https://bangla-times.com/
ঢাকাশনিবার , ১৮ মে ২০২৪
  • অন্যান্য

সিন্ডিকেটের কবলে মসলার বাজার

চট্টগ্রাম ব্যুরো
মে ১৮, ২০২৪ ৮:২১ অপরাহ্ণ । ৫৮ জন
Link Copied!

অস্থির হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে মসলার বাজার। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বেড়েই চলছে এলাচ,জিরা, দারুচিনি, গোলমরিচ, লবঙ্গসহ প্রায় সব রকমের মসলার দাম। ব্যবসায়ীদের দাবি, ডলারের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ ঘাটতির ফলে মসলার দাম বাড়ছে। তবে মসলার বাজার সিন্ডিকেটের কবলে।

এই সিন্ডিকেটই গত এক সপ্তাহে জিরা, এলাচ ও লবঙ্গের মতো মসলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। অথচ এসব মসলা আমদানি হয়েছে অনেক আগে। দীর্ঘদিন ধরেই চাল-ডাল-আটাসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা চলছে। এবার সেই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে জিরা, এলাচ দানা,লবঙ্গ, হলুদ,মরিচ, ধনিয়াসহ বিভিন্ন প্রকারের মসলা।

এদিকে, শনিবার (১৮ মে) চট্টগ্রামে মসলার বাজারে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। অভিযানের সময় বেশি দামে মসলা বিক্রসহ নানা অপরাধে ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে ২৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন সদর সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান মাহমুদ ডালিম।

এদিকে, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলেন, ডলারের দাম বাড়ায় মসলার দাম অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে একটি বেশি। মসলাজাতীয় পণ্যের দাম দুই কারণে বাড়ছে। এর প্রথমত হলো, দেশে ডলার সংকট চলছে। ডলারের অভাবে এলসি করা যাচ্ছে না। দ্বিতীয়ত হলো- আন্তর্জাতিক বাজারেও মসলার দাম বেড়েছে। আর এর প্রভাব দেশের বাজারে পড়ছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এলাচের দাম।

শনিবার (১৮ মে) খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ভালো মানের এলাচ কেজি প্রতি বিক্রি হয় চার হাজার থেকে চার হাজার ১০০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে এই এলাচের দাম ছিলো ৩ হাজার ৮০০ টাকা। ছোট দানার প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিলো ৩ হাজার ৫৫০ টাকা।

অন্যদিকে, গত সপ্তাহের ১২০০ টাকার লবঙ্গ এখন বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৪০০ টাকায়। গত সপ্তাহে জিরা প্রতি কেজি বিক্রি হয় মানভেদে ৫৫৭ টাকায়। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকায়। আর গোলমরিচ দাম প্রতি কেজি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয় গত সপ্তাহে। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি দারুচিনি ৪০০ টাকা, কালিজিরা ৩২০ টাকা, হলুদ ৩১০ টাকা, কিশমিশ ৮০০ টাকা, সরিষা ৩০০ টাকা, তেজপাতা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্যমতে, বছরের প্রথম ৫ মাসে পর্যাপ্ত মসলাজাতীয় পণ্য আমদানি হয়েছে। সুতরাং সরবরাহ ঘাটতির কোনো কারণ নেই। অন্যদিকে, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নেতারা বলছেন, বাড়তি চাহিদাকে পূজি করে কয়েক গুণ বেশি মুনাফা নিতেই অসাধু ব্যবসায়ীরা মসলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম পাঁচমাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে টন জিরা ৪১ হাজার ৩৪৬, ২৪ হাজার ২৬৭ টন এলাচ, ৩২ হাজার ১৭০ টন লবঙ্গ এবং ২৯ হাজার ৬৪৬ টন গোল মরিচ আমদানি করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী সব সময়ই সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। এখনো কোরবানির ঈদের এক মাস বাকি। এরমধ্যে তারা মসলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, প্রতি বছরই কোরবানি ঈদকে টার্গেট করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা মসলা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এবারো ওই পথে হাঁটছে তারা।