https://bangla-times.com/
ঢাকামঙ্গলবার , ৫ মার্চ ২০২৪
  • অন্যান্য

ভুল আদালতে বিচার/ শিশুর বিরুদ্ধে করা মামলা অধিকতর তদন্তের নির্দেশ

আদালত প্রতিবেদক
মার্চ ৫, ২০২৪ ৫:৫২ অপরাহ্ণ । ২৯৫ জন
Link Copied!

শিশু হলেও প্রাপ্ত বয়স্ক হিসেবে এক শিশুর বিচার চলছিল ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে। অবশেষে ওই শিশুর আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট ব্যারিস্টার সোলায়মান তুষারের আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি অধিকতর তদন্তপূর্বক শিশু অভিযুক্ত সংক্রান্তে পৃথক দোষীপত্র দাখিলের আদেশ দিয়েছেন ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক।

মামলাটির নথি পর্যালোচনা করে জানা যায়, পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও ফেইসবুকে বিক্রির অভিযোগে ২০১৫ সালের ১৫ই জুলাই এক শিশুসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ২০১৫ সালের ১৬ই জুলাই রাজধানীর ডেমরা থানায় ২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (সংশোধন) আইনের ৫৭, ও ৬৬ ধারায় ০৮ জনের নামে মামলা করা হয়। অথচ মামলায় এজাহাওে ওই শিশুর বয়স ১৯ বছর হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ২০১৬ সালের ৫ই মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্র জমাদেন। সেখানেও তার বয়স ১৯ বছর উল্লেখ করা হয়। সে অনুযায়ী ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে অন্য আসামীদের সাথে তার বিচার শুরু হয়। ২০২৩ সালে ওই শিশু তার পূর্বের আইনজীবী বদল করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সোলায়মান তুষারকে নিয়োগ দেন। ব্যারিস্টার সোলায়মান তুষার ওই আসামীর কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখতে পান অপরাধ সংঘটনের সময় ওই আসামী একজন শিশু ছিলেন।

তিনি আরও জানতে পারেন, গোয়েন্দা পুলিশ ওই আসামীকে আদালতে উপস্থাপনের আগে ১২ দিন অজ্ঞাতস্থানে রেখে তার উপর অমানসিক নির্যাতন করে। আদালতে উপস্থাপনের পর দুই দফায় রিমান্ড নিয়েও নির্যাতন করা হয়। তার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়। বারবার নির্যাতন ও রিমান্ডের ফলে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন কিছুটা। তারপক্ষে আদালতে জামিন চাওয়া হলেও তিনি জামিন পাননি। ব্যারিস্টার সোলায়মান তুষার আসামীর জন্ম নিবন্ধন, এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট অনুযায়ী দেখতে পান ওই শিশুর জন্ম ১৯৯৭ সালের ২৬ শে জুলাই। সে অনুযায়ী গ্রেফতারের সময় তার বয়স ছিল ১৭ বছর ১১ মাস ২০ দিন।

সেমতে ২০১৩ সালের শিশু আইন-২০১৩ এর ৪ ধারানুযায়ী আসামী একজন একজন শিশু ছিল। বিস্তারিত জানিয়ে ২০২৪ সালের ২৫ শে জানুয়ারি ব্যারিস্টার সোলায়মান তুষার কাগজপত্রসহ ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন মামলাটি সংশ্লিষ্ট শিশু আদালতে স্থানান্তারের। তিনি আবেদনে বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ এর ১৮ (১) ধারায় বলা হয়েছে ” কোন ব্যক্তির বয়স, জন্ম ও মৃত্যু বৃত্তান্ত প্রমাণের ক্ষেত্রে কোন অফিস বা আদালতে বা স্কুল-কলেজে বা সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে এই আইনের অধীন প্রদত্ত জন্ম বা মৃত্যু সনদ সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হইবে”।

যেহেতু শিশু আইন -২০১৩ এর ২০ ধারানুযায়ী অপরাধ সংঘটনের সময় দরখাস্তকারী আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুর বয়স ১৭ বছর ১১ মাস ১৯ দিন , সেহেতু শিশু আইন -২০১৩ এর ১৭ (১) ধারানুযায়ী শিশুর বিচার শিশু আদালতেই হতে হইবে। শিশু আইন -২০১৩ এর ২০ ধারায় বলা হয়েছে ” আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইন, আদালতের রায় বা আদেশে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, অপরাধ সংঘটনের তারিখই হইবে শিশুর বয়স নির্ধারণের জন্য প্রাসঙ্গিক তারিখ”। তিনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশ ও ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায় উল্লেখ করেন। বিশেষ করে আপিল বিভাগের রায় মেহেদী হাসান বনাম রাষ্ট্র [৬৬ ডিএলআর (এডি) ও রকিব বনাম রাষ্ট্র [বিবিধ মামলা নং-৩৭৭৯৯(২০১৭) রায়ের রেফারেন্স দেন।

তিনি আদালতকে শিশু আইন -২০১৩ এর ১৭ (১) ধারা উল্লেখ করে বলেন, ” আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু বা আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু কোন মামলায় জড়িত থাকিলে, যেকোন আইনের অধীনেই হউক না কেন, উক্ত মামলা বিচারের এখতিয়ার কেবল শিশু-আদালতের থাকিবে”। সেহেতু আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুর বিচারের এখতিয়ার বিজ্ঞ সাইবার ট্রাইব্যুনালের, ঢাকা এর নেই। সেহেতু ন্যায় বিচারের স্বার্থে আইনের সহিত সংঘর্ষে জড়িত শিশুকে বিচারের জন্য শিশু আদালতে প্রেরণ অত্যন্ত আবশ্যক। সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ.এম. জুলফিকার হায়াত ওই শিশুর সব কাগজপত্র পর্যালোচনা ও আইনজীবীর বক্তব্য পর্যালোচনা করে ওই আসামীকে শিশু অভিযুক্ত সংক্রান্তে পৃথক দোষীপত্র এবং প্রাপ্ত বয়সক আসামী সংক্রান্তে পৃথক অভিযোগপত্র দাখিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।


একইসঙ্গে ওই মামলার নথি বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। সম্প্রতি আদালতের আদেশের নকল হাতে পেয়েছেন আইনজীবী।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সোলায়মান তুষার বলেন, ভুল আদালতে বিচারের কারণে ওই শিশুকে অনেক খেসারত দিতে হয়েছে। একসময় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (সংশোধন) আইনের ৫৭ ধারা ভয়ঙ্কর ছিল। সহজে জামিন পাওয়া যেতোনা। আমার মক্কেলের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। ঘটনার প্রায় ০৯ বছর পর আদালতকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। আদালতে আমাদের আইনী যুক্তি ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এখন আইন অনুযায়ী ওই শিশুর বিচার সংশ্লিষ্ট শিশু আদালতে হবে।