন্য অপরাধ। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। ঘটনা তদন্তে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আমরা আসামিদের গ্রেফতার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আসামি গ্রেফতার বা হত্যাকাণ্ডের রহস্য জানা গেলে জানানো হবে।