ঢাকা ১০:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগ নেতা মিন্টুর যতো নারী কেলেঙ্কারী

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৪৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০২৪ ১০৪৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু। এই নেতা গত তিন সপ্তাহ ধরে কারাগারে। এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকান্ডের নির্দেশ ও অর্থদাতা হিসেবে মিন্টুর বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ সংক্রান্ত একাধিক তথ্য-প্রমাণও মিলেছে।

এমপি হওয়ার খায়েশে মিন্টুর খুনের রাজনীতি প্রকাশ্যে আসার পর এবার আলোচনায় এসেছে তার অসংখ্য নারী কেলেঙ্কারী। এক জামায়াত নেতার মেয়ের সাথে তার অশ্লীল ফোনালাপ ও আপত্তিকর ছবি ভাইরাল হয়। পদ-পদবী, চাকরির দেয়ার কথা বলে বহু নারীর সর্বনাশ করেছেন মিন্টু। সুন্দরী নারীদের বিছনায় টানতে সাংস্কৃতিক সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতাও করছেন।

নিজ দলের নেত্রী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষিকা, কলেজছাত্রী, সাংস্কৃতিক কর্মী কেউই রক্ষা পাননি তার হাত থেকে। শুধু তাই নয় সরকারি চাকরিতে বদলির তদবির আসা নারীরাও সম্ভ্রম হারিয়েছেন তার কাছে। ভুক্তভোগী ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে ।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নে এক জামায়াত নেতার মেয়ের সাথে এক যুগ ধরে পরকীয়া ছিল মিন্টুর। ওই মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ে করলেও পরে তা অস্বীকার করেন মিন্টু। তাকে ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনে দেন মিন্টু। এই নারীর সাথে মিন্টুর আপত্তিকর ছবি ও ফোন রেকর্ড ফাঁস হয়েছে ।

ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক সংগঠন কথন সাংস্কৃতিক সংসদের (কসাস) প্রধান পৃষ্ঠপোষক মিন্টু। গত এক যুগে সংগঠনের অর্ধশতাধিক নারী সদস্যকে ভোগ করেছে সে। কসাসের প্রতিষ্ঠাতা সাকিব মোহাম্মদ আল হোসেন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রতাপ আদিত্য মিন্টুর নারী সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত। নারী সরবরাহের পুরষ্কার হিসেবে প্রতাপ আদিত্যকে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের চাকরি দিয়েছেন মিন্টু।

সাইদুল করিম মিন্টুর নারী সরবরাহকারী হিসেবে অংকুর নাট্য একাডেমির সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন জুলিয়াস ও বিহঙ্গ সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর আলম লিটনের তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা।

ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র থাকাকালে পৌর ভবনের তৃতীয় তলায় নারীদের সাথে সময় কাটাতে একটি কক্ষ দখলে নেন মিন্টু। সেই কক্ষে কারও প্রবেশাধিকার ছিল না। পাঁচ বছরের জন্য মেয়র নির্বাচিত হয়ে এগারো বছর মেয়র থাকাকালে কয়েকশ নারী ওই রুমে ধর্ষিত হয়েছেন।

মিন্টু হরিণাকুণ্ড উপজেলার জোড়াদাহ ইউনিয়নের ভায়না গ্রামের মৃত রুহুল কুদ্দুস ও আঙ্গুরা বেগমের সন্তান। ওই গ্রামেই ১৯৬৪ সালের ২ জুন তার জন্ম। মিন্টু ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর ক্যাসল ব্রিজ-সংলগ্ন ইন্দিরা সড়কের বিলাসবহুল বাড়িতে স্ত্রী আর্মিজা শিরিন আক্তার ও দুই পুত্র এবং এক পুত্রবধূকে নিয়ে বসবাস করেন।

স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগের বেশ কয়েক নেতার সঙ্গে মিন্টুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে একক আধিপত্য বিস্তার করছেন মিন্টু । জেলায় পদ বাণিজ্য করে বেশ দুর্নাম কুড়িয়েছেন। টাকার বিনিময়ে যে কাউকে পদ-পদবি দিতেন। পছন্দের ও নিজ বলয়ের ব্যক্তিরা প্রাধান্য পেতো । পরে তাদের কাজে লাগিয়ে ফায়দা নিতেন। এভাবে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক বাবুকে পদ দেন। বাবু তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

ঝিনাইদহে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগকে তিনি নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করেন। স্থানীয় পত্রিকা বীরজনতার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি মিন্টু । বর্তমানে মিন্টু ঝিনাইদহ চেম্বার অব কমার্স এবং দোকান মালিক সমিতির সভাপতিও। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ১৯৮৩ সালে জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৮৯ সালে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক নির্বাচিত হন। এরপর স্বেচ্ছাসেবক লীগে আসেন ।

ঝিনাইদহে কাঙ্ক্ষিত অবস্থান গড়তে না পেরে ঢাকায় গিয়ে রাজনীতি শুরু করেন। কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। এক পর্যায়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ পান। এরপর ২০১৫ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। মিন্টুর নামে বর্তমানে একাধিক মামলা রয়েছে।

১৯৯৮ সালে ছাত্রনেতা মোম হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামি ছিলেন। এ ছাড়া ২০১৪ সালে শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফফার হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি তিনি। গফফারের স্ত্রী বিভিন্ন সময় স্বামীর হত্যাকারী হিসেবে মিন্টুর নাম বলেছেন।

এছাড়া পৌর মেয়র থাকাকালে অন্য কর্মকর্তার সঙ্গে মশক নিধন, গাড়ি মেরামত, রাস্তা পরিষ্কারসহ বিভিন্ন প্রকল্পের বিলের চেকে মূল টাকার সঙ্গে অতিরিক্ত সংখ্যা বসিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ৩৮ চেকের মাধ্যমে প্রায় ৭৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে দুদকের মামলায় মিন্টুসহ চারজনকে আসামি করা হয় । ওই মামলা এখন তদন্ত চলছে ।

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে ২০০৯ সালে উপজেলা নির্বাচন করে জামায়াত প্রার্থীর কাছে হেরেছিলেন মিন্টু। তবে ২০১১ সালে তার ভাগ্য খুলে যায়। ওই বছর ঝিনাইদহের পৌর মেয়র নির্বাচিত হন। এর পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। সদর উপজেলার পাগলাকানাই ইউনিয়ন ও সুরাট ইউনিয়নের সঙ্গে পৌরসভার সীমানা জটিলতা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। ফলে প্রায় ১১ বছর পৌরসভার নির্বাচন বন্ধ থাকে। সেই সুবাদে টানা প্রায় ১২ বছর পৌর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন মিন্টু। এ সময় জেলার রাজনীতির শীর্ষ পদে বসার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে তার সম্পদ। ভারতে পাঁচ শতাধিক ট্রাক, মালয়েশিয়ায় গার্মেন্টস, দুবাইয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যুক্তরাষ্ট্রে একটি বাড়ি রয়েছে ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আওয়ামী লীগ নেতা মিন্টুর যতো নারী কেলেঙ্কারী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৪৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০২৪

ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু। এই নেতা গত তিন সপ্তাহ ধরে কারাগারে। এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকান্ডের নির্দেশ ও অর্থদাতা হিসেবে মিন্টুর বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ সংক্রান্ত একাধিক তথ্য-প্রমাণও মিলেছে।

এমপি হওয়ার খায়েশে মিন্টুর খুনের রাজনীতি প্রকাশ্যে আসার পর এবার আলোচনায় এসেছে তার অসংখ্য নারী কেলেঙ্কারী। এক জামায়াত নেতার মেয়ের সাথে তার অশ্লীল ফোনালাপ ও আপত্তিকর ছবি ভাইরাল হয়। পদ-পদবী, চাকরির দেয়ার কথা বলে বহু নারীর সর্বনাশ করেছেন মিন্টু। সুন্দরী নারীদের বিছনায় টানতে সাংস্কৃতিক সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতাও করছেন।

নিজ দলের নেত্রী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষিকা, কলেজছাত্রী, সাংস্কৃতিক কর্মী কেউই রক্ষা পাননি তার হাত থেকে। শুধু তাই নয় সরকারি চাকরিতে বদলির তদবির আসা নারীরাও সম্ভ্রম হারিয়েছেন তার কাছে। ভুক্তভোগী ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে ।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নে এক জামায়াত নেতার মেয়ের সাথে এক যুগ ধরে পরকীয়া ছিল মিন্টুর। ওই মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ে করলেও পরে তা অস্বীকার করেন মিন্টু। তাকে ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনে দেন মিন্টু। এই নারীর সাথে মিন্টুর আপত্তিকর ছবি ও ফোন রেকর্ড ফাঁস হয়েছে ।

ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক সংগঠন কথন সাংস্কৃতিক সংসদের (কসাস) প্রধান পৃষ্ঠপোষক মিন্টু। গত এক যুগে সংগঠনের অর্ধশতাধিক নারী সদস্যকে ভোগ করেছে সে। কসাসের প্রতিষ্ঠাতা সাকিব মোহাম্মদ আল হোসেন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রতাপ আদিত্য মিন্টুর নারী সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত। নারী সরবরাহের পুরষ্কার হিসেবে প্রতাপ আদিত্যকে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের চাকরি দিয়েছেন মিন্টু।

সাইদুল করিম মিন্টুর নারী সরবরাহকারী হিসেবে অংকুর নাট্য একাডেমির সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন জুলিয়াস ও বিহঙ্গ সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর আলম লিটনের তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা।

ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র থাকাকালে পৌর ভবনের তৃতীয় তলায় নারীদের সাথে সময় কাটাতে একটি কক্ষ দখলে নেন মিন্টু। সেই কক্ষে কারও প্রবেশাধিকার ছিল না। পাঁচ বছরের জন্য মেয়র নির্বাচিত হয়ে এগারো বছর মেয়র থাকাকালে কয়েকশ নারী ওই রুমে ধর্ষিত হয়েছেন।

মিন্টু হরিণাকুণ্ড উপজেলার জোড়াদাহ ইউনিয়নের ভায়না গ্রামের মৃত রুহুল কুদ্দুস ও আঙ্গুরা বেগমের সন্তান। ওই গ্রামেই ১৯৬৪ সালের ২ জুন তার জন্ম। মিন্টু ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর ক্যাসল ব্রিজ-সংলগ্ন ইন্দিরা সড়কের বিলাসবহুল বাড়িতে স্ত্রী আর্মিজা শিরিন আক্তার ও দুই পুত্র এবং এক পুত্রবধূকে নিয়ে বসবাস করেন।

স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগের বেশ কয়েক নেতার সঙ্গে মিন্টুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে একক আধিপত্য বিস্তার করছেন মিন্টু । জেলায় পদ বাণিজ্য করে বেশ দুর্নাম কুড়িয়েছেন। টাকার বিনিময়ে যে কাউকে পদ-পদবি দিতেন। পছন্দের ও নিজ বলয়ের ব্যক্তিরা প্রাধান্য পেতো । পরে তাদের কাজে লাগিয়ে ফায়দা নিতেন। এভাবে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক বাবুকে পদ দেন। বাবু তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

ঝিনাইদহে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগকে তিনি নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করেন। স্থানীয় পত্রিকা বীরজনতার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি মিন্টু । বর্তমানে মিন্টু ঝিনাইদহ চেম্বার অব কমার্স এবং দোকান মালিক সমিতির সভাপতিও। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ১৯৮৩ সালে জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৮৯ সালে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক নির্বাচিত হন। এরপর স্বেচ্ছাসেবক লীগে আসেন ।

ঝিনাইদহে কাঙ্ক্ষিত অবস্থান গড়তে না পেরে ঢাকায় গিয়ে রাজনীতি শুরু করেন। কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। এক পর্যায়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ পান। এরপর ২০১৫ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। মিন্টুর নামে বর্তমানে একাধিক মামলা রয়েছে।

১৯৯৮ সালে ছাত্রনেতা মোম হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামি ছিলেন। এ ছাড়া ২০১৪ সালে শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফফার হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি তিনি। গফফারের স্ত্রী বিভিন্ন সময় স্বামীর হত্যাকারী হিসেবে মিন্টুর নাম বলেছেন।

এছাড়া পৌর মেয়র থাকাকালে অন্য কর্মকর্তার সঙ্গে মশক নিধন, গাড়ি মেরামত, রাস্তা পরিষ্কারসহ বিভিন্ন প্রকল্পের বিলের চেকে মূল টাকার সঙ্গে অতিরিক্ত সংখ্যা বসিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ৩৮ চেকের মাধ্যমে প্রায় ৭৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে দুদকের মামলায় মিন্টুসহ চারজনকে আসামি করা হয় । ওই মামলা এখন তদন্ত চলছে ।

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে ২০০৯ সালে উপজেলা নির্বাচন করে জামায়াত প্রার্থীর কাছে হেরেছিলেন মিন্টু। তবে ২০১১ সালে তার ভাগ্য খুলে যায়। ওই বছর ঝিনাইদহের পৌর মেয়র নির্বাচিত হন। এর পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। সদর উপজেলার পাগলাকানাই ইউনিয়ন ও সুরাট ইউনিয়নের সঙ্গে পৌরসভার সীমানা জটিলতা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। ফলে প্রায় ১১ বছর পৌরসভার নির্বাচন বন্ধ থাকে। সেই সুবাদে টানা প্রায় ১২ বছর পৌর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন মিন্টু। এ সময় জেলার রাজনীতির শীর্ষ পদে বসার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে তার সম্পদ। ভারতে পাঁচ শতাধিক ট্রাক, মালয়েশিয়ায় গার্মেন্টস, দুবাইয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যুক্তরাষ্ট্রে একটি বাড়ি রয়েছে ।