https://bangla-times.com/
ঢাকারবিবার , ২ জুন ২০২৪
  • অন্যান্য

সেতুর নিচে ব্রীফকেসে চার টুকরা মরদেহ, পাটক্ষেতে মাথা, জানা গেলো পরিচয়

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
জুন ২, ২০২৪ ৭:৫৯ অপরাহ্ণ । ৫৪ জন
Link Copied!

যখন দেশে বিদেশে ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপির খন্ডিত মরদেহ লাগেজে করে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ফেলার খবর ছড়িয়ে পরছে। ঠিক এমন সময় ময়মনসিংহে লাগেজ ভর্তি মরদেহ উদ্ধার করলো পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরে জানা গেছে প্রেমের বলি হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রে মরদেহ এটি।

আরও পড়ুন : শপিং করে দেয়ার কথা বলে হোটেলে নিয়ে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা

নিহত ওই ছাত্রের নাম-সৌরভ। সে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভর্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার এন্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি)র এক শিক্ষার্থী । চাচাতো বোনকে ভালবেসে নৃসংশভাবে প্রাণ দিতে হলো।

রোববার (২ জুন) তার চার খন্ডিত মরদেহে উদ্ধার হয় ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সদর উপজেলার মনতলায় সুতিয়া নদীর সেতুর নিচে। কালো রঙের লাগেজে মরদেহের দু’পা ও পলিথিনে মোড়ানো এবং খন্ডিত মাথাটি ছিল আলাদা।

রোববার (২ জুন) সকাল ১০টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। লাগেজ থেকে মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পরলে হাজারো মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। নিহত সৌরভের বাবার নাম ইউসুব আলী। তিনি ডাক বিভাগের একজন কর্মচারী।

জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা জানান, নিহত সৌরভের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাক গ্রামে। প্রেমঘটিত কারণেই সৌরভ খুন হয়েছে। সৌরভ তার চাচাতো বোন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার কন্যাকে ভালোবাসতেন। কিন্তু তাদের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে মেয়েকে কানাডায় পাঠিয়ে দেয়। এদিকে সৌরভকে খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে সৌরভের বোন ও মামা এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।

পুলিশ জানায়, রোবরার (২ জুন) সদর উপজেলার মনতলা সেতুর নিচে সুতিয়া নদীতে একটি কালো রঙের ট্রলি লাগেজ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। এরপর তারা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে কচুরিপনার মধ্য থেকে লাগেজটি নদীর তীরে তুলে আনে। পরে লাগেজ খুলতেই দেখা যায় এক পুরুষের দেহ, দুই পা ও দুই হাত, আর দেহ থেকে বিছিন্ন মাথাটি পলিথিনে মোড়ানো ছিলো। সাথে পাওয়া যায় চাঁদর, দুটি বালিশ ও একটি পর্দা।

ময়মনসিংহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিনুল ইসলাম ফকির জানান, খন্ডিত মরদেহের হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ, ডিবি, পিবিআই ও সিআইডি যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। মরদেহের আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ করা হয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে, একটি পরিকল্পিত হত্যা। তাকে অন্য কোনো কোথাও হত্যার পর মরদেহটি সুতিয়া নদীতে ফেলে দেয়। শনিবার (১ জুন) রাতে কোনো এক সময় এই ঘটনা ঘটতে পারে।

তিনি আরও বলেন, যুবকটিকে হত্যার পর লাগেজে মাথা ছাড়া মরদেহ ভরে ব্রিজের ওপর থেকে পানিতে ফেলা হয়। আর পলিথিনে মুড়িয়ে মাথা পাট ক্ষেতের কাছে ফেলে যায় ঘাতকরা। মরদেহের দেখে মনে হচ্ছে মেশিন দিয়ে গলা ও পা কাটা হয়েছে। পরিচয় যাতে শনাক্ত না করা যায়, সেজন্য আলামতও নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার ওসি ফারুক হোসেন এ বিষয়ে জানিয়েছেন, রোববার (২ জুন) সকালে স্থানীয়রা সেতুর নিচে সুতিয়া নদীতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি লাগেজের ভেতর থেকে মাথা ছাড়া শরীরের চার খণ্ড উদ্ধার করে। কিছুদুরে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মাথাটি পাওয়া যায়।

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন এর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খণ্ডিত মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহের বয়স আনুমানিক (২২)বছর হবে।