ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চরাঞ্চলে স্বাস্থসেবায় আশার আলো ভাসমান হাসপাতালে

লক্ষ্মীপুর
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি


 
মেঘনা থেকে উৎপত্তি হওয়া ভুলুয়া নদীর প্রশস্ত বুকে ভেসে আছে একটি দৈত্যাকার লঞ্চ। পাশে মানুষের ভিড়। তীর থেকে কাঠের সিঁড়ি বেয়ে কেউ কষ্ট নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছেন, আবার কেউ চিকিৎসা নিয়ে হাসিমুখে বের হচ্ছেন। দূর থেকে এটি সাধারণ একটি লঞ্চ মনে হলেও কাছে গেলেই বোঝা যায়- এটি একটি ভাসমান হাসপাতাল।
হাসপাতালটিতে রয়েছে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চেম্বার, আধুনিক যন্ত্রপাতিসম্পন্ন ল্যাব এবং অপারেশন থিয়েটার। কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন, কেউ প্রবেশ করছেন ডাক্তারের কক্ষে। ভাঙা হাত, মাথায় টিউমারসহ বিভিন্ন জটিল রোগ নিয়ে অনেকেই অপেক্ষা করছেন অপারেশন থিয়েটারের সামনে।


বহুল আলোচিত এই ভাসমান হাসপাতালটির নাম বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ মোবাইল হাসপাতাল। হাসপাতালটিকে ঘিরে এখন উৎসুক জনতা ও রোগীদের পদচারণায় মুখর নদীর তীর। দূর-দূরান্তের চরাঞ্চল থেকে ছুটে আসছেন মানুষ চিকিৎসা সেবা নিতে।


চরগাজী ইউনিয়নের চরলক্ষ¥ী গ্রামের বাসিন্দা মো. খবিরুল ইসলাম বলেন, “হাসপাতালটির কথা শুনে আজ এখানে এসেছি। তাদের ব্যবস্থাপনা যেমন ভালো, চিকিৎসা সেবাও তেমনি উন্নত। চরাঞ্চলের মানুষের জন্য এটি খুবই সময়উপযোগী উদ্যোগ।”


ছেলের মাথায় টিউমার নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন রাজিয়া বেগম নামের এক মা। হাতে স্লিপ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে তিনি অপারেশন থিয়েটারের সামনে অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, “বাচ্চার মাথার টিউমারের অপারেশন হবে। বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছি বলেই এখানে এসেছি।”


চিকিৎসা নিতে আসা আরও কয়েকজন জানান, কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই তারা বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় ওষুধও দেওয়া হয়েছে।


লক্ষ¥ীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের যোগেশ মাঝির খেয়াঘাটে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে এই ভাসমান হাসপাতাল। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত গড়ে ২৫০ জন রোগীকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে।


হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নদী ও চরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় এনে সঠিক চিকিৎসা প্রদানই এ হাসপাতালের মূল লক্ষ্য। এখানে রোগীদের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষে রোগ নির্ণয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ব্যবস্থাপত্র প্রদান, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।


মেডিসিন, চক্ষু ও সার্জারি বিভাগে তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ মোট ৩২ সদস্যের একটি দল আগামী দুই মাস এ এলাকায় চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’ যৌথভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।


হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সায়েম হোসেন জোনাক বলেন, “প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমরা নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছি। বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি যেসব রোগীর অপারেশন প্রয়োজন, তাদের সার্জারির ব্যবস্থা এবং থাকা-খাওয়ার সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।”


উপকূলীয় এলাকা হিসেবে রামগতিতে দীর্ঘমেয়াদি এ ধরনের চিকিৎসা সেবার উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন সচেতন এলাকাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চরাঞ্চলে স্বাস্থসেবায় আশার আলো ভাসমান হাসপাতালে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬


 
মেঘনা থেকে উৎপত্তি হওয়া ভুলুয়া নদীর প্রশস্ত বুকে ভেসে আছে একটি দৈত্যাকার লঞ্চ। পাশে মানুষের ভিড়। তীর থেকে কাঠের সিঁড়ি বেয়ে কেউ কষ্ট নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছেন, আবার কেউ চিকিৎসা নিয়ে হাসিমুখে বের হচ্ছেন। দূর থেকে এটি সাধারণ একটি লঞ্চ মনে হলেও কাছে গেলেই বোঝা যায়- এটি একটি ভাসমান হাসপাতাল।
হাসপাতালটিতে রয়েছে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চেম্বার, আধুনিক যন্ত্রপাতিসম্পন্ন ল্যাব এবং অপারেশন থিয়েটার। কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন, কেউ প্রবেশ করছেন ডাক্তারের কক্ষে। ভাঙা হাত, মাথায় টিউমারসহ বিভিন্ন জটিল রোগ নিয়ে অনেকেই অপেক্ষা করছেন অপারেশন থিয়েটারের সামনে।


বহুল আলোচিত এই ভাসমান হাসপাতালটির নাম বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ মোবাইল হাসপাতাল। হাসপাতালটিকে ঘিরে এখন উৎসুক জনতা ও রোগীদের পদচারণায় মুখর নদীর তীর। দূর-দূরান্তের চরাঞ্চল থেকে ছুটে আসছেন মানুষ চিকিৎসা সেবা নিতে।


চরগাজী ইউনিয়নের চরলক্ষ¥ী গ্রামের বাসিন্দা মো. খবিরুল ইসলাম বলেন, “হাসপাতালটির কথা শুনে আজ এখানে এসেছি। তাদের ব্যবস্থাপনা যেমন ভালো, চিকিৎসা সেবাও তেমনি উন্নত। চরাঞ্চলের মানুষের জন্য এটি খুবই সময়উপযোগী উদ্যোগ।”


ছেলের মাথায় টিউমার নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন রাজিয়া বেগম নামের এক মা। হাতে স্লিপ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে তিনি অপারেশন থিয়েটারের সামনে অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, “বাচ্চার মাথার টিউমারের অপারেশন হবে। বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছি বলেই এখানে এসেছি।”


চিকিৎসা নিতে আসা আরও কয়েকজন জানান, কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই তারা বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় ওষুধও দেওয়া হয়েছে।


লক্ষ¥ীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের যোগেশ মাঝির খেয়াঘাটে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে এই ভাসমান হাসপাতাল। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত গড়ে ২৫০ জন রোগীকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে।


হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নদী ও চরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় এনে সঠিক চিকিৎসা প্রদানই এ হাসপাতালের মূল লক্ষ্য। এখানে রোগীদের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষে রোগ নির্ণয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ব্যবস্থাপত্র প্রদান, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।


মেডিসিন, চক্ষু ও সার্জারি বিভাগে তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ মোট ৩২ সদস্যের একটি দল আগামী দুই মাস এ এলাকায় চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’ যৌথভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।


হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সায়েম হোসেন জোনাক বলেন, “প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমরা নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছি। বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি যেসব রোগীর অপারেশন প্রয়োজন, তাদের সার্জারির ব্যবস্থা এবং থাকা-খাওয়ার সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।”


উপকূলীয় এলাকা হিসেবে রামগতিতে দীর্ঘমেয়াদি এ ধরনের চিকিৎসা সেবার উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন সচেতন এলাকাবাসী।