https://bangla-times.com/
ঢাকাশনিবার , ১৬ মার্চ ২০২৪

হয়রানির প্রতিকার চেয়েও বহিষ্কারের ভয়!

কুমিল্লা প্রতিনিধি
মার্চ ১৬, ২০২৪ ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ । ৯৩ জন
Link Copied!

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকা। শুক্রবার (১৫ মার্চ) রাতে কুমিল্লার বাগিচাগাওয়ের বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় ।

আত্মহত্যার আগে ফাইরুজ তার এক সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ এনে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন ।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে অবন্তিকা উল্লেখ করেন, সহপাঠী আম্মান তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিতেন । বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি । উল্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম তাকে বহিষ্কারের ভয় দেখান ।

এদিকে, ফাইরুজের মা তাহমিনা শবনমের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে বার বার জানিয়েও হয়রানির বিচার পাননি তারা । এ কারণেই তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন ।

কুমিল্লার নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন অবন্তিকা। তার বাবা জামাল উদ্দিন কুমিল্লা সরকারি কলেজের শিক্ষক ছিলেন ।

অবন্তিকার মা তাহমিনা শবনম অভিযোগ করে বলেন, মানসিকভাবে হয়রানি করে অবন্তিকাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করা হয়েছে । বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বার বার জানিয়েও কোনো ফল পাননি তারা ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ও সহপাঠী আম্মান সিদ্দিকিকে মেয়ের আত্মহননের জন্য দায়ী করে তাহমিনা শবনম বলেন, অবন্তিকার বাবা জামাল উদ্দিন জীবিত থাকা অবস্থায় মেয়ের বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়েও কোনো ফল পাননি । জামাল উদ্দিনের মৃত্যুর এক বছরের বেশি সময় পর সেই একই কারণে মেয়ে অবন্তিকা আত্মহত্যা করেছে ।

অবন্তিকার ভাই জারিফ যাওয়াদ অপূর্ব বলেন, অবন্তিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়রানির বিষয়টি নিয়ে মানসিকভাবে অস্বস্তিতে কাটাতো । এসব বিষয়ে বাবা ও মাকে সে সবসময়ই জানিয়েছে । কিন্তু সে আত্মহত্যা করবে বিষয়টি একেবারেই ভাবা যায়নি ।

অবন্তিকার কুমিল্লার বন্ধুরা জানান, মেধাবী অবন্তিকা মানসিকভাবে শক্ত ছিলেন । তাঁর এই আত্মহত্যার ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত । দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তিও দাবি করেন তারা ।

অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবিতে উত্তাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় । তাঁর সহপাঠীরাও দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন ।

এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ও সহপাঠী আম্মান সিদ্দিকিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে ।