ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাবনার চাটমোহরে ফসলী জমির অবৈধ মাটি কাঁটার মহোৎসব প্রশাসন নিরব কেন? 

পাবনা প্রতিনিধি 
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:২৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাবনার চাটমোহরে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অপকর্ম করে যাচ্ছে একশ্রেণীর মাটি খেকো চক্র রাতের আঁধারে ফসলি জমি কেটে সয়লাব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের বৃ-রায়নগর প্রাইমারি স্কুলের পাশে সালাম এবং নজরুলের ১৮ বিঘা ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাতভর ভেকু দিয়ে এই মাটি কেটে ট্রাক, ট্রলি,ট্রাক্টরে করে ইটভাটাসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হচ্ছে। 

বাঘলবাড়ী গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে গোলজার হোসেন এবং মনির তত্ত্বাবধানে ফসলে জমির টপসয়েল কেটে বিক্রি করা হলেও কারো কোন কর্ণপাত নেই। রাতভর অবৈধ মাটি পরিবহন যানবাহনের বিকট শব্দে ও ধুলায় পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। 

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, স্থানীয় দলীয় নেতাদের ইন্ধনে গোলজার গং প্রশাসনসহ বিভিন্ন জায়গায় চুক্তিমাফিক বিকাশের মাধ্যমে ১ হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাঠিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। 

প্রায় দীর্ঘ সময় ধরে একই এলাকায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হলেও প্রশাসন অজ্ঞাত কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে। এতে জনমনে নানান প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। 

অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে  অভিযুক্ত গোলজারকে একাধিকবার ফোন দিলেও তার মোবাইল ফোনটি রিসিভ হয়নি।

এ ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী জানান, খুব শীঘ্রই ফসলি জমি কেটে বিক্রির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে উপজেলার ছাইকোলা, নিমাইচরা, হরিপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ভেকু দিয়ে অবাধে ফসলী জমির টপসয়েল বিক্রি চলছেই। 

একই ব্যক্তির এস্কেভেটর ব্যবহার করে একাধিক জায়গায় টপসয়েল কেটে বিক্রির অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি প্রশাসন। 

এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চাটমোহরের প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষি জমি নষ্ট করে মাটি বিক্রির মহা উৎসব শুরু হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পাবনার চাটমোহরে ফসলী জমির অবৈধ মাটি কাঁটার মহোৎসব প্রশাসন নিরব কেন? 

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:২৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

পাবনার চাটমোহরে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অপকর্ম করে যাচ্ছে একশ্রেণীর মাটি খেকো চক্র রাতের আঁধারে ফসলি জমি কেটে সয়লাব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের বৃ-রায়নগর প্রাইমারি স্কুলের পাশে সালাম এবং নজরুলের ১৮ বিঘা ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাতভর ভেকু দিয়ে এই মাটি কেটে ট্রাক, ট্রলি,ট্রাক্টরে করে ইটভাটাসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হচ্ছে। 

বাঘলবাড়ী গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে গোলজার হোসেন এবং মনির তত্ত্বাবধানে ফসলে জমির টপসয়েল কেটে বিক্রি করা হলেও কারো কোন কর্ণপাত নেই। রাতভর অবৈধ মাটি পরিবহন যানবাহনের বিকট শব্দে ও ধুলায় পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। 

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, স্থানীয় দলীয় নেতাদের ইন্ধনে গোলজার গং প্রশাসনসহ বিভিন্ন জায়গায় চুক্তিমাফিক বিকাশের মাধ্যমে ১ হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাঠিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। 

প্রায় দীর্ঘ সময় ধরে একই এলাকায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হলেও প্রশাসন অজ্ঞাত কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে। এতে জনমনে নানান প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। 

অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে  অভিযুক্ত গোলজারকে একাধিকবার ফোন দিলেও তার মোবাইল ফোনটি রিসিভ হয়নি।

এ ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী জানান, খুব শীঘ্রই ফসলি জমি কেটে বিক্রির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে উপজেলার ছাইকোলা, নিমাইচরা, হরিপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ভেকু দিয়ে অবাধে ফসলী জমির টপসয়েল বিক্রি চলছেই। 

একই ব্যক্তির এস্কেভেটর ব্যবহার করে একাধিক জায়গায় টপসয়েল কেটে বিক্রির অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি প্রশাসন। 

এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চাটমোহরের প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষি জমি নষ্ট করে মাটি বিক্রির মহা উৎসব শুরু হয়েছে।