ইসলামপুরে রেলযাত্রীদের চরম দুর্ভোগ, অতিরিক্ত ট্রেন সংযোজনের দাবি
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
জামালপুরের ইসলামপুরে রেলযাত্রীরা প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে ঈদের আগে ও পরে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। প্রতিদিন শত শত যাত্রী এ রুটে যাতায়াত করলেও ট্রেনের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় অধিকাংশকেই আসনবিহীন টিকিট নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, এ দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত আরও অন্তত দুটি আন্তঃনগর ট্রেন সংযোজন করা প্রয়োজন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই এ দাবি জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নিম্ন আয়ের যাত্রীদের অনেক সময় ৪-৫ গুণ বেশি দামে কালোবাজারিদের কাছ থেকে টিকিট কিনতে হচ্ছে।
এদিকে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও সন্তোষজনক নয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে চার লেন সড়ক চালু হলেও ইসলামপুর অঞ্চলের সড়ক এখনো সরু ও আঁকাবাঁকা। ফলে বাধ্য হয়ে রেলপথকেই প্রধান ভরসা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন মানুষ।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটে বর্তমানে তিস্তা এক্সপ্রেস, ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস এবং দুটি কমিউটার ট্রেন চলাচল করছে। তবে যাত্রী চাহিদার তুলনায় এসব ট্রেন অপ্রতুল। প্রতিদিন আসনের তুলনায় দ্বিগুণ টিকিট বিক্রি হলেও সেবার মানে উন্নতি হয়নি।
ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ২১২ কিলোমিটার হলেও ট্রেনের গড় গতি কম থাকায় সময় লাগে প্রায় ৭ ঘণ্টা। অথচ ১৯৮৫ সালে আন্তঃনগর ট্রেন চালুর সময় এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগত মাত্র ৪ ঘণ্টা। রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, দুর্বল লাইনের কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রেন ধীরগতিতে চালানো হয়। তবে ২০১৪ সালে ময়মনসিংহ থেকে দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত নতুন লাইন নির্মাণের পরও কেন এই সমস্যা রয়ে গেছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেনের কোচগুলোতেও রয়েছে নানা সমস্যা। অনেক কোচের টয়লেট দীর্ঘদিন ধরে অকেজো, পর্যাপ্ত আলো নেই, কমিউটার ট্রেনে পানির সংকট। এছাড়া হকার, ভিক্ষুক ও হিজড়াদের উৎপাতও যাত্রীদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ট্রেনে পচা ও বাসি খাবার বিক্রি হচ্ছে দেদারসে। একই সঙ্গে অসাধু চক্রের মাধ্যমে টিকিটবিহীন যাত্রীদের সিট দেওয়ার নামে চলছে অবৈধ বাণিজ্য। ট্রেনের ছাদে যাত্রা করতে গিয়ে প্রতিবছরই দুর্ঘটনা ও ডাকাতির শিকার হয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
যাত্রীরা আরও জানান, কমলাপুর থেকে ট্রেন ছাড়ার আগে ও পরে ছিনতাইকারী ও অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্যে অনেকেই সর্বস্ব হারাচ্ছেন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা মিলছে না বলে অভিযোগ তাদের।
ইসলামপুর বাজার স্টেশন মাস্টার শাহিন মিয়া বলেন, বর্তমানে এ রুটে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও কমিউটার ট্রেন চলাচল করছে। যাত্রীসংখ্যার তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়। নতুন দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হলে যেমন যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
স্থানীয় যাত্রীদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে রেলসেবার মান উন্নয়ন ও অতিরিক্ত ট্রেন সংযোজনের মাধ্যমে এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হবে।





















