বাউফলে নির্বাচনী জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান
পাচারের টাকা ফিরিয়ে এনে দেশের উন্নয়ন করা হবে

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫৩:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “ইতিপূর্বে এই বাংলাদেশে যারা সরকারে ছিলেন, তারা এমন কোনো অপকর্ম নেই যা না করেছেন। দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দেশ থেকে পাচার হওয়া সকল টাকা ফিরিয়ে এনে দেশের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পটুয়াখালী জেলার বাউফল পাবলিক মাঠে ১১ দলীয় জোট কর্তৃক দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, “আমার কোনো ঠিকানা নেই, সমগ্র বাংলাদেশই আমার ঠিকানা। বলতে পারেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশ’ তো ট্রাকের গায়েও লেখা থাকে? হ্যাঁ, আমি হলাম সমগ্র বাংলাদেশ। সরকার গঠন করতে পারলে আমি আপনাদের ঘরে ঘরে উন্নয়ন পৌঁছে দেব।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নতুন সূর্য উঠবে। আর সেই সূর্যের আলোয় আমরা যদি আলোকিত হতে পারি, কথা দিলাম—আমাদের কাছে আপনাদের কিছু চাইতে হবে না। আমরা এসে আপনাদের চাহিদা পূরণ করে দেব।”
আমীরে জামায়াত বলেন, “দাঁড়িপাল্লা হলো ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক। এ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করলে দেশে ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও লুটপাট থাকবে না। মা-বোনেরা ইজ্জত নিয়ে নিরাপদে থাকতে পারবেন।” কেউ নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার করার সাহস পাবে না। নারীর অধিকার, নারীর স্বাধীনতা ও নারীর মর্যাদা রাষ্ট্র কর্তৃক নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা দুটি ব্যালটে ভোট দেবেন। একটি হলো ‘হ্যাঁ’ ভোট, আরেকটি হলো মার্কায় ভোট। হ্যাঁ ভোট দিলে এ জাতি গোলামি ও পরাধীনতা থেকে মুক্তি পাবে। আর না ভোট দিলে এ জাতি দাসত্বে পরিণত হবে, আপনাদের স্বাধীনতা খর্ব হবে। তাই আসুন, দেশকে গোলামি থেকে মুক্ত করতে হ্যাঁ ব্যালটে ভোট দিই। পাশাপাশি দাঁড়িপাল্লা মার্কাসহ জোটের মার্কায় ভোট দিয়ে একটি নতুন দেশের সূচনা করি।” তিনি বলেন, “আমাদের সরকার গঠন হলে কোনো দুর্নীতিবাজের ঠাঁই হবে না। কেউ দুর্নীতি করলে গলার ভেতরে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে বের করে নিয়ে আসব।”
সমাবেশে বাউফল আসনের দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “আমি সব সময়ই আপনাদের পাশে ছিলাম, সব সময় পাশে থাকব ইনশাআল্লাহ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করলে আমি এ উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলায় পরিণত করব ইনশাআল্লাহ।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে নদীভাঙন। আমি নির্বাচিত হলে ভাঙনকবলিত এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা হবে। কৃষি ক্ষেত্রে আধুনিকায়ন করা হবে। ইউনিয়ন ভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরি করে উন্নয়ন করা হবে। মা-বোনদের জন্য সুরক্ষা সেল গঠন করা হবে। বাউফল হাসপাতালকে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে।”
জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, বরিশাল মহানগর আমীর জহির উদ্দিন বাবর, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মো. রিয়াজুল ইসলাম, পটুয়াখালী জেলা আমীর এডভোকেট নাজমুল আহসান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাউফল উপজেলা আমীর মাওলানা মো. ইসহাক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত পটুয়াখালী-১ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী ডাক্তার আব্দুল ওহাব মিনার, ১১ দলীয় জোট সমর্থিত পটুয়াখালী-৩ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক শাহ আলম, ১১ দলীয় জোট সমর্থিত পটুয়াখালী-৪ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী ডাক্তার জহির উদ্দিন আহমেদ, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, খেলাফত মজলিস পটুয়াখালী জেলা সহ-সভাপতি অধ্যাপক আইযুব বিন মুসা, এবি পার্টির বাউফল উপজেলা আহ্বায়ক এডভোকেট রুহুল আমিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পটুয়াখালী জেলা সেক্রেটারি শহীদুল্লাহ কায়সারি, এডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল নাহিয়ান, রাবিকুল ইসলাম নুর প্রমুখ। এছাড়াও জনসভায় পটুয়াখালী জেলা ও সকল উপজেলার জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনসহ ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ, জনসভায় স্থানীয় জনসাধারণের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। পাবলিক মাঠ পেরিয়ে আশপাশের স্কুল-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ভবনের ছাঁদে ও সড়কে জনতার ঢল নামে। ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে জনতার উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো।



















