ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বর্ষায় সর্বহারা তিস্তা পাড়ের মানুষ

নীলফামারী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৬:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুন ২০২৪ ২৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তিস্তা আর্শিবাদের এক জলধারা।কিন্তু বিপরীত রুপ ধরা পড়ে শুস্ক ও বর্ষায়। শুক মৌসুমে এক ফোঁটা পানির জন্য হাহাকার তিস্তা সুফলভোগী কৃষকরা। তিস্তার বুক জুড়ে উড়ে ধু-ধু বালু।

অপরদিকে , বর্ষা মৌমুমের উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ী ঢলের পানির উত্তাল স্রোতের করাল গ্রাসে সর্বস্ব হারায় তিস্তা পাড়ের বাসিন্দারা। আর নদীর গতিপথ পরিবর্তণসহ প্রতিবছর হাজারো কৃষকের আবাদী জমি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পাশপাশি ভাঙ্গনের গল্পতো রয়েছে।

নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি গেল ক’দিন ধরে কখনো বিপদসীমার উপরে আবার কখনো বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।তিস্তায় পানি যখন বাড়ছে তখন তিস্তা রাক্ষুসী রুপ ধারণ করে তিস্তা পাড়ের মানুষের মাথা গোজার শেষ আশ্রয়টুকু কেড়ে নেয় নদী গর্ভে।

অপরদিকে পানি কমার সাথে-সাথে শুরু হয় কৃষকদের জীবন-জিবিকার সংগ্রামের শত-শত বিঘা আবাদী জমি বসতভিটা সহায়-সম্বল গ্রাস করে অবলিরায়। প্রতিবছর তিস্তার খেয়ালীপনার শিকার ডিমলা উপজেলার খড়িবাড়ী, খগাখড়িবাড়ী,টেপাখড়িবাড়ী চাপানী, ঝুনাগাছিচাপানী ও জলঢাকা উপজেলার গুলমুন্ডা ,ডাউয়াবাড়ী শোলবাড়ী কৈইমারী ইউনিয়নের হাজার-হাজার পরিবার।আর শুস্ক মওসুমে ডিসেম্বরে ভারত সরকার তিস্তা নদীর উপর নির্মিত গজলডোবা বাঁধের সব-ক’টি জলকাপাট বন্ধ করে দিয়ে একতরফা পানি প্রত্যাহার করে নিজ দেশের সেচ-নির্ভর ফসল উৎপাদন করে। বাংলাদেশ অংশের তিস্তা নদী পানির অভাবে তিস্তার বুক ধু-ধু করে বালু চরে।এতে করে তিস্তা পাড়ের মানুষজন সেচ-নির্ভর ফসল উৎপাদনে বিপাকে পড়ে। এসব ফসল উৎপাদন করে জ্বালানি সেচ-পাম্প ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করে ঘরে তুলে।

বিশেষ করে বেকায়দায় পড়ে জেলে সম্প্রদায় পরিবার গুলোর জীবন-জিবিকায় নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।এসব পরিবার দিনাতিপাত করে অনাহারে-অধাহারে। বর্ষা মওসুমে তিস্তা পাড়ের মানুষ অতঙ্কে থাকে দিনে-রাতে। কখন:তিস্তার কড়াল গ্রাসে নিমিশে পথে বসে। তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ হচ্ছে ভারতের সিকিম -পশ্চিমবঙ্গ পেরিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার পুর্ব-ছাতনাই কালিগঞ্জ জিরো পয়েন্টে প্রবেশ করে অববাহিকা তিস্তা। বাংরাদেশ অংশে তিস্তা নদী প্রবাহিত হচ্ছে ৩১৫ কিলোমিটার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বর্ষায় সর্বহারা তিস্তা পাড়ের মানুষ

আপডেট সময় : ০৫:৩৬:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুন ২০২৪

তিস্তা আর্শিবাদের এক জলধারা।কিন্তু বিপরীত রুপ ধরা পড়ে শুস্ক ও বর্ষায়। শুক মৌসুমে এক ফোঁটা পানির জন্য হাহাকার তিস্তা সুফলভোগী কৃষকরা। তিস্তার বুক জুড়ে উড়ে ধু-ধু বালু।

অপরদিকে , বর্ষা মৌমুমের উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ী ঢলের পানির উত্তাল স্রোতের করাল গ্রাসে সর্বস্ব হারায় তিস্তা পাড়ের বাসিন্দারা। আর নদীর গতিপথ পরিবর্তণসহ প্রতিবছর হাজারো কৃষকের আবাদী জমি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পাশপাশি ভাঙ্গনের গল্পতো রয়েছে।

নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি গেল ক’দিন ধরে কখনো বিপদসীমার উপরে আবার কখনো বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।তিস্তায় পানি যখন বাড়ছে তখন তিস্তা রাক্ষুসী রুপ ধারণ করে তিস্তা পাড়ের মানুষের মাথা গোজার শেষ আশ্রয়টুকু কেড়ে নেয় নদী গর্ভে।

অপরদিকে পানি কমার সাথে-সাথে শুরু হয় কৃষকদের জীবন-জিবিকার সংগ্রামের শত-শত বিঘা আবাদী জমি বসতভিটা সহায়-সম্বল গ্রাস করে অবলিরায়। প্রতিবছর তিস্তার খেয়ালীপনার শিকার ডিমলা উপজেলার খড়িবাড়ী, খগাখড়িবাড়ী,টেপাখড়িবাড়ী চাপানী, ঝুনাগাছিচাপানী ও জলঢাকা উপজেলার গুলমুন্ডা ,ডাউয়াবাড়ী শোলবাড়ী কৈইমারী ইউনিয়নের হাজার-হাজার পরিবার।আর শুস্ক মওসুমে ডিসেম্বরে ভারত সরকার তিস্তা নদীর উপর নির্মিত গজলডোবা বাঁধের সব-ক’টি জলকাপাট বন্ধ করে দিয়ে একতরফা পানি প্রত্যাহার করে নিজ দেশের সেচ-নির্ভর ফসল উৎপাদন করে। বাংলাদেশ অংশের তিস্তা নদী পানির অভাবে তিস্তার বুক ধু-ধু করে বালু চরে।এতে করে তিস্তা পাড়ের মানুষজন সেচ-নির্ভর ফসল উৎপাদনে বিপাকে পড়ে। এসব ফসল উৎপাদন করে জ্বালানি সেচ-পাম্প ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করে ঘরে তুলে।

বিশেষ করে বেকায়দায় পড়ে জেলে সম্প্রদায় পরিবার গুলোর জীবন-জিবিকায় নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।এসব পরিবার দিনাতিপাত করে অনাহারে-অধাহারে। বর্ষা মওসুমে তিস্তা পাড়ের মানুষ অতঙ্কে থাকে দিনে-রাতে। কখন:তিস্তার কড়াল গ্রাসে নিমিশে পথে বসে। তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ হচ্ছে ভারতের সিকিম -পশ্চিমবঙ্গ পেরিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার পুর্ব-ছাতনাই কালিগঞ্জ জিরো পয়েন্টে প্রবেশ করে অববাহিকা তিস্তা। বাংরাদেশ অংশে তিস্তা নদী প্রবাহিত হচ্ছে ৩১৫ কিলোমিটার।