https://bangla-times.com/
ঢাকারবিবার , ২৮ এপ্রিল ২০২৪
  • অন্যান্য

বেসামাল ময়লার গাড়ি , নিয়ন্ত্রণহীনতায় ঘটছে দুর্ঘটনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ২৮, ২০২৪ ৪:৩১ অপরাহ্ণ । ২৬ জন
Link Copied!

রাজধানীর মদিনাবাগ বাজার এলাকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বেপরোয়া ময়লার গাড়ি চাপায় বৃহস্পতিবার (২৬ এপ্রিল) মাহিন আহমেদ (১৩) মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত ৩ বছরে ঢাকায় দুই সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ির চাপায় ১৩ জনেরমৃত্যু হয়েছে। এর মূল কারণ সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ির চালকরা বেপরোয়া ।

সড়কে চলা মানুষ ও যানবাহনকে কিছুই মনে করেন না এসব গাড়ির চালকরা । ধার ধারেন না কোনো নিয়মকানুনের। এমনকি মানেন না ট্রাফিক আইনও। ইচ্ছামতো চালান গাড়ি । চালকদের বেপরোয়া ও উগ্রতার কারণে সংস্থার গাড়িগুলো প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে । এর ফলে মারা যাচ্ছে নিরীহ মানুষগুলো । বিভিন্ন সময় মেয়র দক্ষ চালক নিয়োগে আশ্বাস দিলেও এর সমাধান হয়নি ।

পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, বিশেষজ্ঞ ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের মতে, এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী মূলত সিটি করপোরেশনের বর্জ্য পরিবহন ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলা । অতীতে একাধিক দুর্ঘটনার তদন্তে গাড়িচালকদের গাফিলতি পাওয়া গেছে । ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও সংস্থাটির পরিবহন বিভাগের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের চিত্র উঠে আসে । একই সাথে সরকারি সংস্থার গাড়ি হওয়ায় ট্রাফিক পুলিশও তাদের কিছু বলছে না । ট্রাফিক আইন অমান্য করলেও তাদের কোনো শাস্তি বা মামলা হচ্ছে না । প্রায়ই ময়লার গাড়িগুলো উল্টোপথে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করলেও ট্রাফিক পুলিশ আটকায় না । সিটি করপোরেশনের গাড়িচালকদের নিজেদের অনুকূলে বরাদ্দ থাকা গাড়ি ভাড়া করা লোকদের দিয়ে চালানোর বিস্তর অভিযোগ রয়েছে ।

এ প্রসঙ্গে পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ট্রাফিক পুলিশ সাধারণ নাগরিকের গাড়ি সড়কে দাঁড় করিয়ে কাগজপত্র দেখে, ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করে, অপরাধ করলে মামলা দেয় । কিন্তু সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িগুলো কখনো চেক করে না । সরকারি সংস্থার গাড়ি হওয়ায় ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না । এ ছাড়া করপোরেশনের দক্ষ গাড়িচালক থাকে না । মশক কর্মী, হেলপার ও বহিরাগত কর্মী দিয়ে গাড়ি চালাতে দেখা যায় । সিটি করপোরেশনও এসব চালককে মনিটরিং করে না । এ অনিয়ম বন্ধ করতে হবে । সবার জন্য সমান নিয়ম থাকতে হবে । তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা গেলে বেপরোয়া গতি, আচরণ অনেকটাই কমে আসবে । একই সাথে সিটি করপোরেশনের মনিটরিং সিস্টেমে পরিবর্তন আনতে হবে । গাড়ির ভিতর ড্যাশ ক্যামেরা ও স্পিড ক্যামেরা বসিয়ে মনিটরিং করলে হয়েতো দুর্ঘটনা কমানো যেত ।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, নির্ধারিত গাড়িচালক গাড়ি না চালিয়ে অন্যকে দিয়ে ভাড়া খাটিয়ে গাড়িটি চালানো হয়েছে । এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবে বরদাশত করা হবে না । এ ঘটনায় কঠোরতর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে । এ রকম কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কঠোর ব্যবস্থা নেবে । এ ধরনের ঘটনায় আগেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে । এমনকি জড়িতদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে ।

এদিকে, গত তিন বছরে ১৩ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার মতিঝিল সরকারি আইডিয়াল স্কুলের সপ্তম শ্রেণির এক মারা যায়। তার নাম-ছাত্র মাহিন আহমেদ( ১৩)। এ নিয়ে গত তিন বছরে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ির চাপায় ১৩ জনের মৃত্যু হলো । এরমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গাড়িচাপায় ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর গুলিস্তানে মারা যায় নটর ডেম কলেজের এক শিক্ষার্থী। তার নাম-নাঈম হাসান । এর পরদিন রাজধানীর পান্থপথে সংবাদকর্মী আহসান কবির খান প্রাণ হারান ।

২০২৩ সালের ৬ মার্চ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের( ডিএনসিসি) ময়লাবাহী গাড়িচাপায় এর কাপড় ব্যবসায়ী মারা যান। নিহতের নাম-আবু তৈয়ব( ২৬)। ২০২২ সালে ময়লার গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান ৪ জন। একই বছরের ২ এপ্রিল খিলগাঁওয়ে ডিএসসিসির ময়লার গাড়ির ধাক্কায় এক নারীর মৃত্যুহয়। মৃত ওই নারীর নাম-নাসরিন খানম। এরপর ২৩ জানুয়ারি মহাখালীর উড়ালসড়কের কাছে ময়লার গাড়ির ধাক্কায় ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মীর মৃত্য হয়। তার নাম-শিখা রানী ঘরামি।