https://bangla-times.com/
ঢাকাবুধবার , ২২ মে ২০২৪

এপ্রিলে সড়কে ঝরল ৭০৮ প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ২২, ২০২৪ ১:৩০ অপরাহ্ণ । ৪৬ জন
Link Copied!

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সারা রদেশে ৬৮৩ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭০৮ জন নিহত হয়েছে। আর এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৪২৬ জন। একই সময়ে রেলপথে ৪৪টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত হয়েছে। আর আহত হয়েছে ৩৬ জন।

এপ্রিলে নৌ পথে ছয়টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৭৩৩ টি দুর্ঘটনায় ৭৬৩ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ২৪৭২ জন।

এই সময়ে ৩০৫ টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন নিহত হয়েছে। এসব ঘটনায় ৩২৮ জন আহত হয়েছে। যা মোট দুর্ঘটনার ৪৪.৬৫ শতাংশ, নিহতের ৩৮.৭০ শতাংশ ও আহতের ২৪.৬৬ শতাংশ।

এপ্রিলে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে । এই বিভাগে ১৫৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭৯ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৩০৫ জন। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে বরিশাল বিভাগে। ৩৫ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩ জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হয়েছে।বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (২২ মে) সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সদস্যরা বহুল প্রচারিত ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌ পথের দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং এর পাশাপাশি জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) সড়ক দুঘটনায় আহত ১৩১৬ জনের মধ্যে যাচাই বাচাই করে ১০৯৬ জন আহত রোগীর তথ্য নিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ১০ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। ১৬৯ জন চালক। ৬৩ জন পথচারী। আর ৬ জন শিক্ষক, ৫৮ জন পরিবহন শ্রমিক, ৪৬ জন শিক্ষার্থী,তিন জন সাংবাদিক, ১১৯ জন নারী, ৬৭ জন শিশু, একজন আইনজীবী, দুই জন চিকিৎসক ,তিনজন প্রকৌশলী, এবং ৮ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে।

এরমধ্যে নিহত হয়েছে- একজন পুলিশ সদস্য, তিনজন সেনাবাহিনী সদস্য, দুই জন চিকিৎসক ,একজন সাংবাদিক, ১২৩ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৫৮ জন পথচারী, ৪৯ জন শিশু, ৯৩ জন নারী, ৩৬ জন শিক্ষার্থী, ছয় জন শিক্ষক, ৩৩ জন পরিবহন শ্রমিক, তিনজন প্রকৌশলী ও ৮ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

এই সময় সড়ক দুর্ঘটনায় সংগঠিত ৯৮৮ টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এতে দেখা যায়, ৩৪.৭১ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৩.১৫ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ইজিবাইক, ১৭.৬১ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ৫.৯৭ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, ১৫.৪৮ শতাংশ বাস,৬.৭৮ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৬.২৭ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৪৭.৪৩ শতাংশ গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ২৩.১৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ২৫.৩২ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, চাকায় ওড়না পেছিয়ে ০.২৯ শতাংশ,৩.৩৬ শতাংশ বিবিধ কারনে, এবং ০.৪৩ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই মাসে সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ১৪.৭৮ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ৩৫.২৮ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৪২.৪৫ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে।

এছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত দুর্ঘটনার ০.৪৩ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৬.৫৮ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ও ০.৪৩ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।