ঢাকা ০৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপির ঢাকার সমাবেশ বাতিল, কৌশলগত পিছু হটা নাকি নতুন রাজনৈতিক বার্তা?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৪৯:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকায় ঘোষিত জনসমাবেশ হঠাৎ বাতিলের সিদ্ধান্ত বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি করেছে। প্রকাশ্যে ‘সভা-সমাবেশ বাতিল’ বলা হলেও, এর নেপথ্যে রয়েছে সময়োপযোগী হিসাব-নিকাশ, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানোর প্রচেষ্টা—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, নেতাদের অভ্যন্তরীণ আলোচনার ভিত্তিতেই ৮ ফেব্রুয়ারির সমাবেশ বাতিল করা হয়েছে। এর বদলে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঢাকা মহানগরভিত্তিক নির্বাচনী প্রচারণাকে সামনে আনা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, বিএনপি এখন বড় সমাবেশের পরিবর্তে ‘টার্গেটেড ক্যাম্পেইন’-এর দিকে ঝুঁকছে, যেখানে নির্দিষ্ট ভোটারগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পূর্বঘোষিত সমাবেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিকভাবে ঢাকায় বড় সমাবেশ সবসময়ই উচ্চ ঝুঁকির। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক বাধা, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি কিংবা সংঘাত—সবকিছুই একটি সমাবেশকে দলটির জন্য উল্টো চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে তা সরকার ও প্রশাসনের হাতে রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে কোণঠাসা করার সুযোগ করে দিতে পারে। সেই ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়েই সমাবেশ বাতিলকে অনেকেই ‘কৌশলগত পিছু হটা’ হিসেবে দেখছেন।

অন্যদিকে, তারেক রহমানের সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। এটি দলীয় কর্মীদের মধ্যে সক্রিয়তা ধরে রাখার পাশাপাশি ভোটারদের কাছে নেতৃত্বের উপস্থিতি জোরালো করার কৌশল হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। বড় মঞ্চের বক্তৃতার বদলে মাঠপর্যায়ের প্রচারণা বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও বেশি কার্যকর হতে পারে।

তবে সমাবেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত দলীয় কর্মীদের একটি অংশের মধ্যে হতাশাও তৈরি করতে পারে। ঢাকায় বড় জনসমাবেশ অনেক সময় শক্তি প্রদর্শনের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। সেটি না হওয়ায় বিএনপি রাজপথে কতটা সক্রিয়—সে প্রশ্ন তুলতে পারে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শিবির।

সব মিলিয়ে, ঢাকার সমাবেশ বাতিল বিএনপির দুর্বলতা নয়; বরং এটি পরিস্থিতি বুঝে রাজনৈতিক কৌশল বদলের ইঙ্গিত হিসেবেই বেশি স্পষ্ট। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে দলটি এখন সংঘাতের ঝুঁকি কমিয়ে সংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিত প্রচারণার পথেই হাঁটতে চাইছে। এই কৌশল ভোটের মাঠে কতটা প্রভাব ফেলবে, তার উত্তর মিলবে আগামী দিনের রাজনৈতিক বাস্তবতায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিএনপির ঢাকার সমাবেশ বাতিল, কৌশলগত পিছু হটা নাকি নতুন রাজনৈতিক বার্তা?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৪৯:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকায় ঘোষিত জনসমাবেশ হঠাৎ বাতিলের সিদ্ধান্ত বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি করেছে। প্রকাশ্যে ‘সভা-সমাবেশ বাতিল’ বলা হলেও, এর নেপথ্যে রয়েছে সময়োপযোগী হিসাব-নিকাশ, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানোর প্রচেষ্টা—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, নেতাদের অভ্যন্তরীণ আলোচনার ভিত্তিতেই ৮ ফেব্রুয়ারির সমাবেশ বাতিল করা হয়েছে। এর বদলে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঢাকা মহানগরভিত্তিক নির্বাচনী প্রচারণাকে সামনে আনা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, বিএনপি এখন বড় সমাবেশের পরিবর্তে ‘টার্গেটেড ক্যাম্পেইন’-এর দিকে ঝুঁকছে, যেখানে নির্দিষ্ট ভোটারগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পূর্বঘোষিত সমাবেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিকভাবে ঢাকায় বড় সমাবেশ সবসময়ই উচ্চ ঝুঁকির। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক বাধা, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি কিংবা সংঘাত—সবকিছুই একটি সমাবেশকে দলটির জন্য উল্টো চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে তা সরকার ও প্রশাসনের হাতে রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে কোণঠাসা করার সুযোগ করে দিতে পারে। সেই ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়েই সমাবেশ বাতিলকে অনেকেই ‘কৌশলগত পিছু হটা’ হিসেবে দেখছেন।

অন্যদিকে, তারেক রহমানের সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। এটি দলীয় কর্মীদের মধ্যে সক্রিয়তা ধরে রাখার পাশাপাশি ভোটারদের কাছে নেতৃত্বের উপস্থিতি জোরালো করার কৌশল হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। বড় মঞ্চের বক্তৃতার বদলে মাঠপর্যায়ের প্রচারণা বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও বেশি কার্যকর হতে পারে।

তবে সমাবেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত দলীয় কর্মীদের একটি অংশের মধ্যে হতাশাও তৈরি করতে পারে। ঢাকায় বড় জনসমাবেশ অনেক সময় শক্তি প্রদর্শনের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। সেটি না হওয়ায় বিএনপি রাজপথে কতটা সক্রিয়—সে প্রশ্ন তুলতে পারে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শিবির।

সব মিলিয়ে, ঢাকার সমাবেশ বাতিল বিএনপির দুর্বলতা নয়; বরং এটি পরিস্থিতি বুঝে রাজনৈতিক কৌশল বদলের ইঙ্গিত হিসেবেই বেশি স্পষ্ট। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে দলটি এখন সংঘাতের ঝুঁকি কমিয়ে সংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিত প্রচারণার পথেই হাঁটতে চাইছে। এই কৌশল ভোটের মাঠে কতটা প্রভাব ফেলবে, তার উত্তর মিলবে আগামী দিনের রাজনৈতিক বাস্তবতায়।