মনোনয়নের নামে প্রতারণা, এনসিপি ছাড়লেন নীলিমা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:১৯:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
মনোনয়নের নামে প্রতারণা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির নেত্রী সৈয়দা নীলিমা দোলা। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এনসিপির সব দায়িত্ব ও পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান।
পোস্টে নীলিমা দোলা বলেন, এনসিপির পক্ষে আর মধ্যপন্থী রাজনীতির নতুন পথ সৃষ্টি সম্ভব নয়। তিনি লিখেছেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে দলটি কাজ করবে—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি এনসিপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো দেখে তাঁর কাছে স্পষ্ট হয়েছে, দলটি ডানপন্থী ধারার রাজনীতিতে পুরোপুরি ঝুঁকে পড়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট কোনো কৌশলগত জোট নয়। যদি তা হতো, তবে এত নেতাকর্মী দল ছাড়তেন না। তাঁর দাবি, নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করে এই জোট করা হয়েছে এবং মনোনয়ন দেওয়ার নাম করে ‘তীব্র প্রতারণা’ চালানো হয়েছে।
দল ছাড়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে নীলিমা দোলা বলেন, তাঁকে কোনো ক্ষমতা বা বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়নি। বরং তাঁর প্রগতিশীল চিন্তাভাবনা ও ব্যক্তিগত পরিচিতিই এতদিন এনসিপিকে শক্তি জুগিয়েছে। পদত্যাগকারী নেতাকর্মীদের ‘বামপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করাকে একটি পরিকল্পিত কৌশল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এনসিপির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে নীলিমা দোলা বলেন, অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের জনগণ যে বিশ্বাস ও আস্থা এনসিপির ওপর রেখেছিল, তা গত কয়েক মাসে ভেঙে পড়েছে। তাঁর মতে, জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ধর্মীয় রাজনীতিকে সামনে এনে রাজনীতি করা এনসিপির জন্য বেমানান।
তিনি আরও বলেন, দলে থেকে তিনি নারী, শ্রমিক, আদিবাসী, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে এক করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত নির্যাতন ও অনাচারের বিরুদ্ধে দলটির মন্থর ও দায়সারা প্রতিক্রিয়া তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
পোস্টের শেষাংশে নীলিমা দোলা বলেন, তাঁর মতো মানুষের এনসিপি থেকে বিদায় প্রমাণ করে—এনসিপির বাইরে জুলাইয়ের আরেকটি রাজনৈতিক শক্তি বিদ্যমান। এনসিপির বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি শুভকামনা জানালেও তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে কোনো ধর্মীয় অভ্যুত্থান হয়নি এবং শহীদরা ধর্মীয় রাজনীতির জন্য জীবন দেননি।





















