ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পিকনিক কর্নারে আটকা দেশি-বিদেশি পর্যটক, নৌ-চলাচল বন্ধ

আবু-হানিফ, বাগেরহাট
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৫৮:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের হয়রানিমূলক অভিযানের প্রতিবাদে সুন্দরবনে পর্যটনবাহী সব নৌযান—জালিবোট, লঞ্চ ও ট্রলার—চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল থেকেই সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশ ও ভ্রমণ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক সুন্দরবন ভ্রমণের একমাত্র মাধ্যম নৌযানগুলো বন্ধ থাকায় ভোর থেকেই দূরদূরান্ত থেকে আসা দেশি ও বিদেশি পর্যটকরা মোংলার পিকনিক কর্নারে আটকা পড়েছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

যশোর থেকে পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে আসা সাজেদ রহমান বলেন, “এত দূর এসে শুনলাম নৌযান ধর্মঘট চলছে। সুন্দরবনে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। পুরো পরিকল্পনাই ভেস্তে গেল।”

দিনাজপুর থেকে আসা পর্যটক তামান্না বেগম বলেন, “পরিবার নিয়ে অনেক আশা নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু নৌযান বন্ধ থাকায় আর সুন্দরবনে ঢোকা হলো না।”

খুলনার চুকনগর থেকে আসা রেজাউল করিম জানান, একটি বাসে করে তাঁদের ৫৪ জনের একটি দল এসেছিল। তিনি বলেন, “সব নৌযান বন্ধ থাকায় আসাটাই বৃথা হয়ে গেল।”

মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, নৌপরিবহন অধিদপ্তর খুলনা সম্প্রতি পর্যটনবাহী নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। এর প্রতিবাদে নৌযান মালিকরা সম্মিলিতভাবে ধর্মঘট শুরু করেছেন। তিনি জানান, এই ধর্মঘটের আওতায় প্রায় ৪০০ জালিবোট, লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, “সোমবার ভোর থেকেই এখানে কোনো পর্যটক বা নৌযান প্রবেশ করতে পারেনি। নৌযান মালিকদের ধর্মঘটের কারণেই সুন্দরবন পর্যটন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ।”

এ বিষয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তর খুলনার পরিদর্শক মো. রাশেদুল আলম বলেন, পর্যটনবাহী জালিবোটগুলোর ওপরের অংশের অতিরিক্ত অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে, যাতে নৌযানের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে। তিনি দাবি করেন, “আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”

তবে নৌযান মালিকদের অভিযোগ, যথাযথ আলোচনা ও সময় না দিয়েই অভিযান চালানো হয়েছে, যা তাদের ব্যবসা ও সুন্দরবনের পর্যটন কার্যক্রমে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

পিকনিক কর্নারে আটকা দেশি-বিদেশি পর্যটক, নৌ-চলাচল বন্ধ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৫৮:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের হয়রানিমূলক অভিযানের প্রতিবাদে সুন্দরবনে পর্যটনবাহী সব নৌযান—জালিবোট, লঞ্চ ও ট্রলার—চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল থেকেই সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশ ও ভ্রমণ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক সুন্দরবন ভ্রমণের একমাত্র মাধ্যম নৌযানগুলো বন্ধ থাকায় ভোর থেকেই দূরদূরান্ত থেকে আসা দেশি ও বিদেশি পর্যটকরা মোংলার পিকনিক কর্নারে আটকা পড়েছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

যশোর থেকে পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে আসা সাজেদ রহমান বলেন, “এত দূর এসে শুনলাম নৌযান ধর্মঘট চলছে। সুন্দরবনে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। পুরো পরিকল্পনাই ভেস্তে গেল।”

দিনাজপুর থেকে আসা পর্যটক তামান্না বেগম বলেন, “পরিবার নিয়ে অনেক আশা নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু নৌযান বন্ধ থাকায় আর সুন্দরবনে ঢোকা হলো না।”

খুলনার চুকনগর থেকে আসা রেজাউল করিম জানান, একটি বাসে করে তাঁদের ৫৪ জনের একটি দল এসেছিল। তিনি বলেন, “সব নৌযান বন্ধ থাকায় আসাটাই বৃথা হয়ে গেল।”

মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, নৌপরিবহন অধিদপ্তর খুলনা সম্প্রতি পর্যটনবাহী নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। এর প্রতিবাদে নৌযান মালিকরা সম্মিলিতভাবে ধর্মঘট শুরু করেছেন। তিনি জানান, এই ধর্মঘটের আওতায় প্রায় ৪০০ জালিবোট, লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, “সোমবার ভোর থেকেই এখানে কোনো পর্যটক বা নৌযান প্রবেশ করতে পারেনি। নৌযান মালিকদের ধর্মঘটের কারণেই সুন্দরবন পর্যটন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ।”

এ বিষয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তর খুলনার পরিদর্শক মো. রাশেদুল আলম বলেন, পর্যটনবাহী জালিবোটগুলোর ওপরের অংশের অতিরিক্ত অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে, যাতে নৌযানের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে। তিনি দাবি করেন, “আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”

তবে নৌযান মালিকদের অভিযোগ, যথাযথ আলোচনা ও সময় না দিয়েই অভিযান চালানো হয়েছে, যা তাদের ব্যবসা ও সুন্দরবনের পর্যটন কার্যক্রমে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।