সিমগাছে কালিম পাখির সংসার, দেখতে ভিড় পাখিপ্রেমীদের
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বিল-ঝিল আর নদীর জলাভূমিই সাধারণত কালিম পাখির আবাসস্থল। মানুষের কোলাহল এড়িয়ে নির্জন জলজ পরিবেশেই তাদের বসবাস বেশি দেখা যায়। তবে প্রকৃতির এই লাজুক অতিথি এবার আশ্রয় নিয়েছে মানুষের ঘরের একেবারে কাছাকাছি। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভন্ড গ্রামে বসতবাড়ির সিমগাছে বাসা বেঁধে ডিম দিয়েছে এক জোড়া কালিম পাখি। বিরল এই দৃশ্য দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয় মানুষ ও পাখিপ্রেমীরা।
ভন্ড গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় সাংবাদিক ফারুক আহাম্মেদের বাড়িতে দেখা মিলেছে এই ব্যতিক্রমী দৃশ্যের। তাঁর টিনের চাল বেয়ে ওঠা ঘন সবুজ সিমগাছটি এখন পাখিটির নিরাপদ নীড়ে পরিণত হয়েছে। গাছের ডালে যত্ন করে বানানো বাসায় কয়েকটি ডিমে তা দিচ্ছে কালিম পাখিটি। দিনের বেশির ভাগ সময়ই তাকে বাসায় বসে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাধারণত এমন বুনো পাখি মানুষের ঘন বসতির মধ্যে বাসা বাঁধে না। মানুষের চলাফেরা ও কোলাহল এড়িয়ে তারা দূরবর্তী জলাভূমি কিংবা বিল-ঝিলে থাকতে পছন্দ করে। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। বাড়ির লোকজনের নিয়মিত যাতায়াত থাকলেও পাখিটি নির্ভয়ে ডিমে তা দিয়ে যাচ্ছে। এতে এলাকাবাসীর কৌতূহল আরও বেড়েছে।
খবর পেয়ে আশপাশের গ্রাম থেকেও অনেকে এসে এই দৃশ্য দেখছেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বেশ আগ্রহ দেখা গেছে। তারা দূর থেকে পাখিটির ছবি তুলছে এবং বাসার দিকে তাকিয়ে নতুন ছানার অপেক্ষায় দিন গুনছে।
বাড়ির মালিক ফারুক আহাম্মেদ বলেন, “প্রথমে আমরা বুঝতে পারিনি পাখিটি এখানে বাসা বানাবে। পরে দেখি সিমগাছের ভেতরে বাসা করে ডিম দিয়েছে। তখন থেকে আমরা চেষ্টা করছি যাতে পাখিটি কোনোভাবে বিরক্ত না হয়। পরিবার ও প্রতিবেশীদেরও বলেছি যেন কেউ কাছে গিয়ে পাখিটিকে ভয় না দেখায়।
তিনি আরও জানান, তাঁর বাড়িতে বিভিন্ন জাতের কবুতরও রয়েছে। তবে কালিম পাখির এই বাসা তাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার ডাক্তার রুপাম চন্দ্র মহন্ত বলেন এই পাখিগুলো পায় হাজার মাইল দুর থেকে এসেছে এখানে ডিম পেরেছে কিন্তু বাচ্চা হবেনা কার মিল ডে এক সাথে থাকলে বাচ্চা হতো । বননো প্রাণী কে দেখে রাখার জন্য বাড়ি মালিকে বলা হয়েছে এবং বন কর্মকর্তা র সাথে যোগাযোগ করার কথা বলা হয়েছে ।
স্থানীয়দের মতে, মানুষের প্রতি পাখিটির এই আস্থা প্রকৃতি ও মানুষের সহাবস্থানের এক সুন্দর উদাহরণ। গ্রামবাসীও পাখিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতন হয়েছেন।
প্রকৃতির এই অনন্য মেলবন্ধন এখন ভন্ড গ্রামের মানুষের কাছে এক অন্যরকম আনন্দ ও বিস্ময়ের গল্প হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, খুব শিগগিরই সেই বাসায় ফুটবে ছোট ছোট ছানা, আর তখন দৃশ্যটি হবে আরও প্রাণবন্ত।




















